Home » প্রথম পাতা » রূপগঞ্জ ভ’মি অফিসে অনিয়মই যেন নিয়ম

সব জায়জায় দাপট চলে না

১২ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:১১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 98 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

হাবিবুর রহমান রিয়াদ। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি তিনি। নারায়নগঞ্জের ছাত্র রাজনীতিতে বেশ দাপট তার। সেই দাপটে এনায়েতনগর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে খেয়েছেন গণধোলাই। সেখান থেকে বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্র সহ কয়েকজনকে আটকে র‌্যাবের কাছে দেওয়া হয়েছে। জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নির্বাচন ভোট চলাকালে প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে টয়লেটে প্রায় ১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি ও অনুগামীরা। পরে বিজিবি ও র‌্যাবের অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১১ নভেম্বর বেলা ১২টার দিকে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ শতাধিক লোকজন নিয়ে ৬৯নং পশ্চিম মাসদাইর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশ করে। তারা ৪নং বুথে গিয়ে সকলকে মেম্বার প্রার্থী শাহজাহান মাতবরের পক্ষে ভোট দিতে আহবান ও স্লোগান দেন। এখানকার বর্তমান মেম্বার জাকারিয়া জাকির অভিযোগ তুলেন রিয়াদ লোকজন নিয়ে শাহজাহান মাতবরের পক্ষে সীল মারছে। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ধাওয়া করলে রিয়াদ একটি কক্ষে অবস্থান করেন। এক পর্যায়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানদিয়ে ছাত্রলীগের লোকজন প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে পুলিশ গিয়ে বাধা দেয় ও ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। তখন তারা ধাওয়া খেয়ে স্কুলের টয়লেটে গিয়ে অবস্থান নেন। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তারা। পরে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। বেলা ১টায় সেখানে যান বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা। ওই সময়ে পুলিশ রিয়াদকে ছেড়ে দিলে চলে যান। এর কিছু সময়ে পরেই ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে দুই মেম্বার প্রার্থীকে শাসিয়ে দেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম। এরপরই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের থেকে বিপুল সংখ্য স্ট্যাম্প ও ছোড়া উদ্ধার করেছে র‌্যাবের একটি টিম। ওই সময়ে আটক করা হয়েছেন তিনজনকে। অরাজকতা ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টার সময়ে ছাত্রলীগ নেতাদের বেধড়ক পিটুনীর কিছুক্ষণ পরেই সেখানে হাজির হয়ে এর কৈফিয়ত চানতে চান এমপি শামীম ওসমান। সেখানে থাকা র‌্যাব কর্মকর্তারা শামীম ওসমানকে জানান, কাউকে পেটানো হয়নি। বরং সেখান থেকে বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্র সহ কয়েকজনকে আটকে র‌্যাবের কাছে দেওয়া হয়েছে। এসময় শামীম ওসমানের কাছে অভিযোগ করে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ বলেন, ‘আমাদের কুকুরের মতো পিটিয়েছে’। তখন শামীম ওসমানের র‌্যাব সদস্যকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন ‘আপনি, আমাদের ছাত্রলীগের জয়েন্ট সেক্রেটারীকে মারছেন! এখন নারায়ণগঞ্জ আপনি সামাল দেন। দেখি আপনি পারেন কিনা আর আমি পারি কিনা। আপনি ছাত্রলীগের জয়েন সেকেটারীকে চোরের মতো মারবেন? জবাবে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘ওদের কে মারি নাই স্যার। ওরা দেখেন এসব জিনিসপত্র নিয়ে (ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঠা দেখিয়ে বলেন) ও ওখানে ককটেল আছে। তারা এখানেই ছিল। আপনি সবাইকে জিজ্ঞাসা করেন। ব্যাপারটা ওইরকম নয় ‘স্যার’। চোরের মতো পিটানো হয় নাই স্যার। তাদের প্রতিহত করা হয়েছে। এগুলো নিয়ে আসায়। এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়নে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সেই সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছিল মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ। তবে প্রশাসনের কঠোরতায় তা সম্ভব হয়নি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *