Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

সহিংসতার পরও হবে সুষ্ঠু নির্বাচন

১১ নভেম্বর, ২০২১ | ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 72 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একের পর এক সহিংসতার ঘটনার পর আজ নারায়ণগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচন যে সুষ্ঠু হবে তার সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার আগেই বলেছিলেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আর সেটাই হতে যাচ্ছে। যার প্রমান পাওয়া যায় ভোটের একদিন আগে কাশীপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর খবরে। এই দুটি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মাঠে যারা ছিলেন তারা প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজন। তাই তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে ছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তাই বিজয় নিয়ে শঙ্কা তৈরী হলে শেষ মূহূর্তে শাহ নিজাম ও খোকন সাহার তৎপরতায় ভোট গ্রহনের মাত্র ১৪ ঘন্টা আগে নির্বাচন থেকে সরে পড়েন হাত পাখা প্রতীকের দুই প্রার্থী। কাশীপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সরে যাওয়ায় সাইফুল্লাহ বাদল ও আসাদুজ্জামানের বিজয় এখন অনেকটা নিশ্চিত। তবে রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া, বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া, মদনপুর, সদর উপজেলার গোগনগর ও আলীরটেক নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এরমধ্যে কায়েতপাড়া ও কলাগাছিয়া ইউনিয়ন নির্বাচনকে ঘিরে সব থেকে বেশি শঙ্কা রয়েছে বলে জানা গেছে। এই দুটি ইউনিয়নে হাইভোল্টেজ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা। সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র বলছে, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন জায়েদ আলী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রভাবশালী রফিকুল ইসলাম রফিকের ছোট ভাই মিজানুর রহমান। তিনি আনারস প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে নৌকা ও আনারস প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হামলা পাল্টা হামলার ঘটনাসহ তাদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা চলছে শুরু থেকেই। ভোটের দিন এখানে কেন্দ্র দখল, মারামারি সংঘাত সঘর্ষ হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার কথা লোকমুখে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও সংঘর্ষের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি কাজিম উদ্দিন প্রধান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান। নির্বাচন শুরুর দিক থেকেই উভয় প্রার্থীর মধ্যে চরম উত্তেজনা, বচসা চলে আসছে।  গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।  আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েও কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখানে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন জাকির হোসেন। তিনি হেফাজত নির্ভর হয়ে নির্বাচনের শুরু থেকেই প্রচার প্রচারণা চালা”েছন। তার প্রচারণায় সরকার দলীয় সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারিদেরকেও দেখা গিয়েছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বয়সে তরুণ সায়েম আহম্মেদ। দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্বাচনী ইস্যুতে সহিংসতা হলেও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে সেটা অনেকটা নিশ্চিত। ইতিমধ্যে ভোটগ্রহণের দিন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। জেলা প্রশাসক বলেন, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা তৎপরতাও থাকবে নির্বাচনী মাঠে। সাধারণ ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *