Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

সহিংসতার পথে রাজনীতি!

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 86 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট ঘনিয়ে আসছে দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। রাজনৈতিক মাঠের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি নির্বাচনকে সামনে রেখে একের পর এক দলীয় কর্মসূচী ঘোষনা করে আসছেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচী পালনে একদিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর বাধা অপর দিকে সরকারদলীয় ক্যাডারদের হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি নারায়ষগঞ্জে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী অংশ হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকালে শাওন নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। গত শনিবার রূপগঞ্জে ছাত্রদলের মিছিলে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় ছাত্রলীগের ক্যাডাররা পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে বলে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন। অপরদিকে, রূপগঞ্জ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, ছাত্রদলের ক্যাডাররা নীরিহ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের উপর হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় ছাত্রদলের ক্যাডারদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। সার্বিকদিক মিলিয়ে, একের পর এক সহিংসতার ঘটনায় জনমনে আতংক সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনের আগ মুহুর্তে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে উত্তপ্ততা বিরাজ করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এমনটাই ধারনা পোষন করছেন। সূত্রমতে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজপথের বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত বিএনপিসহ সব দল এবং সরকারি দল আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে নিজেদের বিজয়ী করতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটে শুরু হয়েছে ব্যাপক তৎপরতা। বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো বলছে, দ্বাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেয়া হবে না। তাই দ্বাদশ নির্বাচন পর্যন্ত নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠ দখলে রাখবে বিএনপি ও মিত্র দলের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক কর্মসূচী পালনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আ’লীগ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ। রাজনীতির মাঠে কেউ কাউকে ছাড় দিবে না এমনটাই মত পোষন করেছেন জেলা নেতৃবৃন্দ। জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ মনে করেন, বাংলাদেশে এখন শেখ হাসিনাই একমাত্র নেতা। তিনি, সমস্ত চাপগুলোকে সহজে মোকাবিলা করবেন এবং চাপ উত্তরণ করে বন্দরে নোঙ্গর করবেন। নেতারা বলছেন যে, শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই এবং এককভাবে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি। আর ঢাকার পাশ^বর্তী জেলা হিসেবে রাজনৈতিক ময়দানে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্ব অনেক। দ্বাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় হাই কমান্ড যেভাবে নির্দেশনা দিবেন আমরা নারায়ণগঞ্জের নেতৃবৃন্দ সেভাবেই কর্মসূচী পালন করব। দলীয় কোন্দলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আঃহাই বলেন, অন্যান্য যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠনের চেয়ে আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী এবং সংগঠিত। অভ্যন্তরীণ বিরোধ যাই থাকুক না কেন সংকটে তৃণমূলের আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়, অতীতে তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করেন, দলের ভেতর যে কোন্দল আছে সে কোন্দলগুলো কেটে যাবে এবং এই শক্তিশালী সংগঠন যেকোনো বিরোধী আন্দোলনকে মোকাবিলা করতে পারবে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সর্বদাই কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচী শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে আসছে। কিন্তু বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে পুলিশলীগ ব্যবহারের মাধ্যমে অশান্তি সৃষ্টি করে ক্ষমতাসীনদলের এমপি-মন্ত্রীরা। সম্প্রতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালনকালে পুলিশের অতির্কিত হামলায় যুবদল কর্মী শাওন নিহত হন এবং এশাধিক নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এত কিছুর পরেও বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপর মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দ্বাদশ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীতে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ঘোষনা মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ বিএনপি বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়ে অতীতেও রাজপথে ছিল বর্তমানেও থাকবে এবং ভবিষত্যেও থাকার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *