Home » শেষের পাতা » মেয়াদি সুদের ফাঁদে জিম্মি হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী

সদর উপজেলা নির্বাচন হবে কি?

২৭ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 114 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আটকা ছিল ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন। এরই মধ্যে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এখনও আটকে আছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাচন। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাবাসীর চাওয়া ফতুল্লা ইউনিয়নের মতো যেন সদর উপজেলার নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। অচিরেই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাচন চায় ভোটাররা। মামলার জটিলতার কারনে ১৩ বছর যাবত সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে না। এ অবস্থার সমাধান হওয়ায় দ্রুত সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন চায় উপজেলাবাসী। সূত্র বলছে, গত ৩০ বছর ধরে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আটকে রেখেছিলো আদালতে দায়ের করা রিটের মাধ্যমে। এতে পক্ষে ও বিপক্ষে দায়ের করা দুই মামলার বাদীরা হলো- ফতুল্লার কুতুবআইল (ইরান গার্মেন্ট সংলগ্ন) এলাকার মৃত, হাসান আলী মাতবরের ছেলে কদর আলী মাতবর অপরজন পার্শ্ববর্তী বাড়ির মৃত. সোহরাফ মাতবরের ছেলে হানিফ মাতবর। তারা দুজন একই দিন তৎকালীন ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর হোসেন ও ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মালেক মেম্বারের অপকৌশলে পড়ে ১৯৯৬ সালে হাই কোর্টে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন আদালত। এ মামলা দায়েরের পর ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর চেয়ারম্যান নূর হোসেনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে গত ১০ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়নে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। যার ফলে দীর্ঘ ৩০ বছর পর ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে আদালতে দায়ের করা রিট নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় ৪র্থ ইউপি নির্বাচনে সদর উপজেলার এই ইউনিয়নটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সাথে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাচন নিয়েও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন উপজেলাবাসী। সূত্র বলছে, সর্বশেষ ২০০৯ সালের জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। সে নির্বাচনে বিএনপির আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন যাঁর বিরুদ্ধে বিগত দিনে সরকার দলের নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে কর্মকান্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। আর এই সুযোগে গত মেয়াদে সীমানা সংক্রান্ত মামলার অজুহাতে নির্বাচন না হওয়ায় উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান হিসেবে আজাদ থেকে যান এবং আজ অবদি বহাল রয়েছেন তিনি। অথচ এই মামলা নিয়ে রয়েছে অনেক তর্ক বিতর্ক। ২০১৯ সালের প্রথমদিকে উপজেলা নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখা গেলেও সর্বশেষ ওই বছরের ২১ জানুয়ারী ইসি থেকে পাওয়া তথ্যে অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের ৪টি উপজেলার নাম পাওয়া গেলেও সেখানে সদর উপজেলার ছিল না। ওই বছরে ঢাকা অঞ্চলে ৩৪ উপজেলার মধ্যে ৩৩ টি উপজেলায় ভোট হওয়ার কথা থাকলেও শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাটি বাদ থেকে গিয়েছিল। যার সূত্র ধরে সীমানা সংক্রান্ত মামলার কারণে ওই মেয়াদেও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন আটকে যায়। এখনও সেই অবস্থায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা। এদিকে সদর উপজেলাবাসীর প্রধান চাহিদা হিসেবে পরিণত হয়েছে সদর উপজেলার নির্বাচন। তাদের মতে এভাবে একটি উপজেলা বছরের পর বছর নির্বাচনবিহীন থেকে এটা কেমন বিষয়। আমরা রাষ্ট্রের নাগরিক। আমাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। যেই নির্বাচিত হোক তাকেই আমাদের অভিভাবক হিসেবে পেতে চায়। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি বছরের পর নির্বাচন ছাড়া দায়িত্ব পালন করে যাবে এটা হতে পারে না।এর আগে সদর উপজেলার কিছু এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন হওয়ায় ওই সব এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ (২০০৯ সনের ৩০ জুন সংশোধিত) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার সদর উপজেলা পুর্নগঠন করে। ২০১৪ সালের ৪ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। এদিকে কয়েকটি এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলা গঠন হওয়ায় গত বছর ৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে একটি রিট করা হয়। যার পিটিশন নং- ৩০৮৯। এ রিট করেন ফতুল্লা চৌধুরী বাড়ির মৃত সুলতান বক্স চৌধুরীর ছেলে মো. আসাদউদ্দিন চৌধুরী, পশ্চিম মাসদাইরের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে বজলুর রহমান ও কাশিপুর উত্তর গোয়ালবন্দের হেলালউদ্দিন মুন্সীর ছেলে মো. হামিম মুন্সী। রিট আবেদনকারী ৩ জনই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। আসাদ চৌধুরী সম্পর্কে জানা গেছে, তিনি নিত্যান্ত একজন ছা পোষা লোক। লেখাপড়া তেমন জানেন না। ফতুল্লা ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও আজাদ বিশ্বাসের ভায়রা মোস্তাফিজুর রহমান রুমী চৌধুরীর ফুট ফরমাশ খাটে সে। ২নং আবেদনকারী বজলু তৈমূর আলমের ভাগ্নে ও ছাত্রদল নেতা রুশোর ভাই। অপরজন হামিম মুন্সী কাশিপুর গোয়ালবন্দ এলাকার যুবদল নেতা ও আজাদ বিশ্বাসের কর্মী বলে পরিচিত। তিনজন অপরিচিত মুখ দিয়ে আদালতে রিট করার পেছনের কারিগর বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এ কথা আড়ালে আবঢালে স্বীকার করেছেন অনেক বিএনপি নেতা।

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *