Home » শেষের পাতা » হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সড়ক-মহাসড়কে চলছে চাঁদাবাজী

সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা

১১ আগস্ট, ২০২২ | ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 76 Views

নাসির উদ্দিন

নারায়ণগঞ্জে সরকার বিরোধী আন্দোলন জোড়ালো হয়ে উঠছে। এবার সরকারের শরীকদল জাতীয়পার্টিও সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। বিএনপি, বামদল ও ইসলামী দলগুলি বছর জুড়ে সরকারের বিপক্ষে অবস্থা নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এবার নতুন করে যোগ হয়েছে জাতীয়পার্টি ও গণতন্ত্র মঞ্চ। সরকার বিরোধী দলগুলি বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করলেও এবার দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, জ্বালানী তেলে মূল্য বৃদ্ধিসহ ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি নিয়ে দিন দিন আন্দোলন জোড়ালো হচ্ছে। আর এ আন্দোলনকে আওয়ামীলীগ নেতারা বিভিন্ন সভা সমাবেশে উন্নয়ণশীল সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করছেন। এদিকে সরকার বিরোধী আন্দোলনগুলি ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া পড়তে শুরু করেছে। এর অন্যতম কারণ দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি। বর্তমানে দেশে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশী অসুবিধায় পড়েছে মধ্যম আয়ের মানুষগুলি। যার করণে এখন সরকার বিরোধী আন্দোলনগুলি সাড়া পেতে শুরু করেছে। এতদিন যারা সরকারের গুনগান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবার তারাও সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। আর এই ইস্যূ জোড়ালো হলে সরকার বেকায় পড়তে পারে বলে অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। গত মঙ্গলবার বন্দরে জেলা ও মহানগর জাতীয়পার্টি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। জেলা জাতীয়পার্টির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু বলেন, বর্তমান সরকার আত্মঘাতী ভাবে রাতের অন্ধকারে সারা বাংলাদেশের চলমান অবস্থাকে বন্ধ করে দিয়েছে।  যার সাথে আমাদের ভাগ্য চাকা ও রিজিকসহ মেহনতি মানুষের, গরিব মানুষের যে প্রতিটি পণ্য, বিভিন্ন স্থান থেকে, জেলার থেকে আসতে যে চাকা ঘুরতে হয়, সেই তেলের দাম প্রতি লিটারে ৪৫ টাকা রাতের অন্ধকারে বৃদ্ধি করেছেন। আমরা এর প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানাই। কারণ গুরুত্বপূর্ণ যে খাদ্য সামগ্রী সেটা ঐ রাত্রেই বাসভাড়াসহ নিত্ব প্রয়োজনীয় জিনিস বেড়ে গিয়েছে।  এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তাই জনগণ আমাদের এখন চায়। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বলি, আপনার উন্নয়নের ছোঁয়া আমার প্রতিটি এলাকায় আছে। প্রতিটি এলাকায় আপনার উন্নয়ন আর উন্নয়ন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা বাংলার মানচিত্র পাল্টিয়ে ছিল।  পেটে ভাত না থাকলে  আমরা মানচিত্রে দিয়ে কি করবো, মানুষ চায় বাঁচতে। বাংলার প্রতিটি এলাকায়ে উন্নয়ন আছে, কিন্তু প্রতি লিটার ৬৪ টাকা বৃদ্ধি করে আজকে বাংলার মানুষের ভাগ্য নষ্ট করে দিয়েছে।  কে কি খাবে, না খাবে আজকে সাধারণ ক্রয় ক্ষমতার মানুষের ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছে। আজকে  ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি লোক হলো মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত  পরিবারের। ধনী কয়জন আছে, আর কয়টি পরিবার ধনী। মহানগর জাতীয়পার্টির সভাপতি মোদাচ্ছেরুল হক দুলাল বলেন, আমাদের এই প্রতিবাদ সভা মূলত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সভা। আমাদের পেটের তাড়নার সভা। আজ দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়, খাদ্য দ্রব্য থেকে শুরু করে সব কিছুতে দাম বেড়েছে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, অনতি বিলম্বে তেলের দাম স্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও তারাব পৌরসভা বিএনপি’র আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন বলেছেন, সরকারের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। সরকার দেশকে শ্রীলংকা বানিয়ে ফেলছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেছে। সাধারণ মানুষের কাছে মরার উপর খাঁড়ার ঘা। মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের আদালতের বারান্দায় বারান্দায় ঘুড়ানো হচ্ছে। এসকল মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের দমন করা যাবে না। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশের হারানো গনতন্ত্র পুনঃ উদ্ধার করা হবে। সেই সাথে কারাবন্দি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার মানুষের ন্যূনতম অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাটুকুও খর্ব করেছে। গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার থেকে দেশের মানুষকে বঞ্চিত করেছে। দেশের আইন, প্রশাসন সকল কিছু কুক্ষিগত করে ব্যবহার করছে জনমানুষের বিপক্ষে। এই সময়ে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই পারে এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি দিতে। সংঘবদ্ধ লড়াই ছাড়া আর কোনো বিকল্প নাই। এদিকে মন্ত্রী গাজী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি থামিয়ে দিতে চায়। আজ বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য দেশকে ধাপে ধাপে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছেন যা বিশ্বের মানুষের কাছে এক উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত, যার সব কিছু সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারনে। তিনি জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সব সময় কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর যে চেষ্টা করছে আমরা কখনই সেটা করতে দিব না। বিএনপি’র সকল ষড়যন্ত্রকে দেশের মানুষ আর সমর্থন করেনা। তাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও শক্তিশালী করতে হবে। সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা শুধু চাপাবাজি করছে। তারা দেশের উন্নয়নে বাধা দেয়ার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এ থেকে সাবধান থাকতে হবে। বর্তমান পেক্ষাপট নিয়ে রাজনৈতিক বিশেশ্লষকদের ধারণা সামনে কঠিন সময় আসছে সরকারের জন্য। তাই সরকারকে জনবন্ধব পদক্ষেপ নেয়া এখনই সময়।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *