Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

সবাই এখন আ’লীগার: শামীম ওসমান

১৪ নভেম্বর, ২০২১ | ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 95 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আসনের সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের ইউপি নির্বাচনে একটি পক্ষ লাশ চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে ঐ পক্ষের আশা পূরন হয়নি। ‘এখন বিভিন্ন সেক্টরের মানুষ রাজনীতিবিদদের জ্ঞান ও অংক বুঝাতে চায়। আমরা যারা রাজনীতি করি এবং সত্যিকারের রাজনীতি করি, হাইব্রিড না; তারা কিন্তু মাটির গন্ধ শুকলেই বুঝতে পারি। এই মাটিতে কি হতে পারে, কি হবে? কি ভাবে হবে, কার অবস্থান কি? সেটা আমরা বুঝতে পারি। আর বুঝতে পারি বিধায়, আমি নির্বাচনের দু’দিন আগে প্রেস ব্রিফিং করেছিলাম। সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেই কথা মানুষের মাঝে পৌছে গিয়েছিল। আমাদের কাছে যে তথ্য ছিল, সেটার কিছু প্রমান আমরা গত ১১ তারিখের নির্বাচনে পেয়েছি। এখানে বিশেষ করে একটা পক্ষ বন্দরের একটি এলাকা ও আমার নির্বাচনী এলাকায় বিশৃঙ্খলা করে আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছিল। এটা খুব বেশি ছিল, তারা চেয়েছেল এখানে ‘একটা লাশ’। এরা হয়তো এই নির্বাচনের সাথে জড়িত-ই না। কিন্তু তাদের আগামীর নির্বাচনের হিসাব নিকাশ মিলিয়ে এ ধরণের একটা বাজে ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁয়ের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদেও পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন। শামীম ওসমান আরও বলেন, রাজনীতি দু’ ধরণের মানুষ করে। এক ধরণের মানুষ হচ্ছে রাজনীতি করে মানুষের জন্য, আরেক ধরণের মানুষ রাজনীতি করে নিজের জন্য। যারা রাজনীতি নিজের জন্য করে, আমি মনে করি, তাদের চেয়ে নিম্ন মানের মানুষ আর কেউ নাই। আর যারা রাজনীতি মানুষের জন্য করে, আমি মনে করি, তাদের চেয়ে উচুঁ মনের মানুষ আর কোথাও নাই। চেষ্টা করতে করতে এই পর্যন্ত আসছি। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই, আপনাদের অনেকেরই ধরতে গেলে শরীর অচল, চলছেই না। আমি আমার পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে তাদের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা নির্বাচিত হয়ে সবার প্রথম বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, এরপর নিজেরাই আমার পরিবারের প্রয়াত ব্যক্তিদের কবর জিয়ারতের প্রোগ্রাম করেছেন। এখানে বিভিন্ন দলের লোক আছেন, জাতীয় পাটির নির্বাচিত প্রার্থী রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন। তিনি বলেন, কিছু দিন আগে আমার কাছে মনে হয়েছিল, সন্তান হিসেবে বেঁচে থাকাটা আমার জন্য কষ্টকর। আমার বাবা, মা, বড় ভাইয়ের কবরে শ্মশানের মাটি দেওয়া হয়েছিল। কোন মুসলমানই চাইবে না, কোন হিন্দুর সায়িত স্থানে গরুর রক্ত দিতে, বা গরু কুরবানি দিতে। ঠিক একই ভাবে আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কবরের ভিতরে শ্মশানের মাটি দেওয়াও সঠিক কাজ না। এবং সেটাই দেওয়া হয়েছিল। কে দিয়েছেন, কেন দিয়েছেন, আমি জানি না। আমি তখনও বলেছি, আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যমান জিনিস হচ্ছে পবিত্র কোরআন। এটা কোন মানুষের কাজ না। কোন হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ এ কাজ করবে না। এটা করবে ইবলিশ শয়তান। এটার মাধ্যমে যেটা করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটা কিন্তু সফল হয়নি। চট্টগ্রামে ঘটনায় কারা গ্রেপ্তার হয়েছে? কোন হুজুরতো গ্রেপ্তার হয় নাই। কোন মৌলভী সাহেবতো গ্রেপ্তার হয় নাই।  এ কাজ করেছে মানুষের শত্রু, মানবতার শত্রু। এদেরকে কি নামে ডাকবো, আমরা জানি না। এ কাজ গুলো যারা করে, তাদেরকে আমি মনে করি, ইবলিশের প্রতিনিধি। আমার এই কষ্টটা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মেনে নিতে পারবো না। এমপি শামীম ওসমান বলেন, আমি কৃতজ্ঞতা জানাই, আপনারা নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতিনিধি হয়ে এসেছেন। আপনারা আল্লাহর হুকুমেই জনগণের প্রতিনিধি হয়েছেন। যে হয় নাই, উনিও আল্লাহর হুকুমেই কিন্তু হয় নাই। এই খানে আমি মনে করি, ১০ বারো লাখ লোকের প্রতিনিধি আমার বাবা, মা ও ভাইদের কবরে দোয়া করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে, আপনাদের জন্য, আপনাদের পরিবারের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন, আপনাদের সকলের উপর যেন রহমত দেন। বরকত দেন। দীর্ঘায়ূ করেন। এবং সুস্থ্যতা দেয়। আপনারা যাতে মানুষের জন্য এমন ভাবে কাজ করতে পারেন, যাতে মানুষের অন্তর থেকে আপনাদের জন্য দোয়া আসে। আমাদের এটাই সবচেয়ে বড় চাওয়া ও পাওয়া। আজকে এখানে হঠাৎ করেই এসেছেন, এখনও গেজেট হয় নাই। আমরা জানি, কিছু কিছু জায়গায় ঝামেলা হচ্ছে। আমাদের দেলোয়ার ভাই আছেন এখানে, এখানে আমাদের আরেক বড় ভাই কাজিম উদ্দিন ভাই। আমি যাকে অনেক ভালোবাসি। অল্প ভোটের ব্যবধানে উনি হেরে গেছেন। আমি আসলে খবর দিতে পারি নাই, পারলে উনি আসতেন। আমি অনুরোধ করবো দেলোয়ার ভাইকে, আপনি আপনাদের এলাকার এমপির মাধ্যমে তাঁর গলায় ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিবেন। আমি মনে করি, এটাই হলো সৌর্ন্দয্য। এখানে আমাদের ফজর আলী ভাই আছেন। গোগনগরে জসিম ভাইকে বুকে টেনে নিবেন। এবং একসাথে মিলে কাজ করবেন। উদ্দেশ্য তো একটাই, সবাই মিলে কাজ করা। এই উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে আমরা আশা করি কাজ করবো। তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনও চেষ্টা করেছে, যাতে ফ্রি এন্ড ফেয়ার নির্বাচন হয়। নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে খুন হয়েছে। নরসিংদীতে ৩ জন, ওখানে চার জন, ৫ জন নিহত হয়েছে। সারাদেশে ৩০-৪০ জন নিহত হয়েছে। আর আহতের তো শেষ নাই। নির্বাচন যখন শেষ পর্যায়ে, অর্থাৎ ৩টা বাজে। আমি এনায়েতনগর এলাকার ভোটার। আমি ভোট দিতে যাবো। আমি কবরস্থানটা পার হয়েছি। এর মধ্যেই আমি শুনলাম, র‌্যাবের সদস্যরা কোন বিশৃঙ্খলা না থাকলেও ছাত্রলীগের সভাপতির সাথে ভূল বুঝাবুঝি হউক আর যে কারণেই হউক, সেখানে সাজানো একটা ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি গেছি, যাওয়ার পরে অফিসাররাও বুঝতে পেরেছেন, এটা সাজানো ঘটনা। আমরাও সেটা যেখানে জানানোর দরকার, জানিয়েছি। এ ঘটনাটা সাজানো হয়েছিল, আমাদের ওই এলাকার সভাপতি কামাল ওখানে আছে, তার সামনেই। আমি যদি ৫ মিনিট পরে যেতাম, হয়তো, এই সাজানো ঘটনা আরও অনেক বড় করে সাজানো হতো। বাংলাদেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ছাত্রলীগ, কতটা সভ্য, কত সুন্দর। তারা কোন থানায় যায় না। সানিদের সময় থেকে এখন পর্যন্ত কোথাও ছাত্রলীগের নামে একটা প্রশ্ন কেউ করতে পারেনি। তাঁরা সরকারি দল, কোন রকম প্রমান করে না। শামীম ওসমান বলেন, কিছু অনিবন্ধিত পত্রিকা, তাদের গাড়িও দেখিছি সেখানে। মনে হলো, সবকিছুই যেন একদম ফিটফাট। এখন গাছের পাতায় পাতায় আওয়ামী লীগ, এমন আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে সব সেক্টরে। মাঝে মাঝে আমার, খোকন সাহা বা চন্দনদের মনে হয়, আমরা মনে হয় আওয়ামী লীগ করি না। জামাত-বিএনপি করি। এখন আমরা নারায়ণগঞ্জকে সুসংগঠিত করবো। আসুন আমরা সবাই মিলে এই নারায়ণগঞ্জটাকে সুন্দর নারায়ণগঞ্জ হিসেবে গড়ে তুলি। আমরা কিন্তু চাইলেই পারি। দু’ একটা জায়গায় শুধু চুনের ফোটার কারণে পারছি না। নারায়ণগঞ্জ শহর একটা ডেড সিটি হয়ে আছে। নারায়ণগঞ্জ বলে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী এলাকা। কিন্তু শহরের দিকে তাকালে দেখা যায়, এরচেয়ে দৈন অবস্থা আর কোথাও নাই। আমরা সমস্ত বড় বড় কাজ গুলো এনেছি। এখন মেডিকেল কলেজটাকে আনতে পারলে আলহামদুলিল্লাহ। বন্দরটা বন্দর নগরীতে আবার ফিরবে। সেখানে সেলিম ওসমান এমপি। মানুষতো সব খাওইন্না পার্টি। উনি নিজের পকেটের টাকা দিয়ে যে ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। অর্থাৎ একটা জাতির মূল মেরুদন্ডই হচ্ছে শিক্ষা। জনগণের প্রতিনিধির কাছে জনগণ কি চায়? একটা জিনিসই চায়, যে তুমি আমার কথা বলো। তুমি আমার সমস্যাটা বলো। আমার প্রবলেমটা বলো। রাস্তা ঘাটের চেয়ে বেশি চায়- আমি যখন সমস্যায় থাকবো, আমার কাধে হাত দিয়ে বলো, আমি তোমার সাথে আছি। এই টুকুই মানুষ চায়, এটার নামই দোয়া। ওই দোয়াটা যদি কবুল হয়, তাহলে আমার মনে হয়, ইহকালেও খুশি হওয়া যায়, পরকালেও আল্লাহ সুবহানাতায়ালা হয়তো ভালো অবস্থায় রাখবেন। তিনি আরও বলেন, আমি যেহেতু ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা। সিদ্ধিরগঞ্জে যেহেতু ইউনিয়ন নাই। তাই আপনাদের বন্দরের চেয়ারম্যান মেম্বার, সোনারগাঁয়ের  চেয়ারম্যান- মেম্বার ও গোগনগর আলীরটেকের চেয়ারম্যান-মেম্বার ভাইদেরকে আমাদের ফতুল্লা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমরা আপনাদের দাওয়াত দিবো। আমরা দু’টা ডাল ভাত খাবো। আয়োজন করবে, ফতুল্লার লোকেরা। এবং সেই দিনই কি করা যায়, সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। তিনি বলেন, এখানে কিছু পত্রিকা আছে, চরিত্র হনন করে। নির্বাচনের আগে দু’তিনটা পত্রিকা আপনাদের চরিত্র হননের জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। জামাত শিবিরের পত্রিকা, এগুলো করে লাভ হয় না। আর আমার বিরুদ্ধে তো বাংলাদেশের বহুত বড় বড় পত্রিকা এগুলো করার চেষ্টা করেছে, কিছুই হয় নাই। আমি এগুলোকে পড়িও না, দেখিও না, গুনিও না। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি বাবু চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাইফউল্লাহ বাদল, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তবলী ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শওকত আলী, কুতুবপুরে ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ফজর আলী, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন, বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এহসানউদ্দিন আহমেদ, মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, বারদী ইউনিয়ন পরিষদের বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুল, কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, সানমন্দি ইউনিয়ন পরিষদের বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান জিন্নাহ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, জেলা শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক আব্দুল কাদির, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভুঁইয়া সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, মহানগর কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান লিটনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নবনির্বাচিত মেম্বারগণ।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *