আজ: বুধবার | ৮ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৪শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | ভোর ৫:১৩

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

সন্ত্রাসীদের চেয়েও ভয়ংকর সোর্সরা

ডান্ডিবার্তা | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ১১:১৯

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ফতুল্লায় চাদাঁবাজ, সন্ত্রাসীদের চাইতে ও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথিত সোর্সরা। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীদের তথ্য দিয়ে সহায়তার নামে এরা নিজেরাই জড়িয়ে পড়ছে চাদাঁবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, অর্থ প্রতারনাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। তাছাড়া তারা বিভিন্ন চোরাই তেলের দোকান, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত-ছিনতাইকারী চক্রের নিকট থেকে নিয়মীত আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকে বলে জানা যায়। ফতুল্লায় যে সকল সোর্সরা আলোচিত তাদের মধ্যে অন্যতম আনোয়ার ওরফে সোর্স আনোয়ার, মনির হোসেন ওরফে সোর্স মনির, সোর্স পান্না, সোর্স আইনুল, সোর্স শান্ত, সোর্স শিবু। সোর্স আনোয়ার শুরুর দিকে বিগত চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের শাসনামলে ফতুল্লা থানার তৎকালীন এএসআই শহীদের সাথে কাজ করতো। নানা বিষয়ে মত পার্থক্য দেখা দেয়ায় সোর্স আনোয়ার কিছু দিন ফতুল্লা ছেড়ে অনত্র চলে যায়। কিছুদিন পর এএসআই শহীদ অনত্র বদলী হয়ে গেলে আবারো ফতুল্লা থানা এলাকায় ফিরে এসে বিভিন্ন দারোগার সোর্স হয়ে কাজ শুরু করে। এক সময় সে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এবং র্যা বের হয়ে সোর্সের কাজ করে। এরই মাঝে জেলার সকল অপরাধিদের নিকট সোর্স আনোয়ার হয়ে উঠে অন্যতম আতংকের কারন। আর এই বিষয়টিকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ী, অপরাধিসহ জেলার সকল মাদক স্পট থেকে নিয়মীত আর্থিক ফায়দা লুটা শুরু করে। এক সময় নিজেই নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে জেলার বিভিন্ন সড়ক পথের চোরাই তেলের কারবার। বর্তমানে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কসহ রূপগঞ্জের তিন’শ ফিট সড়কে, কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায়, কাচপুর এলাকা, সোর্স আনোয়ারের মালিকানাধীন বেশকিছু চোরাই তেলের দোকান রয়েছে। একই সাথে জেলার সকল চোরাই তেলের দোকান থেকে সোর্স আনোয়ার মাসোহারা নিয়ে থাকে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর জ্যাকেট গায়ে জড়িয়ে পায়ে পুলিশের কেডসহাতে ইলেকট্রিকস্টিক, কোমরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দাবড়িয়ে বেড়ানো মনির ওরফে সোর্স মনির জালকুড়ি এলাকায় বসবাস করলে ও ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলসহ দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় রয়েছে তার অবাধ বিচরন। সোর্স মনিরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে সে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে থাকে। তাছাড়া আর্থিক সুবিধা নিয়েনিরীহ ব্যাক্তিকে মিথ্যে মামলা দিয়ে আসামী করার চুক্তি করার কাজটি ও করে থাকে। থেমে নেই সোর্স পান্নার অপ তৎপরতা। নিজেকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সোর্স পরিচয় দিয়ে নিজেই মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার মাদক দ্রব্যসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে গ্রেফতার হয়ে হাজত বাস করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সোর্স পান্নার শেল্টারে ফতুল্লার রেলস্টেশন, খোঁজপাড়া, রিফুজিপাড়া, জোড়পুল ও ব্যাংককলোনী এলাকায় মাদক ব্যবসা করছে প্রায় ২ ডজন মাদক বিক্রেতা। অপরদিকে, আলীগঞ্জ, পাগলা এলাকা দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে সোর্স আইনুল ও শান্ত। এই দুই সোর্সের নিয়ন্ত্রণে আলীগঞ্জ ও পাগলা এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্ব স্ব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ। ফতুল্লার আলোচিত সোর্সদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শিবু। দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা থানা পুলিশের একাধিক টিমের সাথে সখ্যতা রেখে মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দিয়ে আসছে। মাদক ব্যবসার সাথে তার ভাই দিপুও সম্পৃক্ত রয়েছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। সোর্স শিবু ভাই দিপু বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে হাজতে ছিল। সচেতন মহলের মতে, এসব বিতর্কীত সোর্সরাই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ইমেজ ক্ষুন্ন করছে। এসব সোর্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *