Home » শেষের পাতা » না’গঞ্জ থেকে কুমিল্লা যাবে রেললাইন

শামীমের প্রতিপক্ষরা মাঠে তৎপর!

০৪ মার্চ, ২০২১ | ৭:১২ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 577 Views

হাবিবুর রহমান বাদল

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কান্ডারী হিসেবে পরিচিত শামীম ওসমানকে নিয়ে বার বার বির্তক হচ্ছে। বির্তক যেন শামীম ওসমানের পিছু ছাড়ছে না। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগে কর্মী বান্ধব নেতা হিসাবে শামীম ওসমান নিজের অবস্থান শক্ত করার ফলে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা শামীম ওসমানকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন কায়দা বেছে নিয়েছে। শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর জন্য ইতিমধ্যে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে শক্ত ভিত তৈরী করতে প্রতিপক্ষরা একাধিক মিডিয়াকে গোপনে আর্থিক সহায়তা করছে বলে তার অনুসারিরা অভিযোগ করেন। শুধু তাই নয়, শামীম ওসমানের প্রতিপক্ষরা আর্থিক ভাবে অনেককে স্বাবলম্বি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি আদালতপাড়ায় শামীম ওসমানের অনুসারিদের একক কর্তৃত্ব  যাতে না থাকে সে জন্য প্রতিপক্ষরা কাজ করে চলেছে। যদিও রাজনৈতিক কারণে আন্দোলন সংগ্রামে মূখ্য ভূমিকা পালনা করায় পুলিশের পিটুনী থেকে শুরু করে হাজত বাস এমনকি দেশ ত্যাগ করতেও বাধ্য হয়েছিলেন শামীম ওসমান। বিদেশের মাটিতে বসেও রাজনৈতিক সহকর্মীদের সাধ্য মত সহযোগীতার চেষ্টা করেছেন। শামীম ওসমানের  বদৌলতে অনেকেই এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। রাজনৈতিক সহকর্মীদের অন্ধ ভাবে বিশ^াস করতে গিয়ে শামীম ওসমান তার নিজস্ব শুভাঙ্খীদেরও অনেক সময় ভুল বুঝেছেন। শুধু তাই নয় রাজনৈতিক সহকর্মীদের ভুল পরামর্শে খেসারত দিতে হয়েছে তাকে চরম ভাবে। তার পরও শামীম ওসমান রাজনৈতিক কারণেই অনেকটা নিজের সাথে নিজে আপোষ করেছেন। শুধু মাত্র স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আপোষ করা ছাড়া তার কাছের লোকদের বিভিন্ন অন্যায় আবদারও অনেক সময় রক্ষা করতে গিয়ে শামীম ওসমানকে চরম খেসারত দিতে হয়েছে। সম্প্রতি তিনি নিজেই স্বীকার করলেন শত্রুকে বিশ^াস করা যায়-বেঈমানকে বিশ^াস করা যায় না। শামীম ওসমানের এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন জাগে তার আশেপাশে থাকা ক’জন বেঈমানকে তিনি চিহিৃত করতে পেরেছেন। পর্দার অন্তরাল থেকে বেরিয়ে আসা হাতে গুনা কয়েকজনকে হয়তো শামীম ওসমান চিহিৃত করতে পেরেছেন। বাকি সবাইকে কি চিহিৃত করতে পেরেছেন? নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক অবস্থা এমনতো হওয়ার কথা ছিল না। ২০১১ সালে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের আগে গণভবনে শামীম ওসমান ও আইভীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি প্রস্তাব দিয়ে দুইজনকে একান্তে আলোচনা করা সুযোগ করে দিয়ে ছিলেন। আমার জানামতে শামীম ওসমান প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রস্তাবে অনেকটা নমনীয় হওয়ার পথে এগুচ্ছিলেন। যে কারণে আওয়ামীলীগের কোন সদস্য না হওয়া সত্বেও নগরবাসী হিসেবে ব্যাক্তিগত ভাবে আমি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত বলে মনে করি।  কারণ ২০১১ সালে শামীম-আইভীর ঐক্য হলে আজ বামরা শহরে দাবড়িয়ে বেড়াতে পারতো না। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা হওয়ার যোগ্যতা যাদের নেই তারাও দলের বড় বড় পদ নিয়ে ক্ষমতার দাপটে ছড়িঘুরাতে পারতো না। এখনো যে শামীম ওসমানের আশেপাশে বেঈমান নেই একথা শতভাগ নিশ্চিত করে তিনি বলতে পারবেন না। তবে রাজনীতি করতে হলে বিশ^াস রাখতে হয় এটুকু আমি বুঝি। কিন্তু এই বিশ^াস নষ্ট করে যারা শামীম ওসমানকে ব্যবহার করে পদ-পদবী গ্রহনসহ দামী বাড়ি-গাড়ীর মালিক হয়েছে, দেশ-বিদেশে ব্যাংকে আমানত বাড়িয়েছে তাদের সম্পর্কে শামীম ওসমানকে সজাগ থাকতে হবে। কারণ সামনে শামীম ওসমান জিন্দাবাদ আর আড়ালে আবঢালে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এ যদি শামীম ওসমানের অনুসারি হয়ে থাকে তবে আমার বলার কিছু নেই। বাস্তবিকই শামীম ওসমান বলেছেন শত্রুকে বিশ^াস করা যায়-বেঈমানকে নয়। কারণ শত্রু চিহিৃত। সে সুযোগ পেলেই আঘাত হানবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মুনাফেকরা অতি তোয়াজের মাধ্যমে সব কিছু জেনে সময় সুযোগ মত আঘাত হানবে এই সব বেঈমানদের চিহিৃত করে খুজে বের করাই শামীম ওসমানের বর্তমানে প্রধান দায়িত্ব বলে আমি মনে করি। কারণ এখনো শামীম ওসমানের আশেপাশে অনেক মুনাফেক আত্মগোপন করে আছে যাদেরকে শামীম ওসমান খুব সহজেই চিহিৃত করতে পারবেন। রাজনীতিতে প্রতিযোগীতা থাকা ভাল কিন্তু রাজনীতিতে যারা দলের অভ্যন্তরে থেকে গোপন ষড়যন্ত্র করে তারা শুধু দল নয় দেশের জন্যও ক্ষতিকর। একজন রাজনীতিবিদের ভুল সিদ্ধান্ত একটা জাতিকে নষ্ট করে দিতে পারে। আশা করি আমি কি বলতে চাইছি শামীম ওসমানে তা বুঝার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এদিকে জানাগেছে, শামীম ওসমানের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা একে অন্যকে গ্রহণ করতে না পারলেও শামীম ওসমানকে ঠেকাতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে। ইতিমধ্যে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জন্য বিশেষ সেল গঠন করে নিজেদের পক্ষে নিয়ে গণমাধ্যম যাতে কাজ করে সে জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে শামীম ওসমানের গভীর সখ্যতা রয়েছে তার পরও তার অনেক শুভাকাঙ্খি ও সহকর্মীদের আচরণে অনেক গণমাধ্যম কর্মীই নাখোশ। এ অবস্থার অবসানসহ শামীম ওসমানের প্রতিপক্ষরা তাকে ঘায়েল করতে যে সকল অস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে সেইসব অস্ত্রের মোকাবেলা রাজনৈতিক ভাবে করতে হলে শামীম ওসমানকে স্থানীয় রাজনীতির সুবিধা অসুবিধা নিয়ে আরো বেশী ভাবতে হবে। কারণ শামীম ওসমানের প্রতি দুবর্ল এমনসব সহকর্মী ও সুধিমহল তার প্রতিপক্ষের টার্গেটে পরিনত হয়েছে। এ অবস্থার অবসান শামীম ওসমানকেই করতে হবে বলে বঙ্গবন্ধুর প্রতি দুর্বল এমনসব অরাজনৈতিক লোকজনও মনে করেন।

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *