Home » প্রথম পাতা » সামসুলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ

শহরে হকার বৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগ বাড়ছে

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 41 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শহরের ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে প্রায়ই অভিযান চালায় পুলিশ। সেটা শুধু টহলে উচ্ছেদ পর্যন্তই থাকে। আর তাই পুলিশ যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দখল হয়ে যায় ফুটপাত। আর নির্দিষ্ট সময়ের পর যখন পুলিশ আর কোন উচ্ছেদে অভিযান করতে বা টহল দিতে আসনে তখনই ফুটপাত সহ রাস্তাও দখল করে নেয় হকাররা। এসব সুযোগ সুবিধায় নগরীতে বেড়ে চলেছে হকার সংখ্যা। আর প্রতিনিয়ত ফুটপাতে পথচারী রাস্তায় যানবাহনের যাত্রী উভয় ভোগান্তিতে পড়ছেন। স্থায়ী কোন সমাধান না হওয়ায় ক্ষুব্দ নগরবাসী। গতকাল রোববার বিকেলে শহরের চাষাঢ়ায় বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে খাজা মার্কেটের সামনে থেকে ২নং রেল গেইট পর্যন্ত ফুটপাতে ঝুড়ি, প্লাস্টিক ও চৌকি দিয়ে দখল করে দোকান নিয়ে বসেছে হকাররা। আর একই জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধু সড়কে রিকশা ভ্যানে করে দোকান নিয়ে বসেছে অন্য হকাররা। কেউ কেউ রাস্তায় মালামাল রাখছেন আর ফুটপাতে দোকান করছেন। এছাড়া শহীদ মিনারে সামনে ও জিয়া হলের সামনে ফুটপাতে ও রাস্তায় একই চিত্র। একই দৃশ্য সলিমোল্লা সড়কেও। যার ফলে চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তিতে পথচারী ও যাত্রীরা। তাছাড়া মার্ক টাওয়ারের সামনে থেকে দুই নং রেল গেইট পর্যন্ত এ সড়কের ফুটপাতই বেশি দখল করে নিয়েছে হকাররা। যার ফলে পথচারীরা ফুটপাত ছেড়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। স্থানীয় দোকানদাররা জানান, ‘বিগত কয়েক মাস ধরে হকারদের সংখ্যা কয়েকগুন বেড়ে গেছে। শহরের সব রাস্তায় হকার আছে। আগে অলিগলিতে ছিল না এখন অলিগলিতেও দোকান আছে। এমন কোন রাস্তা নেই যেখানে হকার নেই। দিনের পর দিন যেন হকার বাড়ছে। এ হকার কেউ স্থানীয় না। অধিকাংশ ঢাকা থেকে এসে নারায়ণগঞ্জে দোকান দিয়েছে।’ তারা বলেন, ‘পুলিশ প্রতিদিনই হকার উচ্ছেদের নামে অভিযান চালায়। আদৌ তাদের কোন অভিযান সাধারণ মানুষের কাজে আসে না। বরং হকার নেতারা লাভবান হয়। পুলিশ আসছে টাকা দিতে হবে এ বলে হকারদের কাছ থেকে টাকা নেয়। এ নেতাদের কাছ থেকে পুলিশও টাকা পায়। পুলিশের অভিযান তখনই কার্যকর হবে যখন পুলিশ কিছু হকারকে ধরে জেল জরিমানা করবে। তাদের তো ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমেও সাজা দিতে পারে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা হকারকে আটক কিংবা সাজা হতে দেখিনি। যার জন্য পুলিশের এসব শুধু মাত্র লোক দেখানো।’ হকারদের সূত্রে জানা গেছে, ‘২০১৮ সালেও যে হকার সংখ্যা ছিল ৩ থেকে ৪ হাজার। গত কয়েক বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার। ঢাকা থেকে অনেক হকার এসে এখানে দোকান দিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় হকার সংখ্যা সেই তুলনায় মাত্র কয়েক শ। ঢাকা থেকে আগতরা বিশেষ করে জুতার দোকান, প্যান্ট শাটের দোকানই বেশি। এককালীন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে হকার নেতারা ঢাকা থেকে আসা হকারদের বসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। তবে বিশেষ কিছু জায়গায় এ টাকা পরিমাণ কয়েকগুন পর্যন্ত বেড়ে যায়। এর মধ্যে চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর থেকে নূর মসজিদ পর্যন্ত ফুটপাতে বসার জন্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকাও দিতে হয়। তবে অলিগলিতে ১০ থেকে ৩০ হাজার। এভাবে ভাগ করা হয় জায়গার মূল্য। তাছাড়া ডিআইটি, ২নং রেল গেইট এলাকায় এর মূল্য ভিন্ন। তাছাড়া এসব হকারদের প্রতিদিন দোকান প্রতি ১০ থেকে ২০টাকা দিতে হয়। চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ অভিযান করছে আমরা সেটা দেখছি। পুলিশ অভিযান করলে হকার থাকে না কিন্তু চলে গেলে আবারও ফুটপাত দখল। এটা কেমন অভিযান?’ তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত এমন একটা অভিযানের খবর পেলাম না যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফুটপাতে হকার বসায় পুলিশ আটক করে সাজা দিয়েছে। কিংবা জরিমানা করেছে। আমরা হকারদের বিষয়ে বিষয়ে স্থায়ী সমাধান চাই।’ নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিকের টিআই কামরুল ইসলাম বলেন, ‘হকার উচ্ছেদে আমাদের অভিযান প্রতিদিনই চলছে। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে। তবে এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন সহ এ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবেই হকার সমস্যা স্থায়ী সমাধান সম্ভব।’

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *