Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

ষড়যন্ত্রের বেড়াজ্বালে নির্বাচন কমিশন

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ | ১২:৪৬ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 92 Views

তৈমূর আলম খন্দকার

১৯৭১ ইং সনে দ্বিতীয় বার দেশ স্বাধীন হলো, এর পূর্বেও ১৯৪৭ ইং সনে বৃটিশ থেকে পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে ছিলো। কিন্তু জনগণের আশা আখাংকার প্রতিফলন ঘটে নাই। বৃটিশের শাসন শোষণের মধ্যেই বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের বীজ বপন হয়ে ছিল। একদল দালাল সৃষ্টির মধ্যেই বৃটিশ ভারতকে শাসন শোষণ করত। ভারতীয় নাগরিকদের উচ্চ পদে অর্থাৎ ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশ হিসাবে যাদের চাকুরী দেয়া হয়েছিল বৃটিশ বংশভুত রাজকর্মচারীদের চেয়ে বৃটিশের ভারতীয় কর্মচারীরা ভারতবাসীর উপর বেশী অত্যাচার নির্যাতন করেছে। স্বসস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতকে স্বাধীন করার স্বপ্নদ্রষ্টা সুভাষ বোষ যখন কারাগারে অনশনরত ছিলেন তখন তার অনশন ভাংগানোর জন্য বৃটিশ অফিসার ব্যর্থ হওয়ার পর এক বাঙ্গালী অফিসার সুবাস বোষের অনশন ভাঙ্গনোর জন্য স্বেচ্ছায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাঙ্গালী অফিসারের অত্যাচারে সুভাষ বোষ অসুস্থ হয়ে শারিরিকভাবে সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে বৃটিশের আদালত সুভাষ বোসকে জামিন প্রদান করেন। জামিন পেয়ে পরিকল্পিত সন্যাসী জীবন ধারন করে আত্মগোপন করে র্জামানীতে যাওয়ার পথে প্লেন দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন বলে কথিত আছে, যা নিয়ে যদিও দ্বিমত রয়েছে। ১৯৫২ ইং সনে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারীদের উপর যার নির্দেশে শহীদ ছালাম, বরকত, রফিক গংদের উপর গুলি বর্ষন হয়েছিল তিনিও ছিলেন একজন বাঙ্গালী যিনি ছিলেন তৎকালিন বৃহত্তর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার বাহাউদ্দিন। ২১শে গ্রেনেড মামলায় জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে যারা তৎকালিন সরকারের সমালোচনার সূযোগ করে দিয়েছিল তারাও এদেশেরই সন্তান বাঙ্গালী পুলিশ অফিসাররা। ফলে এটাই প্রমাণিত যে, বাঙ্গালী হলেই যে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার মানসিকতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে দেশ প্রেমিকের ভূমিকায় অবর্তীণ হয়ে দেশবাসীর জন্য নৈতিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন তা বিশ্বাস করার উপায় নাই, কারণ বাঙ্গালী আমলাতন্ত্রের ট্রেডিশন সে কথা বলে না। তবে ঔপনেবেশিক আদলে গঠিত পুলিশ ও প্রশাসন তোষামোদীর যে প্রশিক্ষন গ্রহণ করেছে তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন জেনে শুনে সরকারের জনস্বার্থ বিরোধী নির্দেশকেও সত্য ও সঠিক মনে করে তা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের উপরে যতটুকু খর্গ চালানো দরকার তার একটুও কম করে না। নৈতিকতা ও মানবতার স্থান আমলাতন্ত্রের অভিধানে নাই যার শুরু ও সূচনা হয়েছিল বৃটিশ আমলে। কাগজে কলমে বলা হয় যে, দক্ষতাই আমলাদের প্রমোশনের প্রধান উপাদান, কিন্তু সিনিয়র ডিঙ্গিয়ে প্রমোশন এবং লোভনীয় পোষ্টিং তাদের ভাগ্যেই জোটে কার্যত: যারা উপরস্থদের তৈল মর্দনে যে যত বেশী পারদর্শী। ফলে স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত জনগণের প্রত্যাশা পূরন হয় না। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার অর্থাৎ শেখ হাছিনা সরকার নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কুলষিত করেছে আমলাদের অর্থাৎ প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে। নির্বাচন কমিশনও প্রধানমন্ত্রীর আজ্ঞাবহ আমলা দ্বারা গঠিত। কিন্তু আমলাদের নৈতিকতা বর্হিভুত অপরাধকে অপরাধ বলে টিকে থাকা যায় না। কারণ আমলাতন্ত্রের দূবৃত্তায়নকে জায়েজ করার জন্য সরকারী “খয়ের খাঁ” বলে ক্ষ্যত একদল বুদ্দিজীবি তো তৈরী হয়ে আছে। তারাও আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার মত “সাদা”কে “কালো” বলতে এবং “কালো”কে “সাদা” বলতে গিয়ে মাত্রা জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। বাংলাদেশে জাতীয় কি স্থানীয় নির্বাচন সকলই সরকার প্রধানের ইচ্ছা/অনিচ্ছার হাতের মূঠোয় বন্দী। দিনের ভোট রাতে করার অভিযোগে অভিযুক্ত সরকার ও নির্বাচন কমিশন এখন বোল পাল্টে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে যার নাম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ঊঠগ), প্রকৃত পক্ষে এর নাম হওয়া উচিৎ ইভিল ভোটিং মেশিন। অর্থাৎ ভোট ডাকাতি করার ইহা একটি বাক্স যার পদ্ধতি শয়তানকেও হার মানাতে পারে। গত ১৬ই জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়ে গেল। নির্বাচনের পূর্বেই সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) ঊঠগ এর মাধ্যমে কি ভাবে ভোটের রিজাল্ট পরিবর্তন করা যায় তার প্রমানাধি সহ তথ্য যুক্তিদিয়ে উপস্থাপন করেন, যার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া গেলো ১৬ই জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। গত ১৬ই জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাস্তবতার নিরিখে ভোট শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্র পরিদর্শনের পর থেকেই তাৎক্ষনিকভাবে মিডিয়াতে ৩ (তিন)টি অভিযোগ করে এসেছি, যথা- (১) আঙ্গুলের ছাপ দিলেও অনেক ক্ষেত্রেই ইভিএম ওপেন হয় নাই, (২) অনেক বুথে দেখেছি মেশিন ক্রটিপূর্ণ, যা সচল হচ্ছিল না ও (৩) অনেক বুথে দেখেছি যে, মেশিনটি ধীর গতি (ঝখঙড) হওয়ায় ভোটার টানতে পারে না। ফলে অনেকক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার শেষ পর্যায়ে ভোটার কেন্দ্র থেকে চলে গেছে। ইভিএম মেশিনে কি ভাবে রিজাল্ট পরিবর্তন করা যায় তা পরীক্ষা পূর্বক বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মিডিয়াতে প্রকাশ করছেন। গত ১৫ ডিসেম্বর নমিনেশন পেপার ক্রয় করার সময়ই বলে ছিলাম যে, ইভিএম একটি ভোট চুরির বাক্স যা এখন প্রমাণিত হচ্ছে যে, ইহা একটি ভোট ডাকাতির বাক্স। কারণ স্বচক্ষে যা দেখেছি তার চেয়ে বেশী বাস্তবতা এই যে, বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন যে, ইভিএম দ্বারা ভোটের সংখ্যা পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করা যায়। তাছাড়া “সীল” সিষ্টেমে ভোট হলে “গণনার” বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করলে পুনরায় গণনার একটি সূযোগ থাকে যাতে ভুল ক্রটি নিরীক্ষা করা যায়, যা ইভিএম মেশিনে ধরা পড়ে না। ফলে বাকপটু অসত্য কথা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সরকারের কাংখিত প্রার্থীকে জয়লাভ করানোর অভিলাস পূর্ণ করা সহজতর হয়। নির্বাচন কমিশন পূর্ব থেকেই বলতে ছিল এবং নারায়ণগঞ্জে গিয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলে ছিলেন যে, নির্বাচন নিরপেক্ষ ও লেভেল প্লেইং ফিল্ডকে কঠিনভাবে সুরক্ষা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল যে, সরকারী দলের প্রার্থী অকাতরে আচরন বিধি লঙ্গন করে গেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নাই, বরং কমিশন মিডিয়ার কাছে মিথ্যাচার করে বলেছে যে, কোন অভিযোগই নাকি তারা পায় নাই। অন্যদিকে কমিশনের সকল খর্গ নেমে এসেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপর। জাতীয় নির্বাচনের তপছিল আগামী বৎসরই ঘোষিত হবে। এ নির্বাচন ইভিএম এ হবে বলেই সরকারী সিদ্ধান্ত। নির্বাচন কমিশন ষড়যন্ত্র ও ব্যর্থতার কলঙ্ক নিয়ে এ বৎসর ফেব্রুয়ারি মাসেই বিদায় হচ্ছে। শুনা যায় ৭/৮ শত কোটি টাকা ব্যয় করে নির্বাচন কমিশনের জন্য সরকার ইভিএম মেশিন ক্রয় করেছে, যা ক্রয়ের বিষয়ের নৈতিক প্রক্রিয়াগত পদ্ধতি নিয়েও ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ২০১৮ ইং সালেই অভিযোগ তুলে ছিলো। কিন্তু স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই বিরোধী দলের মতামতকে সরকার বা কমিশন আমলে নেয় নাই। ইভিএম প্রশ্নবিদ্ধ বিধায় পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত রাষ্ট্র যারা এ পদ্ধতি চালু করে ছিল তারাও তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারপরও সরকার জনগণের কষ্ঠার্জিত অর্থে অনৈতিকভাবে এ মেশিনটি ক্রয় করেছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকারের মূল শ্লোগান এখন “গণতন্ত্র নয় বরং উন্নয়ন।” যে উন্নয়নে “সুশাসন” থাকে না, সে উন্নয়ন জনগণের মন জয় করতে পারে না, ফলে সরকারের জনপ্রিয়তা ও আস্থা যে দিন দিন কমে যাচেছ, এ কথা সরকারের উপরের মহলও উপলব্দি করতে পারছেন বিধায় জাতীয় পত্রিকায় দেখেছি যে, তারা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। বড় নির্বাচনগুলিতে গোয়েন্দা সংস্থার কুটকৌশল লক্ষ্য করা গেছে, যে কৌশল পূর্বেও ছিল কিন্তু “সময়ের” দ্বারপ্রান্তে এতে ইতোপূবেও সে “কৌশল” শেষাবদ্দি সব সরকারের আমলেই ভেস্তে গেছে। “সময়” ও নদীর “¯্রােত” কারো জন্য বসে থাকে না। রাজনীতির খেলা রাষ্ট্র পরিচালনায় অপরিহার্য্য হলেও “নৈতিকতা” সঠিক মাত্রায় না থাকলে ক্ষমতাসীনরা যতই কুটকৌশল করুক না কেন এক সময় ব্যালেন্সসীট আর মিলাতে পারে না এবং এটাই ইতিহাসের স্বাক্ষী। সরকার যখন স্বৈরাচারে পরিনত হয় বা রাজনৈতিক দল যখন মোহে পরিনত হয়ে কর্মীকে কর্মচারী মনে করে তখনো রাজনৈতিক কর্মীর অবমূল্যায়ন হতে থাকে বলে দলে ঘুনে ধরে এবং দলটি পূর্বস্থায় ফিরতে গিয়ে এক হাত এগুলে তিন হাত পিছিয়ে পড়ে। সার্বিক পর্যালোচনায় এটাই প্রতিয়মান হয় যে, সুশাসনকে অগ্রাধিকার না দিয়ে উন্নয়নের ঢামাডোলে ক্ষমতা পাকাপোক্ত হয় না বিধায় সরকার দিনে দিনে যখন আস্থা হীনতায় পড়তে থাকে তখনই শুরু হয় ইভিএম এর মত নানা ষড়যন্ত্রের কুটকৌশল, যা নিকটম পর্যায়ে ক্ষমতাসীনদের জন্য সুফল দেখা গেলেও দীর্ঘ মেয়াদে জাতির জন্য বয়ে আনে অশ্বনি সংকেত। ফলে কোন কারণেই রাজনৈতিক দলগুলি ইভিএম এ জাতীয় নির্বাচনে যাওয়া সমচীন হবে না, যা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার এখনই সময়। সরকার অনেক লোভ লালসা দেখাবে, দেশী বিদেশী গোয়েন্দারা কুটচাল চালাবে, কিন্তু ইভিএম এ ভোট হলে গণমানুষ হয়ে পড়বে হতাশ। বাস্তবতা নিরিখে জাতীয় নির্বাচনের আগাম সর্তকবানী দিয়ে গেলাম।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *