Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

সদর আ’লীগ কমিটির অনুমোদন দিতে হাই-বাদলের ২০ লাখ টাকা দাবি!

১০ নভেম্বর, ২০২১ | ৯:১১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 77 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে আসছিলো। নীতি ও নেতার তোয়াক্কা না করেই তারা নানা সময়ে নানা রকম সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দিয়েছেন, এমন অভিযোগও ছিলো অনেক নেতাদের। এবার তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলেছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আল মামুনের অভিযোগ, জেলা সভাপতি আব্দুল হাই ও সেক্রেটারি আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল তার কাছ থেকে কমিটি অনুমোদনের জন্য ২০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। সে টাকা তিনি দেননি বলে আজও পর্যন্ত সদর থানা আওয়ামী লীগের কমিটি তারা অনুমোদন দেননি। সূত্র বলছে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর গেল ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সদর থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ডিক্রিচর মাঠে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে নাজির উদ্দিন আহম্মেদকে সভাপতি ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সেক্রেটারি নির্বাচিত করা হয়েছিলো। দুই সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠনের দেড় বছর পর তথা চলতি বছরের পয়লা জুন তারা দুজন ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদনের জন্য জেলা কমিটির কাছে প্রেরণ করেন। থানা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুনের অভিযোগ, ওই কমিটি অনুমোদনের জন্য জেলা সভাপতি ও আব্দুল হাই ও সেক্রেটারি আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। ওই টাকা তিনি দেননি বলে আজও পর্যন্ত তাদের প্রেরিত ওই কমিটি অনুমোদন করেননি তারা। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়েও ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিলো কমিটির সভাপতি নাজির আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে। অর্থের বিনিময়ে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটিতে নব্য আওয়ামী লীগার, এমনকি বিএনপিপন্থিদের সমন্বয়ে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য জেলা কমিটির কাছে প্রেরণ করেছিলেন তারা। এসব অভিযোগ তুলে একই বছরের ৩ জুন গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজ মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এবিএম আজহারুল ইসলাম এবং আলীরটেক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান সরকার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন। তাদের সেই লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিলো, থানার সভাপতি নাজির উদ্দিন আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে কমিটিতে তার দুই ছেলের একজন আবু সাঈদ শিপলুকে সহপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং অন্য ছেলে আরিফ হোসেন বিপুলকে সদস্য হিসেবে রেখেছেন। অথচ তারা কোনোদিনই আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এছাড়া থানা কমিটির দ্বিতীয় সহসভাপতি পদে রাখা হয়েছিলো ফজর আলীর নাম। তিনি আওয়ামী লীগ কখনই করতেন না। অর্থের বিনিময়ে দলে সদস্য হয়েই সহসভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নাম রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জনতা ব্যাংকের সাবেক কর্মচারী এসএম মোসলেহ উদ্দিন বিএনপিপন্থি সিবিএ নেতা ছিলেন। তাকেও ওই কমিটির সদস্য পদে রাখা হয়েছে। তাদের অভিযোগ থেকে আরও জানা গেছে, প্রস্তাবিত ওই কমিটিতে সানু মিয়া মাতবর ও তার ছেলে মিয়া সোহেলকে যথাক্রমে সহসভাপতি ও সদস্য; আনিছুর রহমান এবং তার ভাই মাহবুবুর রহমান পাপ্পুকে যথাক্রমে সহদপ্তর সম্পাদক ও সদস্য, আতাউর রহমান রতন, তার ভাই সাঈদ রহমানকে সদস্য, আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কাজ করা বশির শিকদারকেও সদস্য, দলে নতুন সদস্যপদ পাওয়া মোস্তফা কামাল, গাজী কামাল ও আবুল হোসেনকে যুগ্ম সম্পাদক। আবার জসীম উদ্দিন ও দাউদ চেয়ারম্যান নামে দুজন স্থানীয় বাসিন্দা নন, তারপরও তাদেরকে ওই প্রস্তাবিত কমিটিতে সদস্য পদে রাখা হয়েছে। এছাড়াও অপরিচিত সুলতানা নামক এক নারীকে মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কমিটিতে তালিকাবদ্ধ করা হয়েছিলো। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ফজর আলীর পক্ষে কাজ শুরু করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। এই ইউনিয়নে নৌকার মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন। নৌকার বিরোধীতা করায় জেলা আওয়ামী লীগ থেকে শোকজ করা হয় সদর থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। গত সোমবার তিনি শহরের দুই নম্বর রেল গেট এলাকায় দলীয় কার্যালয় থেকে শোকজের সেই চিঠি সংগ্রহ করতে এসেছিলেন। আর তখনই তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সেক্রেটারি আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। এ সম্পর্কে জানতে নারায়ণগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সেটি রিসিভ করেননি। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে আব্দুল্লাহ আল মামুনের অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের মুঠোফোনে একাধিকবার সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হলেও তার সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারেনি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *