আজ: সোমবার | ১লা জুন, ২০২০ ইং | ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৯ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী | সকাল ৭:১৪

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

সাধারণ রোগীদের সেবা দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করুন

ডান্ডিবার্তা | ০৩ এপ্রিল, ২০২০ | ১১:৩৮

হাবিবুর রহমান বাদল
করোনা ভাইরাস সারাদেশ ব্যাপী একটি আতংকের নাম। এ রোগটিকে ঘিরে একদিকে যেমন কৌতুল অন্যদিকে বিরাজ করছে আতংক। এদিকে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যেখানে করোনা ভাইরাস বিষয়ে ২৪ ঘন্টার হটলাইন চালু করেছেন এবং সার্বিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকল্পে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেছেন ঠিক সেই মুহুর্তেই নারায়ণগঞ্জের সরকারী হাসপাতাল থেকে বেসরকারী চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগ হাসপাতালের চিকিৎসকরা করোনা ভাইরাসের কারণে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। ঠান্ডা-সর্দি, জ্বর-কাশির কোনো রোগীকে তারা স্পর্শ করছেন না। সংক্রমিত নয়; কিন্তু জ্বর, সর্দি বা কাশির সমস্যায় ভুগছেন- এমন রোগীকেও চিকিৎসা দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সহকারীদের এমন আচরণ দুঃখজনক। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের পাদুর্ভাবের ফলে মানুষের মধ্যে ঠান্ডা, জ্বর-সর্দি ও কাশির সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে ও হাসপাতালে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। একইভাবে জেলায় সংকটকালীন সময়ে চিকিৎকদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় আশা করছি আমরা। জেলার অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে কোনো কোনো ডাক্তার জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেবেন না বলে অঙ্গীকারবন্ধ হয়েছেন এমনটাও মনে হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশনের কারণে জ্বর বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত অনেক রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলো এসব রোগী সরকারি হাসপাতালে রেফার করলেও চিকিৎসা সেবা প্রদানে অনীহা প্রকাশ করছে ডাক্তাররা। এতে অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় আরো গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে চিকিৎসা করছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলার সর্বত্র বিরাজ করছে একই অবস্থা। সামান্য সর্দি-জ্বর নিয়ে হাসপাতালগুলোতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ রোগীরা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল এমনকি প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার-চিকিৎসকরাও করোনার উপসর্গ মনে করে এসব রোগী থেকে দূরে থাকছেন। নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে জ্বর ও সর্দি-কাশির রোগী দেখার জন্য পৃথক ইউনিট খোলা থাকলেও পিপিই পরিহিত চিকিৎসকরা জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কক্ষে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া অনেক রোগী ও তাদের স্বজন এ ধরনের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে অবহিত নন। এটা সত্য যে, করোনা সংকট মোকাবিলায় সারা বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ এখানে ব্যতিক্রম নয়। বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের মতো বৈশ্বিক মহামারি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। এক ভাইরাসের আতঙ্কে স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়া বা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসায় অবহেলা ঠিক নয়। আমরা মনে করি, সেফটি ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাধারণ রোগীদের সেবায় এগিয়ে আসার ও আন্তরিক আচরণ করার বিকল্প নেই। পাশাপাশি সরকারকেই অবশ্যই ডাক্তার-নার্সদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমি মনে করি এটাই ডাক্তারদের অগ্নি পরীক্ষা দেওয়ার সময়। জেলার এই সংকটাপন্ন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রশংসার দাবিদার হওয়া। সকল বাধা বিপত্তিকে পিছু ফেলে নারায়ণগঞ্জে কর্ত্যবরত চিকিৎসকরা মানবেতর সেবার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *