Home » প্রথম পাতা » সামসুলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ

শামীম ওসমান কি পারবেন?

১৪ নভেম্বর, ২০২১ | ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 197 Views

হাবিবুর রহমান বাদল

নব নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানগণ সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তার দেয়া বক্তব্যে নিজেই স্বীক্রা করলেন কিছু অনিবন্ধিত পত্রিকা এনায়েতনগর ইউপির নির্বাচনের সময় একটি ঘটনাকে সাজিয়েছিল। পাশাপাশি সাংসদ শামীম ওসমান একথাও বলেছেন, কিছু কিছু পত্রিকা মানুষের চরিত্রহরণ করে ফায়দা লুটছে। সাংসদ শামীম ওসমানের এই বক্তব্যকে পেশাদার সাংবাদিকরা অবশ্যই সাধুবাদ জানাবে বলে আমার বিশ্বাস। সাংসদ শামীম ওসমান একজন আইন প্রনেতা। পাশাপাশি আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী নেতাও বটে। প্রশাসনের সাথে তার প্রভাব বিস্তারের কথা বাদ দিলেও সুসম্পর্ক রয়েছে এটা নির্দিধায় বলা চলে। তাছাড়া সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুসম্পর্কের কথা বাদ দিলেও বলা চলে আইনমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তার রয়েছে গভীর সম্পর্ক। সাংসদ শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জকে আধুনিক ও উন্নত নগরী গড়তে প্রাণপন কাজ করছেন এটা তিনি একাধিকবার দাবি করেছেন। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জকে যাতে কেউ অস্থিতিশীল করতে না পারে এই জন্য সত্য কথা বলতে গিয়ে অনেক সময় অনেকের বিরাগ ভাজনও হয়েছেন। সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনের আগে আকষ্মিক ভাবে সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জকে একটি মহল অস্থিতিশীল করতে চাইছে এমন মন্তব্য করে সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়ে বলেছেন, অসুস্থ্য অবস্থায় এ কারণে তিনি নারায়ণগঞ্জ ছুটে এসেছেন। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে যখন বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচার চালিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে একটি মহল চেষ্টা করে তখন প্রকৃত গণমাধ্যমের উপর সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে সেইসব অপপ্রচারকে প্রত্যাখান করে। যার প্রমান সাম্প্রতিককালেও দেশে দেখা গেছে। আমার বক্তব্য হলো শামীম ওসমান সত্যিকার অর্থে যদি নারায়ণগঞ্জে স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা চান তবে শুধু বক্তৃতা বিব্রতির মাধ্যমে নয়, বরং বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আর এই বাস্তবতা প্রমাণ করার জন্য সাংসদ শামীম ওসমানের একটু উদ্যোগই যথেষ্ট বলে আমি মনে করি। তিনি অনিবন্ধিত পত্রিকা গুলিকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের জন্য দায়ি করে বলেছেন, এক শ্রেনীর পত্রিকা মানুষের চরিত্র হরণ করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। নারায়ণগঞ্জ এখন ধাক্কা লাগলে সে নিজেকে সাংবাদিক বলে। কখনো একটা রিপোর্ট প্রকাশ করেনি কিংবা রিপোর্ট লেখাতো দূরের কথা নিজের নাম ঠিকানা সঠিক ভাবে লিখতে পারেনা এমন লোকও সাংবাদিক বনে গেছে। এ যেন বড়লোক হওয়ার সহজ মাধ্যম। অথচ রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ ও জাতির বিবেক বলে পরিচিত সাংবাদিক সমাজ একারণে মাঠে ময়দানে গিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করতে পারছেনা। পেশাদার সাংবাদিকরা এখন অনেকটাই অসহায়। তারা নিজের পরিচয় দিতেও এখন অনেকটাই লজ্জাবোধ করে। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা কিংবা অভাব অভিযোগ আর অসংগতি তুলে ধরার চেষ্টা নেই কারো মধ্যে। এসব নামধারী আর কার্ডধারী সাংবাদিকরা এখন থানা পুলিশ কিংবা আপনাদের মত রাজনৈতিক নেতাদের তোষামুদি করে নিজেকে বড় সাংবাদিক বলে জাহির করে চলেছে। নারায়ণগঞ্জের জেলা ম্যাজিষ্টেট কর্তৃক কতটি পত্রিকাকে, অনলাইনকে অনুমোদন (ডিক্লারেশন) দেয়া হয়েছে তা জানা আপনার জন্য কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার মাত্র। অথচ নারায়ণগঞ্জ থেকে কতগুলি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে তার হিসাব আপনি নিজে কিংবা খোদ জেলা ম্যাজিস্টেট দিতে পারবেন কিনা আমার জানা নেই। তবে মাত্র ১৫টি পত্রিকার ডিক্লারেশন থাকলেও ৩/৪টির প্রকাশনা বন্ধ আছে। তার উপর যোগ হয়েছে একটি মোবাইল কিনে ফেসবুক লাইভ করে বলছে টেলিভিশন সাংবাদিক। এ অবস্থার অবসান কল্পে নারায়ণগঞ্জের ডিক্লারেশন প্রাপ্ত পত্রিকার প্রকাশকরা প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের সাথে কয়েক বছর আগে বৈঠকে বসলে তিনি তখনকার জেলা ম্যাজিস্টেটকে অননুমুদিত পত্রিকা বন্ধের নির্দেশ দিলেও আজো তা বন্ধতো হয়নি বরং সরকারি বিধিবিধান মেনে যারা সংবাদপত্র প্রকাশ করছে তাদের কাছে একাধিক তথ্য চেয়ে হয়রানি করা হয়েছে। এ অবস্থায় পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষায় আপনি জেলা ম্যাজিস্টেট ও পুলিশ সুপারের সাথে আলোচনা করে খুব সহজেই পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা উজ্জল করতে পারেন। কারণ অধিকাংশ পত্রিকা ও অনলাইনের কোন জবাবদিহিতা না থাকায় তারা ইচ্ছে মাফিক সংবাদ পরিবেশন করে ব্যক্তিগত ফায়দা লুটছে। যারা তাদেরকে খুশি করতে পারছেনা তাদের চরিত্র হরণ থেকে শুরু করে ইচ্ছে মাফিক সাংবাদিকতার নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে যা খুশি তা প্রকাশ করছে। অথচ সাংবাদিকতার নিয়মনীতি মেনে সরকারি বিধিবিধান মোতাবেক আমরা যারা বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করছি এবং টাকার বিনিময়ে সাংবাদিক বানাচ্ছিনা তাদের সংবাদপত্র প্রকাশ করতে গিয়ে অনবরত হিমশিম খেতে হচ্ছে। আবার কোন কোন সংস্থা বছরের পর বছর তার পছন্দের পত্রিকাকে লাখ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন দিয়ে যাচ্ছেন যা সরকারি নীতির বাইরে। এমতাবস্থায় নামধারী সাংবাদিকদের ও অবৈধ ভাবে প্রকাশিক সংবাদপত্র এবং অনলাইনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে প্রশাসন যেন উদ্যোগী হয় এ ব্যপারে আপনার হস্তক্ষেপ জরুরী হয়ে পড়েছে। সাংসদ শামীম ওসমান আপনি গত বছর করোনাকালে সাংবাদিকদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতে গিয়ে নিশ্চয়ই দেখেছেন নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকের সংখ্যা কত। এদের অর্ধেকও যদি সপ্তাহে একটা করে ভাল রিপোর্ট প্রকাশ করে তবে সরকার নিশ্চয়ই সেই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হবে। আমি চাই সব বস্তুনিষ্ট ও পেশাদার সাংবাদিকতার প্রসার ঘটুক। তবে একথাও ঠিক আপনাদের মত কিছু রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ অপসাংবাদিকতাকে উৎসাহিত ও আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়ায় আজ আপনাকে বলতে হয়েছে মানুষের চরিত্র হরণ করে কিছু কিছু পত্রিকা ফায়দা লুটছে। আশাকরি পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থে প্রশাসনকে গতিশীল করতে এইসব নামধারী সাংবাদিক ও অনিবন্ধিত পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার যাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সে ব্যপারে আপনি নিজেও উদ্যোগী হবেন। তবেই নারায়ণগঞ্জের পেশাদার সাংবাদিকরা মনে করবে বস্তুনিষ্ট ও সত্য সংবাদ প্রকাশে আপনি নিজেও অংশিদার হতে চাইছেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *