আজ: শুক্রবার | ১৪ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি | সকাল ৮:০৫

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

শপিং নয় বিপন্ন মানুষের সেবায় পাশে থাকুন

ডান্ডিবার্তা | ১৯ মে, ২০২০ | ১:২১

হাবিবুর রহমান বাদল
মহামারি করোনাভাইরাসের কারনে এক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে নারায়ণগঞ্জবাসী। বিগত সময়ের ইতিহাসে এত বড় সংকটে পড়েনি শহরবাসী। করোনার ভয়াল থাবায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের লাখো মানুষ। নির্দ্বিধায় গরীব, অসহায়, হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবীদ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিভিন্নভাবে সমাজের বিত্তবান শ্রেণীর মানুষ সাহায্য সহযোগিতা করছে। শুধু তাই নয়, জেলার ক্রীড়া জগতের খেলোয়াড়রাও এগিয়ে এসেছেন। নিজেদের সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এছাড়া অনেক বাড়িওয়ালা তাদের ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ করেছেন। যা এই করোনাযুদ্ধে মহৎ কাজ হিসেবে নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে মানবপ্রেমীদের নাম। চলছে পবিত্র রমজান মাস। যেই মাসকে ইসলাম খুবই ফজিলতের মাস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসলাম বলছে, এই মাসে দান করলে অন্য মাসের চেয়ে সাত থেকে সাতশো গুন বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। রমজান মাসের বেশ কয়েকটা দিন শেষ হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে সরকার সীমিত আকারে দোকানপাট, শপিং মল খোলার অনুমতি দিয়েছে। তবে অধিকাংশ শপিংমলের কর্তৃপক্ষ, দোকানপাট সমিতির নেতৃবৃন্দ করোনা ঝুঁকি বিবেচনায় দোকানপাট, শপিংমলের আশেপাশে স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। এটি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। মানুষ ঈদ উপলক্ষে শপিং বাবদ হাজার হাজার টাকা বাজেট রাখে। নতুন পোশাক ও অনুষঙ্গ কেনার পরিকল্পনা করে। কিন্তু এবারে পরিস্থিতিটা ভিন্ন। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সবাইকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলা অত্যন্ত জরুরি। ফলে এমন পরিস্থিতিতে নিজেরও পরিবারের জন্য অযথা ঝুঁকি না নিয়ে সবাই এবারের ঈদ ঘরে বসেই উদযাপন করাই হবে মঙ্গলজনক। একইসঙ্গে যদি আমরা আমাদের শপিং বাজেটের কিছু অর্থ দিয়ে আর্তমানবতার সেবায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই তাহলে পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা খুশি হবেন। করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে পরবর্তী ঈদে আরো বেশি আনন্দ উৎসব করতে পারব সেটাই আমাদের লক্ষ্য হোক। দেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জেই প্রথম করোনা শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সভা ডেকে মুজিববর্ষের সব অনুষ্ঠান স্থগিত করেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়। ২৬ মার্চ থেকে অফিস-আদালতে সাধারণ ছুটির আওতায় নিয়ে আসেন। যা বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। জরুরি সেবা কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। করোনার প্রভাবে নারায়ণগঞ্জের সিংহভাগ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। স্থগিত আছে গণপরিবহনসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। শিল্পাঞ্চল অধ্যাষিত এ এলাকাটিতে করোনার ভয়াল থাবায় কর্মহীন হয়ে পড়া সাধারণ মানুষ অনেকটাই অনাহারে দিনানিপাত করছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা সিভিল সার্জন, র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি, বিভিন্ন উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিগণ জীবনের মায়া ত্যাগ করে সাধারণ পাশে দাড়িয়ে মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে তাদের মানবিকতার বিরল দৃষ্টান্ত বেঁচে থাকবে সারা জীবন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকারী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ছাড়াও ব্যাক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অসহায় মানুষের একটু কষ্ট লাঘব করতে আমরা কি পারি না এই বছর ঈদের শপিংয়ের অর্থ দান করে দিতে? দেশের সব মানুষ যদি তাদের শপিং করার অর্থ নির্দ্বিধায় অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেন তাহলে করোনা যুদ্ধে বিজয়ীর পথে আমরা আরেক ধাপ এগিয়ে যাব। সংকট কেটে যাবে। অন্ধকারের ঘনঘটা একটা সময় দূর হয়ে যাবে। তখন আমরা আবার আনন্দ উৎসবে মেতে উঠবো। তাই আসুন আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াই, করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে সরকারকে সহযোগিতা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *