Home » প্রথম পাতা » রূপগঞ্জ ভ’মি অফিসে অনিয়মই যেন নিয়ম

সাধারণ ব্যবসায়ীরা চান আইভীকে

২৩ নভেম্বর, ২০২১ | ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 161 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক নগরী নারায়ণগঞ্জ। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, মোট জাতীয় রাজস্বের ২৫ শতাংশ যায় নারায়ণগঞ্জ থেকেই। অথচ একটা সময় গিয়েছে যখন ব্যবসায়ীরা নারায়ণগঞ্জের মতো এই বাণিজ্যিক নগরী থেকে বিমুখ হচ্ছিলেন। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, হত্যা, গুমের কারণে ব্যবসার জন্য প্রতিকূল পরিবেশ হয়ে উঠেছিল এই নগরীতে। প্রশাসনের পাশাপাশি এই নৈরাজ্যের লাগাম টানতে যিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন তার নাম ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. আইভী সবসময় এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর জারি রেখেছেন। ফলে ব্যবসায়ীরা পেয়েছেন অনুকূল পরিবেশ। অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন করে বিদেশী বিনোয়োগকারীদের কাছেও নারায়ণগঞ্জকে ব্যবসাবান্ধব নগরী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। সর্বশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারও সিটি মেয়র আইভীর সাথে এক সাক্ষাতে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জাপান সরকারও নারায়ণগঞ্জ নগরীর উন্নয়নে কাজ করছেন। জানা যায়, ৭২ দশমিক ৪৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে রয়েছে ছোট-বড় অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান। বেপজার ইপিজেডও সিটির সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের আদমজীতে অবস্থিত। নিতাইগঞ্জে রয়েছে দেশের অন্যতম পাইকারি ও খুচরা নিত্যপণ্যের বাজার। দেশের জাতীয় ভিত্তিক ৭টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রধান কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জে। দেশের জাতীয় রাজস্ব খাতে নারায়ণগঞ্জের অংশগ্রহণ বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। উপনিবেশিক আমল থেকে জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখা এবং দেশের রফতানি খাতের ৩৯.২ শতাংশ দখলে রাখা এই নারায়ণগঞ্জ হোসিয়ারি শিল্পসহ দেশের পোশাক শিল্পের অনেক বড় একটি অংশের জোগান দেয়। অথচ ব্যবসাবান্ধব এই নারায়ণগঞ্জে এক সময় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল একটি সন্ত্রাসী মহল। প্রকাশ্যে বিভিন্ন ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রায় সময়ই পাওয়া যেতো। ব্যবসায়ীরা ভয়ে তটস্থ থাকতেন সবসময়। ওই সময়ে গুম-খুনের ঘটনাও ঘটেছে এই শহরে। খুন হয়েছেন ব্যবসায়ী আশিক, ভুলু ও মিঠুর মতো কয়েকজন। উপায় না পেয়ে অনেকেই তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্যত্র স্থানান্তর করতে বাধ্য হতেন। নারায়ণগঞ্জ সুতার ব্যবসার জন্য প্রসিদ্ধ থাকলেও ব্যবসায়ীরা সুতার ব্যবসা নরসিংদীতে স্থানান্তর করেছিলেন। অনেকেই তাদের পোশাক কারখানা গাজীপুরে স্থানান্তর করেন। তবে সেই সময় পাল্টেছে। এই দিন-বদলের কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। প্রয়াত নগরপিতা আলী আহাম্মদ চুনকার কন্যা আইভী এইসব চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ তোলেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রকাশ্যে এইসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। ব্যবসায়ীদের অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে লড়েছেন দীর্ঘদিন। যেখানেই নৈরাজ্য দেখেছেন সেখানেই নিজের কণ্ঠ তুলেছেন। একজন জনপ্রতিনিধির প্রতিবাদী কণ্ঠের কারণে প্রশাসনেরও অনেক ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিতে সুবিধা হয়েছে। কেবল প্রতিবাদই নয় ব্যবসায়ীদের নানান সুযোগ-সুবিধাও দিয়ে আসছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে। ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেছেন। বিগত কয়েকটি অর্থবছরের বাজেটে কর না বাড়িয়ে কর আদায়ে জোর দিয়েছেন। ফলে ব্যবসায়ীরাও কর প্রদানে আগ্রহী হয়েছেন। পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে নগরীর প্রতিটি রাস্তার উন্নয়ন সাধন করেছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে শ্রমিকদের যাতায়াতেও সুবিধা দিয়েছেন। পার্ক, লেক স্থাপনসহ অবকাঠামোগত আরও উন্নয়নের মাধ্যমে বিদেশীদের কাছেও নারায়ণগঞ্জকে ব্যবসাবান্ধব নগরী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন মেয়র আইভী। জাপানের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা কাজ করছে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে। সর্বশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূতও এই নগরীর ব্যবসা প্রসারের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন। শুধু তাই নয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কখনও অনৈতিক কোনো সুবিধা নিয়েছেন বা দাবি করেছেন এমন কোনো অভিযোগও মেয়রের বিরুদ্ধে কেউ এখন পর্যন্ত তুলতে পারেননি। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের অভিমত, মেয়রের প্রতিবাদী ভূমিকার কারণেই তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের কাছ থেকে এক প্রকার সুরক্ষা পায়। মেয়র যেন তাদের সুরক্ষা বলয়ে রেখেছেন। ফলে সাধারণ নগরবাসীর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের কাছেও নগরমাতা ডা. আইভীর ক্লিন ইমেজ বিদ্যমান। নগরীর চাষাঢ়া এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন হোসিয়ারি কারখানায় তৈরি পোশাক বিক্রি করেন তিনি। বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি এক সময় চাঁদাবাজদের কারণে অতিষ্ঠ ছিলেন তাদের মতো ব্যবসায়ীরা। তবে এই শহরে মেয়রের প্রতিবাদী ভূমিকার কারণে সেই বিড়ম্বনায় এখন থাকতে হয় না। তিনি মনে করেন, মেয়র আছেন বলেই তারা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছেন। নিতাইগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী রেহান শরীফ বলেন, দোকানে দোকানে ঘুরে চাঁদার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া ছিল নিত্যদিনের কাজ। নিরুপায় ব্যবসায়ীদের মুনাফার একটি অংশ চলে যেতো সেইসব চাঁদাবাজদের পকেটে। তাদের বিরুদ্ধে এমন লোকটি খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর। বিরুদ্ধে গিয়ে অনেকজনকে হত্যার শিকারও হতে হয়েছিল। সেসব লাগাম টানার পেছনে কাজ করেছেন আইভী। সাধারণ ব্যবসায়ীরা সবসময়ই তার পক্ষে ছিলেন এবং আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার বলেন, নারায়ণগঞ্জে বড় বড় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্বে ওসমান পরিবারের অনুসারী থাকলেও সাধারণ ব্যবসায়ীরা মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে আছেন। কারণ ব্যবসায়ীরা চান ব্যবসাবান্ধব একটি পরিবেশ। যা গড়তে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছেন আইভী। উনি ব্যবসায়ীদের জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করেন। সাধারণ ব্যবসায়ীরা তার পক্ষে আছে বলেই বিগত সময়ে বিভিন্ন মহলকে আইভীর বিরুদ্ধে মাঠে নামাতে পারলেও ব্যবসায়ী মহলকে নামানো যায়নি। কেননা নানা কারণে সরাসরি অনেক ব্যবসায়ী কথা বলতে না পারলেও নীরবে লড়াকু আইভীকেই সমর্থন দেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *