Home » প্রথম পাতা » দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৩৬৪

শ্রমিকদের পাশে নেই পরিবহন নেতারা

০৭ মে, ২০২১ | ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 11 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে লকডাউন ঘোষনার পর সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। ঈদকে সামনে রেখে দু:চিন্তায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পরিবহন শ্রমিকরা। সরকারি ভাবেও তাদের জন্য কোন সহায়তা আসছে না। ইতিমধ্যে লকডাউন শিথিল হওয়ায় অনেক শ্রেনীর মানুষ কর্মস্থলে গেলেও এখনো বেকার পরিবহন শ্রমিকরা। গতকাল বৃহম্পতিবার বন্ধু পরিবহন, দুরন্ত পরিবহন ও বাধন পরিবহন চলাচল করলেও বন্ধ রয়েছে সিটি বন্ধন, আনন্দ, উৎসব, শীতল, হিমাচল, আরটিসি’র মতো ঢাকা মুখি পরিবহন। এরআগে বুধবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখা থেকে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসজনিত রোগের বিস্তার রোধে কার‌্যাবালি/চলাচলে বিধি-নিষেধের সময়সীমা আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ৫ মে বুধবার মধ্যরাত থেকে এই প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন হবে। গত ৫ মে বুধবারের পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন জেলার ভিতরে চলাচল করতে পারবে। তবে, বন্ধ থাকবে আন্ত:জেলা বাস, লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল। তাই ঢাকাগামী সব পরিবহনই বন্ধ ছিল। এতে করে পরিবহন শ্রমিকরা অনেকটা বিপাকে থাকলেও পরিবহন নেতারা রয়েছেন অনেকটা নিশ্চুপ। নারায়ণগঞ্জে পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রণকারী কতিপয় সরকারী দলের নেতার কর্মকান্ড নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে। করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে লকডাউন ঘোষনার পর সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন নারায়ণগঞ্জের পরিবহন শ্রমিকরা। ইতিমধ্যে গার্মেন্টস, শপিংমলসহ বিভিন্ন কর্মজীবী প্রতিষ্ঠান চালু করা হলেও নারায়ণগঞ্জে এখনো পুরোপুরি গনপরিবহন চালু না হওয়ায় পরিবহন শ্রমিকরা কর্মহীন রয়েছেন। অথচ শ্রমিকদের এই দুর্দিনে পাশে নেই মালিক সমিতির নেতারা। যারা নারায়ণগঞ্জের পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও শ্রমিকদের কল্যানের নামে চাঁদা আদায় করা হলেও পরিবহন শ্রমিকদের এই দু:সময়ে কোন প্রকার সাহায্য আসেনি বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন ‘শ্রমিকের এই দুর্দিনে লাপাত্তা হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জের পরিবহন সন্ত্রাসীরা’। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রনে করছেন শহিদুল্লাহ, জুয়েল হোসেন, আইয়ূব আলী, ইব্রাহিম চেঙ্গীস ও সরকারি পরিবহন বিআরটিসি নিয়ন্ত্রন করছেন কামাল মৃধা। এরা পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রনে রেখে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও পরিবহন শ্রমিকদের এই দু:সময়ে পাশে থাকতে দেখা যায়নি। তাহলে প্রশ্ন উঠেছে, বিগত বছরগুলোতে আদায় করা চাঁদার টাকা এখন কোথায়। এদিকে, নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল বলছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে পরিবহন চাঁদাবাজদের কারণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন শ্রমিকরা বিপাকে থাকলেও তাদের পাশে দাঁড়াননি পরিবহন গডফাদাররা।যার ফলে ত্রাণের দাবীতে পরিবহন শ্রমিকরা বিক্ষোভও করেছিল। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন পরিবহন স্ট্যান্ডে বিগত সময় ধরে শ্রমিক কল্যাণের জন্য চাঁদা আদায় করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের জন্য কোন প্রকার সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন না নেতারা। জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা লকডাউন ঘোষনার পর শ্রমজীবী সম্প্রদায়ের একটা বিশাল অংশ কর্মহীন হয়ে পরেছে। নারায়ণগঞ্জে এর পরিমান অনেক বেশী হলেও এসব ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের পাশে নেই তথাকথিত এই গডফাদাররা। অথচ নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের এখন চরম দুর্দন চলছে। করোনা ভাইরাসের কারনে অচল হয়ে পরা শ্রম ব্যবস্থায় ছেলে মেয়ে নিয়ে দুবেলা খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাই এখন দায় হয়ে পরেছে খেটে খাওয়া দিন মজুরদের। এ সময়ে তাদের সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন একটি সাহায্যের হাত যা তাদের বেঁচে থাকার প্রেরণা যোগাবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *