Home » প্রথম পাতা » শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী আজ

শক্তিশালি হচ্ছে মহানগর যুবদল!

০৩ জুলাই, ২০২২ | ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 35 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট প্রায় আট মাস হতে চললো নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আংশিক আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। পাঁচজনের এই কমিটি খুব শীঘ্রই পূর্নাঙ্গ হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। ইতিমধ্যে ৭১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কাছে জমা দেয়া হেেছ এবং তিনি পবিত্র হজ্ব পালন শেষে দেশে ফিরে এলেই কমিটি ঘোষনা করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে একাধীক সূত্র। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম সজল নারায়ণগঞ্জ মেইলকে জানান, বিগত দিনে রাজপথের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের অবদানকে মূল্যায়ন করা হবে। যারা আগের কমিটিতে ছিলো এবং যাদের কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে তাদেরকেও মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়াও ছাত্রদল থেকেও যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হবে। আগামী দিনের সরকার পতনের আন্দোলনকে বেগবান করতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল যাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারে সে লক্ষ্যে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের প্রকৃয়া চলছে। এখানে কে কোন ভাইয়ের লোক কিংবা কারো সুপারিশ চলবেনা। টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের স্থান দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। জাতীয়তাবাদী যুবদলের অভিভাবক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিক নির্দেশনা মোতাবেক আমরা শতভাগ স্বচ্ছতা রেখেই মহানগর যুবদলের কমিটি পূর্নাঙ্গ করা কাজ করে যাচ্ছি এবং বিগত সময়ের সকল ভুলত্রুটি কাটিয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা নতুন করে আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত প্রায় ১০ বছর যাবত নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটিতে একাধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিলেন মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। নিজের অনুগত লোকদের দিয়ে কমিটি করতেন এবং ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিতেন খোরশেদ। গুঞ্জন আছে নিজের কর্মচারী দারোয়ান মালি ড্রাইভার আর চাকর বাকরদের কমিটিতে পদ দিয়েছেন তিনি অথচ রাজপথের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীকে করেছেন অবহেলা। তাছাড়া মহানগর যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে বিশাল বাণিজ্যের অভিযোগ ছিলো খোরশেদের বিরুদ্ধে। সিদ্ধিরগঞ্জের কমিটির জন্য মমতাজউদ্দীন মন্তুর কাছ থেকে ৫ লাখ এবং বন্দরের আহমদ আলীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেয়ায় ঘটনাতো পুরোপুরি ওপেন সিক্রেট। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় দশ হাজার বিশ হাজার করে যার কাছ থেকে যেমন পেরেছেন তেমনটাই নিয়েছিলেন খোরশেদ। মহামারী করোনা কালীন সময়ে খোরশেদ নানা জনহিতকর কাজ করেছেন কিন্তু কোথাও যুবদলের ব্যানার ব্যবহার করেননি। তিনি টিম খোরশেদ নাম দিয়ে নিজেকে প্রচার করেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কিংবা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে কোথাও কোনো কর্মসূচি পালন করেননি অথচ দিনের পর দিন নিজের প্রচার চালানোর জন্য যুব দলের নেতাকর্মীদেরকে ব্যবহার করেছেন। সর্বশেষ খোরশেদ যুবদলে নিজের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য এমন একজনকে আহ্বায়ক হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন যাকে গত ১৫ বছরে একদিনও রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে দেখা যায়নি। একসময় ছাত্রদলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম জোসেফকে ১৫ বছর পর রাজপথে নামিয়ে নিজ বলয়ে যুবদলের কমিটি রাখতে চেয়েছিলেন খোরশেদ। কিন্তু নিস্ক্রিয় জোসেফকে কোনভাবেই মেনে নেবে না বলে জানিয়েছিলো তৃণমূল। মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের বিরুদ্ধে এত সব অভিযোগের পাহাড় জমা হয়েছিল কেন্দ্রীয় যুবদলের টেবিলে। তার কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছিল কেন তিনি বিএনপি কিংবা যুবদলকে কোথাও হাইলাইট না করে নিজের প্রচার চালিয়েছেন। এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি খোরশেদ। তাছাড়া দিনের-পর-দিন মহানগর যুবদলে স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার খেসারত হিসেবে কেন্দ্রীয় যুবদলের গুড লিস্ট থেকে নাম কাটা যায় খোরশেদের। যার ফলাফল আংশিক ঘোষিত কমিটিতে খোরশেদ অনুসারী কাউকেইই রাখা হয়নি। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর মমতাজউদ্দীন মন্তুকে আহ্বায়ক এবং মনিরুল ইসলাম সজলকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেছিলো কেন্দ্রীয় যুবদল। কেন্দ্রীয় যুবদলের প্যাডে দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাগর প্রধান, যুগ্ম-আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টি ও শাহেদ আহমেদ। এর আগে ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে সভাপতি করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। কমিটির বাকী সদস্যরা হলেন সিনিয়র সহ সভাপতি মনোয়ার হোসেন শোখন, সাধারণ সম্পাদক মমতাজউদ্দিন মন্তু, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাগর প্রধান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুর রহমান রশু। আংশিক কমিটি ঘোষনার ৫ মাস পর খোরশেদকেই সভাপতি রেখে ২০১ সদস্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়। গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাতিল করে দেয়া হয় মহানগর যুবদলের কমিটি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *