Home » শেষের পাতা » হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সড়ক-মহাসড়কে চলছে চাঁদাবাজী

রূপগঞ্জ থানা বিএনপিতে ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে অসন্তোষ

১৮ আগস্ট, ২০২২ | ১০:০৯ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 56 Views
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির আহবায়ক মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন ও সদস্য সচিব বাচ্চুতে অসন্তোষ তৈরী হয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। ঘরে বসে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি করায় এবং সেখানে বিতর্কিত ও আওয়ামীলীগ ঘেঁষাদের স্থান দেয়াই এ অসন্তোষের কারণ।
উপজেলা বিএনপির সভায় এ অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে নেতাকর্মীদের বক্তব্যে। বিষয়টি থানার আহবায়ক ও সদস্য সচিব সমাধান না করলে জেলা ও কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চাইবেন বলে বক্তব্যে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক টুটুল সে সভায় বলেন, আমার ইউনিয়নে নাকি কমিটি হয়েছে অথচ আমিই জানিনা। আজ এই সভা কাউন্সিল নিয়ে হবার কথা কিন্তু কাউন্সিল হবার আগে অবশ্যই ইউনিয়ন কমিটিগুলোতে কাদের পদ পদবি দেয়া হয়েছে সেটা জানতে হবে। আপনারা যে কমিটির কথা বলছেন সেখানে আওয়ামীলীগ ঘেঁষা ও আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে ঘুরে বড়ানো লোকদের পদ পদবি দেয়া হয়েছে। এসব নেতারা যেখানে পদ পেয়েছে সেখানে বিএনপির অবস্থান কি হতে পারে ভাবেন। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দিয়ে দল সাজালে আগামীতে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের খুঁজে পাবোনা। অবশ্যই দলের ত্যাগীদের ও রাজপথের নেতাকর্মীদের দিয়ে কমিটি করতে হবে। এতে দল শক্তিশালী হবে এবং দলের নেতারা পদ পাবে। এসব কমিটি বাতিলের দাবি তুলেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা, আমরাও সেই দাবি করছি।
প্রায় একই ধরনের বক্তব্য রাখেন জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মোশারফ হোসেন। এরকম বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল হক রিপন, দুলাল হোসেন, মাহবুবুর রহমানসহ কয়েকজন। আহবায়ক কমিটির অন্তত ১০ জন নেতাই ৮টি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার বাসাবোতে একটি রেস্টুরেন্টে রূপগঞ্জ থানা বিএনপির সভায় এসব কথা হয়। থানা বিএনপির সম্মেলন করা নিয়ে এ সভার আহবান করেন আহবায়ক মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন ও সদস্য সচিব বাছির উদ্দিন বাচ্চু। তবে সম্মেলনের জন্য সভা আহবান করে উল্টো ঘরে বসে ইউনিয়ন কমিটি করায় তোপের মুখে পড়েন নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, এটি থানা বিএনপির তৃতীয় সভা ছিল। আহবায়ক কমিটি হবার পর এর আগে দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে প্রতিটি সভাই অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকায়। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ার ভয়ে এবং উপজেলায় আহবায়ক ও সদস্য সচিবের তেমন প্রভাব না থাকায় তারা সেখানে কর্মসূচী এড়িয়ে ঢাকাতে সভা করেছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের উপর ক্ষুব্দ বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছেন।
ইতোমধ্যে রূপগঞ্জের ৮টি ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। এসব বিতর্কের নানা প্রমান ও ছবি ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৪টি ইউনিয়নের সভাপতি/আহবায়ক কিংবা সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিব সরাসরি আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে আঁতাত করে চলেন। সেই আঁতাতের প্রমান স্বরূপ আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে ছবি ও আওয়ামীলীগের কর্মসূচীতে এসব নেতার ছবি ভাইরাল হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন,আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীকে ফুল দেন। সেই ফুল দেয়ার ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
১৫ আগস্টের অনুষ্ঠান নিয়ে আওয়ামীলীগের এক আলোচনা সভায় দেখা গেছে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন সরকারকে। এ ছাড়াও স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে বসে হাস্যোজ্জল আলোচনার ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেদিন ১৫ আগস্টের কর্মসূচীর পরিকল্পনা হচ্ছিল সেই কার্যালয়ে।
আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও আওয়ামীলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের সাথে পৃথক ছবিতে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়াকে দেখা গেছে। এ ছাড়াও আওয়ামীলীগের একাধিক কর্মসূচীতে দেখা গেছে তাকে। এমন ছবিও রয়েছে ফেসবুকে।
গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মতিনকে আওয়ামীলীগের মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সাথে বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে এবং সে ছবি ভাইরালও হয়েছে।
গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মতিন জানান, আমিতো কোন দল কানা ব্যক্তি না। সমাজিক অনুষ্ঠানে মানুষজনের সাথে সেখা হতেই পারে সেখানে ছবিও তুলতে পারে। আমি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় তিনি মন্ত্রী সমাজিক নানা অনুষ্ঠানে তার পাশে থাকতে হয়েছে। আমার মেয়ের বিয়েতেও আমি সকলকে দাওয়াত দিয়েছি। সেখানে আওয়ামী লীগ বিএনপি সকল দলের লোকজন ছিল। আমি সামাজিক কাজ করে আসা মানুষ। সামাজিক অনুষ্ঠানের ছবি রাজনৈতিক ভাবে ব্যাবহার করা উচিত না। যদি দলীয় কোন প্রোগ্রামের ছবি দেখাতে পারে তাহলে বিষয়টি মানা যেত।
এ বিষয়ে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ও দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে থানা বিএনপির আহবায়ক মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন জানান, সভায় এ বিষয়ে কোন কথা হয়নি। কেউ এমন কোন কথাও তোলেনি। খুব শিঘ্রই রুপগঞ্জ থানা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সম্মেলন ও দলীয় কর্মসূচির ব্যাপারেই আলোচনা হয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি জানান, আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখব৷ কোন কমিটিতে অসঙ্গতি থাকলেই ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *