Home » প্রথম পাতা » গভীর রাতে বোট ক্লাবে কী করেছিলেন পরীমণি?

সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে!

০৭ জুন, ২০২১ | ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 125 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

করোনা নামক মহামারির প্রভাব নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক আকারে বিস্তার লাভ করেছিল। করোনার প্রার্দুভাব নিয়ন্ত্রন করাসহ সাধারন মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনও কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সম্মিলিত চেষ্টায় নারায়ণগঞ্জে করোনা মহামারির সেকেন্ড ঢেউয়ের প্রভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে চলে এসেছে। এমনকি করোনা মহামারির প্রভাব ঠেকাতে জেলা প্রশাসন যে সময় টাতে সাধারন মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে মাঠে কাজ করার কারনে অনেকটাই ভাটা পড়ে অপরাধী কিংবা তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের ক্ষেত্রে। বর্তমানে প্রেক্ষাপটে করোনা মহামারির প্রভাব নারায়ণগঞ্জে নিয়ন্ত্রনে আসার পর পরই জেলা পুলিশ প্রশাসন তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষনা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে জেলা পুলিশের সাড়াশি অভিযানে একাধিক তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারও হয়েছে। বর্তমানেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযানের কারনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বিতর্কিত নেতারা রয়েছেন বেকায়দার মধ্যে। দীর্ঘদিন দলের পদ-পদবী ব্যবহার করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন তারাই এখন রাজনীতিতে নিস্ক্রীয় হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিশাল বিশাল শোডাউনসহ দাপটের সাথে রাজনীতি করছেন তারাই। রাজনীতিতে তারাই অনীহা প্রকাশ করছেন। এরই মধ্যে দাপুটে অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় আত্মগোপনে চলে গেছেন। আর যারা প্রকাশ্যে রয়েছেন তারা রাজনীতিতে অনেকটা নিশ্চুপ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন ক্ষমতাশীন দলের বিতর্কিত নেতারা। জেলায় অপরাধীদের তালিকার শীর্ষে যাদের নাম রয়েছে এরা সকলেই ক্ষমতাসীন দলের নেতা অথবা নেতাদের শেল্টারে থেকে অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে আসছিল। টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষমতাসীনদের মধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিলো। জেলায় ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা, তেলচোর, পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি, ঝুঁট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজীসহ নানা অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের বিতর্কিত নেতারা। এতদিন এসকল বিতর্কিত নেতা দাপটের সাথে এলাকায় দাবড়িয়ে বেড়িয়েছেন তারাই এখন আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা শাহ নিজাম, নাজিম উদ্দিন, আব্দুল করিম বাবু, নজরুল ইসলাম, মীর হোসেন মীরু, শাহ আলম গাজী টেনু, চুন্নু, ভিকি, কামরুল ইসলাম মুন্না, কবির হোসেইন গ্যাড়াাকলে পড়েছেন। এছাড়াও আতঙ্কে রয়েছেন মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা জাকিরুল আলম হেলাল, শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মতিউর রহমান মতি, শাহজালাল বাদল, পরিবহন সেক্টরের নেতা আইয়ুব আলী, শরীফুল, সাইফুল্লাহ বাদল, মির্জা পাভেল, মেজর বাবুসহ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতা পুলিশের মনিটরিংয়ে রয়েছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এসব নেতারা সকলেই বৈধ-অবৈধভাবে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। নারায়ণগঞ্জে অপরাধ বৃদ্ধির নেপথ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের শেল্টার। অপরাধীরা সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত অথবা রাজনীতিকদের শেল্টারে থেকে নানা অপকর্ম করে আসছিল। রাজনৈতিক শক্তির কারণে সাধারণ মানুষ অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সাহস পেতেন না। কিন্তু পুলিশের অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে। অনেক রাঘববোয়ালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক পাওয়ারের কারণে অপরাধীরা বেশ দাপুটের সাথে দিন কাটালেও বর্তমানে পাল্টেগেছে দৃশ্যপট। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জকে অপরাধমুক্ত করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় কর্মরত ওসিদের নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম। এরপরই অপরাধীদের বিরুদ্ধে শুরু হয় পুলিশের বিশেষ অভিযান। অভিযানের শুরুতে ছোটখাট অপরাধীরা গ্রেফতার হলেও পরবর্তীতে উঠে আসে রাঘববোয়াালদের নাম। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জে অপরাধীদের যে তালিকা রয়েছে তার শীর্ষে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নাম। তাই বর্তমানে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ক্ষমতাসীনরা নিশ্চুপ রয়েছে এবং বিতর্কিতরা আত্মগোপনে চলে যাচ্ছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *