Home » শেষের পাতা » বন্দরে ২৭টি পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

সংবাদ সম্মেলনে তৈমূর আলম খন্দকার সরকারদলীয় প্রার্থীর অবস্থা নড়বড়ে

১০ জানুয়ারি, ২০২২ | ১০:৪১ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 63 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ বাকযুদ্ধে নেমেছে। গতকাল রবিবার বিকালে মাসদাইরস্থ মজলুম মিলনায়তনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বাহির্ভূত মন্তব্য করেছেন, সে ব্যাপারে আমার স্পষ্ট মন্তব্য হলো সরকারদলী নেতাদের এই বিভেদ-বিভাজনই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। শামীম ওসমান সরকারদলীয় এমপি আর সেলিম ওসমান সরকারীদলের জোটবদ্ধ জাতীয় পার্টির এমপি। আমি তৈমুর আলম খন্দকার প্রথম দিন থেকেই বলছি শামীম ওসমানের পায়ে তৈমুর আলম খন্দকার হাটেনা। গত ৫০বছর ধরে মাটি ও মানুষের সাথে রাজনীতি করতে করতে তৈমুর আলম খন্দকারের ভিত্তি এতটাই শক্ত অবস্থান হয়েছে যে, কোন শামীম ওসমান বা সেলিম ওসমানের হয়ে আমাকে নির্বাচনে নামতে হবে না, ইনশাআল্লাহ। সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী বারংবার আমার বক্তব্যকে মিথ্যাচার বলে আখ্যা দিচ্ছেন। অথচ আমিও প্রতিবারই বলছি আমার বক্তব্য সাধারণ মানুষেরই বক্তব্য। সরকারদলীয় প্রার্থীর অবস্থান এতটাই নড়বড়ে হয়ে গেছে, হাতি মার্কা আজ জনতার মার্কা হয়ে গেছে। সরকারদলীয় প্রার্থীর পায়ের নিচে মাটি এতটাই সরে গেছে যে, পুলিশ প্রশাসনের লোকদিয়ে ভয়ভীতি আর জোর করে সরকারদলীয় নেতাদের মাঠে নামাতে হচ্ছে। আমার দল সহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী সম্প্রতি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা জনতার মার্কা হাতি মার্কার পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছেন এবং যারা সরকারী মার্কার পক্ষে নির্বাচন করছে না, গতরাত থেকেই তাদের বাড়ীতে ট্রাক ভর্তি করে পুলিশ পাঠিয়ে সরকারী মার্কার পক্ষে নির্বাচন করার জন্য অযাচিতভাবে হুমকি ও হয়রানী প্রদান করা হচ্ছে। আমার নির্বাচনী পথসভায় অংশগ্রহণ করায় ধামঘর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব কামাল হোসেনের বাসভবনে হয়রানীমূলক তল্লাসী করা সহ তার কর্মচারীকে পুলিশ ধরে নিয়ে আসে। অনুরূপভাবে ২৭টি ওয়ার্ডে আমার সমর্থক ও নির্বাচন পরিচালনায় নেতৃবৃন্দকে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের দ্বারা হয়রানী করা হচ্ছে। যা সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রধান অন্তরায়। তিনি আরো বলেন,  আপনারা জানেন, শত শত বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগর এই নারায়ণগঞ্জ। অথচ সরকারদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মসজিদ ও মন্দিরের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে, ওয়াকফাকৃত সম্পত্তি বা দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর যোগ্য নয়। সেখানে শত বছরের প্রাচীন দেওভোগ লক্ষী নারায়ণ মন্দিরের সম্পত্তি কি করে বিক্রি হতে পারে? এই অভিযোগ ও আশঙ্কা খোদ এই শহরের হাজার হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে সরকারী দলের নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন। একই সাথে প্রায় সাড়ে ৫শ বছরের প্রাচীন মোঘলীয় মসজিদ তথা জিমখানা মসজিদের জায়গাও তিনি দখল করেছেন বলে, ঐ মসজিদ কমিটি ও ওয়াকফ এস্টেটের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে বহু নিরীক্ষন ও আইনী পর্যালোচনা করে দেখেছি, সেই মসজিদ ও ওয়াকফ এস্টেটের অভিযোগটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। কথা দিচ্ছি, এই প্রাচীন মসজিদ ও মন্দিরের দখল হয়ে যাওয়া জায়গা উদ্ধারেও ব্যবস্থা নেয়া হবে ইনশাল্লাহ। শুধু তাই নয়, অর্ধশত বছর ধরে রেলওয়ে কলোনীতে বসবাসকারী প্রায় অর্ধশত পরিবারসহ জিমখানা বস্তির প্রায় ৫ হাজার মানুষের মাথার ছাদ কেড়ে নিয়েছেন। সরকারী জমির সাথে সেখানে রেলওয়ে থেকে ক্রয়কৃত ব্যক্তিগত জমিও তিনি দখল করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্ণবাসন না করে একদিকে যেমন ছিন্নমূল মানুষকে গৃহহীন করা হয়েছে, পার্কের নামে ঠিকাদার সিন্ডিকেটকে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে, তেমনি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল ট্রেন লাইন প্রজেক্টকেও হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে।পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশন, ১৮ বছরে একটা ডাস্টবিন বানাতে পারেননি আপনি। বন্দর, শহর ও সিদ্ধিরগঞ্জের ড্রেনেজ জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে পারেননি, মশার যন্ত্রনায় নগরবাসী নিজেদের ভাগ্যকেই অভিশাপ দিচ্ছে। একটি সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের প্রধান মৌলিক অধিকার হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা। যেখানে ময়লা আবর্জনার ভাগার থাকবে না, জলাবদ্ধতা থাকবে না, মশা-মাছির উপদ্রব থাকবে না। অথচ পৌর আমল থেকে সিটি কর্পোরেশনের ১৮ বছর ক্ষমতাকালে নারায়ণগঞ্জের ময়লা ব্যবস্থাপনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যে সকল সাংবাদিক নাসিক পরিচালনায় মেয়রের ব্যর্থতা পত্রিকায় তুলে ধরেছে তাদের অনেককেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় পড়েছেন এবং কারাগারে যেতে হয়েছে। সত্যের প্রয়োজনে কথাগুলি বল্লাম। নগরবাসী বিবেচনা করে দেখবেন। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অপরাপর বাকি মেয়র প্রার্থীদের প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই যে, নৌকা মার্কার প্রার্থী ১৮ বৎসর যাবৎ নারায়ণগঞ্জের মেয়র পদে দায়িত্বে আছেন। কিন্তু বিগত ১৮ বছরে নারায়ণগঞ্জের মানুষকে দুর্ভোগ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেননি। অপরাপর সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী হওয়ায় শুরু থেকেই রাষ্ট্রযন্ত্র তার পক্ষেই কাজ করছেন এবং তিনি নিজেও শুরু থেকেই সেই সুবিধা নিয়ে একের পর এক আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। শুধু তাই নয়, পদত্যাগী হওয়া সত্বেও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মারীদের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণকারীও তিনি। তার সরকারী দেহরক্ষী, পিএস, গার্বেজ ট্রাক, কর্মচারীরা তার প্রচারনায় অংশ নিয়ে সেটিও প্রমাণ করছেন। এছাড়াও নাসিকের ঠিকাদার কন্ডাক্টরগনই প্রতিটি ওয়ার্ডে নৌকা মার্কায় নির্বাচন পরিচালনা করছেন। প্রচারনায় নেমে হাজার হাজার নগরবাসীর মাঝে আমি যে ক্ষোভ ও কাংখিত সেবা না পাওয়ার যন্ত্রনা অবলোকন করছি, হাজার হাজার নগরবাসীর মাঝে যেসকল প্রশ্ন শুনে উত্তরহীন হয়ে পড়েছি, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি লাখ লাখ নগরবাসীর পক্ষে সে সকল প্রশ্নের অতি স্বল্প সংখ্যক প্রশ্ন আপনাদের মাধ্যমেই আজ রাখতে যাচ্ছি। সিটি কর্পোরেশনের একজন বাসিন্দা হিসেবে, একজন করদাতা হিসেবে এসব প্রশ্নের উত্তর আমিও জানতে চাই। বিলুপ্ত পৌরসভা থেকে বর্তমান সিটি কর্পোরেশনের দেড় যুগে, উন্নয়ন নামের নাগরিক সুবিধার যে ভেলকিবাজি আর শুভাঙ্করের ফাঁকি দেয়া হচ্ছে, আমিও একজন নাগরিক হিসেবে আজ সেই হিসাব কষতে চাই। কি করে একজন মানুষ সততার বুলি আওড়ানোর পর রাজপ্রাসাদ গড়ে তুলতে পারেন, আর কি করে জনগনের অধিকারকে সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি করতে পারেন? সাংবাদিক সম্মেলনে মেয়র থাকাকালীন সময়ে আইভীর কিছু বক্তব্য যা বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দু’টি ধারায় বিভক্ত হলেও আমি সর্বঅবস্থায় সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে দেখি এবং তাদের নিয়ে মন্তব্য করার বিষয়ে অত্যন্ত সর্তক থাকি। একজন মেয়রকে অত্যান্ত দায়িত্বশীলতার সাথে কথা বলতে হয়, নতুবা এর প্রভাব নগরবাসীর উপর পরে। ২০১৩ সালে ২২শে আগস্ট মেয়র আইভী বলেছেন, “দুই নেত্রী দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।” ২০১৩ সালের ২রা মে তিনি বলেছেন, “বর্তমান সরকার নারায়ণগঞ্জে খুনীদের পৃষ্ঠপোষক।” ২০১৩ সালে ১লা সেপ্টেম্বর বলেছেন, “রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গডফাদাররা খুন করে বেড়াচ্ছে।” ২০১৪ সালে ১৩ই জুন দৈনিক প্রথম আলোর গোল টেবিল বৈঠকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি মনে করে ৬৪ জেলায় ৬৪ জন গডফাদার থাকলেই তাদের কাজ হয়ে যাবে।” ২০১৯ সালে ৬ই মার্চ জিমখানা বিনোদন পার্কে আপনি বলেছিলেন, “সাগর-রুনির ব্যাপারে আমরা অনেকেই জানি, অনেক কিছু জড়িত। তনু হত্যার বিচার কেন হচ্ছেনা সেটাও কমবেশী মানুষ বুঝতে পারে যে কারা জড়িত।” যদি উক্ত হত্যা কান্ড সম্পর্কে জানা থাকে অবশ্যই তা জনসম্মূখে প্রকাশ করলে জনগণ অবশ্যই আপনাকে ধন্যবাদ জানাবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দয়ায় ২০১১সালে আপনি মেয়র হয়েছেন। আপনার মতে যে দল গডফাদার, খুনী লালনপালন করে, যে দলের নেত্রী দেশ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় সেই দল আপনি করেন কেন? আপনি তো সেই দলের মনোনীত প্রার্থী। সেই দলের মার্কা নিয়েই তো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এবং এখনো নির্বাচন করছেন। নারায়ণগঞ্জ শহর এখন যানজটের নগরী। যানজটের কথা উঠলেই আপনি বলেন সেটা ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের কাজ। যানজট নিরসন আপনার কাজ না। অথচ শত শত কোটি টাকায় ফ্ল্যাট আর দোকান বানিয়ে বানিজ্য না করে কিছু টাকা দিয়ে স্বেচ্ছাসেবী বা কমিউনিটি পুলিশ রাখলে শহরকে যানজট মুক্ত করা যেত। মীরজুমলা সড়কটি এখন কাঁচামাল ব্যবসার মোকামে পরিণত হয়ে আছে। যার ফলে ছোট এই শহরে একটি সড়ক বন্ধ হওয়ায় যানজট বেড়েছে। এখানে ভোর থেকে সকাল অবধি সেখানে যানচলাচল তো দূরে থাক, মানুষ চলাচলই দ্বায়। শোনা যায় আপনার নিজস্ব লোকজনের তোলাবাজির কারণে সেই মীরজুমলা সড়ক এখনও নগরবাসীর যানজটের কারণ। হাজার হাজার হকারের পেটে লাথি না দিয়ে তাদেরকে পুনর্বাসন করা যেত। আমি মনে করি সিটি কর্পোরেশনকে আপনি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান থেকে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে তৈমূর আলম খন্দকার ছাড়াও বক্তব্য রাখেন, এ সময় তৈমুর আলমের সাথে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা জামাল উদ্দিন কালু, সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, হাজী ফারুক হোসেন, হাজী নুরুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সবুর খান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি কামাল হোসেন প্রমুখ।

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *