আজ: রবিবার | ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি | সকাল ৮:০৩

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের লোকসানি শাখা কমাতে কঠোর নির্দেশ

ডান্ডিবার্তা | ০৯ অক্টোবর, ২০২০ | ৮:১৫

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনা পিছু ছাড়ছে না সরকারি ব্যাংকগুলোর। ব্যাংকের শাখাগুলো থেকে সেই আগের মতোই এখনো যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ দিয়ে যাচ্ছে। ফলে আশ্রয় নিতে হচ্ছে জাল-জালিয়াতির।

এজন্য সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়ছে। অন্যদিকে লোকসানী শাখা কমানো যাচ্ছে না। এতে রাষ্ট্র মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী এই চার ব্যাংকের নাজুক অবস্থা কাটছে না।

বছরের পর বছর লোকসানের বোঝা টানতে থাকা এ শাখাগুলো কমানোর কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ, মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি কমাতেও নজর দেওয়ার কথা বলেছে ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক এ সংস্থা। আর চলমান ইস্যু হিসেবে সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলো যথা নিয়মে এবং দ্রুততার সঙ্গে শতভাগ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রাষ্ট্র মালিকানার এ চার ব্যাংকের বাৎসরিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরকালে এসব নির্দেশ দেন গভর্নর ফজলে কবির।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান ও আহমেদ জামাল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধান, রূপালী ব্যাংকের এমডি ওবায়দুল্লাহ আল মাসুদ, জনতা ব্যাংকের এমডি আব্দুছ ছালাম আজাদ এবং অগ্রণী ব্যাংকের এমডি শামস-উল ইসলামসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাসুদ বিশ্বাস, হুমায়ুন কবির, আবু ফরাহ মো. নাসের, লিলা রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি এ চার ব্যাংকে লোকসানি শাখার সংখ্যা ২২৩টি। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ৫০টি, জনতার ৭৯টি, অগ্রণীর ৭৮টি ও রূপালীর ১৬টি শাখা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা এসব শাখাকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা দেখার জন্য ব্যাংকের এমডিদের নির্দেশনা দিয়েছেন গভর্নর। আর খেলাপি ঋণ আদায় ও নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখার কথাও বলেন তিনি।
আরো জানা গেছে, এসব ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ জনতা ব্যাংকের। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৩ হাজার ২২৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯ হাজার ৮৮ কোটি টাকা, অগ্রণীর ৫ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ২১ দশমিক ১১ শতাংশ। কিন্তু অনেক আগেই তা কমে ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসার চুক্তি ছিল।
সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে গত বছর ৯২২ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা হলেও নিট হিসাবে লোকসান হয় ১ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *