Home » শেষের পাতা » অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড থেকে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

সামসুলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ

০৬ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 77 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মাহফুজুর রহমান কালাম নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান সামসুল আলমের আওয়ামীলীগের যোগদান কোন মতে দলীয় নিয়মানুযী হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। এটাকে কোন যোগদান বলা যায় না। কেউ একজন আরেকজনকে ডেকে নিয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে যদি বলেন আপনি আওয়ামীলীগের লোক হয়ে গেছেন এটা আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রে নেই। তবে যদি কোন ব্যক্তি আওয়ামীলীগে যোগদান করেন বা করতে চান সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী যোগ দিতে পারবেন। রবিবার বিকেলে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের নব নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সামসুল আলম আওয়ামীলীগের যোগদান সর্ম্পকে জানতে চাইলে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সামসুল আলমকে আওয়ামীলীগে যোগদান বৈধ হয়নি বলে উল্লেখ করেন। গতকাল শনিবার দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা ৮টি ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের সংবর্ধনা দেন উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভুইয়া। সেখানে দাওয়াত করা হয় নোয়াগাঁও ইউনিয়নের নব নির্বাচিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান সামসুল আলমকে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভুইয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার ফেন্সী সামসুল আলমের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করান। অথচ নোয়াগাঁও ইউনিয়ন যেটা সামসুল ইসলাম ভুইয়ার নির্বাচনী কেন্দ্র সেখানে নৌকার প্রার্থী চতুর্থ হোন। যা নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠে। এছাড়া নৌকার পরাজিত প্রার্থী আব্দুর বাতেন এক ভিডিও বার্তায় তার পরাজয়ের পেছনে এডভোকেট সামসুল ইসলামের হাত রয়েছে বলে দাবি করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল হওয়ার দুদিনের মাথায় নৌকার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী সামসুল আলমকে আওয়ামীলীগে যোগদানের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা সমালোচনা করেন আওয়ামীলীগ নেতারা। গতকাল রবিবার বিকেলে সামসুল আলমের যোগদানের বিষয়টি আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কতোটুকু বৈধ জানতে চাইলে আওয়ামীলীগের বর্ষিয়ান নেতা মাহফুজুর রহমান কালাম জানান, সামসুল আলম একজন পল্টিবাজ ও সুবিধাবাদি নেতা। তিনি এক সময় বিএনপি করেছেন এখন জাতীয়পার্টি করছেন। আবার বলছেন তিনি নাকি ঢাকায় আওয়ামীলীগ করেন। একজন লোক যেখানে আওয়ামীলীগ ও জাতীয়পার্টি সমানতালে করেন তখন তিনি কোন দলের নেতা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এছাড়া সামসুল আলমকে ডেকে নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সকল সদস্যকে বাদ দিয়ে একজন নেতা কিভাবে একজন জাতীয়পার্টিও লোককে আওয়ামীলীগে যোগদান করান। এটা আমার বোধগম্য নয়। আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে দলের যোগদান করানোর আগে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু ছবিতে দেখলাম উপজেলা আওয়ামীলীগের সকল নেতাকে বাদ দিয়ে একজন নেতা একজন জাতীয়পার্টির চেয়ারম্যানকে ফুল দিয়ে আওয়ামীলীগার বানিয়ে দিলেন। দিনের বেলা যেই নেতা আওয়ামীলীগের যোগদান করলেন সেই নেতাই রাতের বেলা পার্শ্ববতি একটি উপজেলায় গিয়ে আওয়ামীলীগের বদনাম করছেন ফেসবুক লাইফে এসে। এটা কেমন আওয়ামীলীগার আর কেমন আওয়ামীলীগ নেতা যিনি দিনে বলেন এক কথা আর রাতে বলেন আরেক কথা। শুধু আওয়ামীলীগই নন তিনি বর্তমান মহাজোটের এমপিকেও অপমান করেছেন। যার হাতে ফুল দিয়ে জাতীয়পার্টিতে যোগদান করে সুবিধা নিয়েছেন এখন জাতীয়পার্টির এমপিও নাকি খারাপ তিনি নাকি কোন উন্নয়নই করেননি করেছেন চাপাবাজি। সামসু সেখানে বলেছেন, খোকা কি উন্নয়ন করবে আওয়ামীলীগ ২০ বছর ক্ষমতায় থাকবে আর খোকা থাকবে ২ বছর তাহলে খোকার সাথে থেকে তার লাভ কি? এছাড়া তিনি এক উপজেলার চেয়ারম্যান হয়ে আরেক উপজেলায় গিয়ে বলেন তার বাড়ি নাকি সেখানে তিনি নানার বাড়ি থেকে চেয়ারম্যান হয়েছেন। তার কথায় তিনিই বলেছেন তিনি এ এলাকার নন তিনি তার বাবার ঘর জামাইয়ের সুত্র ধরে এখানকার নাগরিক। সেজন্য তিনি সোনারগাঁ আর আড়াইহাজার উপজেলাকে এক উপজেলা করার দাবি জানান। যা উপজেলার প্রতিটি নাগরিকের জন্য অপমান জনক। আড়াইহাজার উপজেলায় উন্নয়ন হয়েছে এটা হতে পারে কিন্তু সেজন্য তিনি উপজেলা সকল নেতাকে চাপাবাজ বলেছেন যা প্রতিটি রাজনীতিবিদদের জন্য অপমান জনক। মাহফুজুর রহমান কালাম জানান, দল একটাই থাকে দলে কিন্তু নেতা থাকবেন এটাই স্বাভাবিক কিন্তু সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ কিন্তু তার আর্দশ থেকে বিচ্যুতি হয়নি। নব্য অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে সেটা প্রমান হয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতাদের মনের অমিল থাকতে পারে কিন্তু দলের স্বার্থে তারা অভিন্ন। সে জন্য আমি বলবো সামসুল আলম আওয়ামীলীগের কেউ না। সে যদি আওয়ামীলীগে যোগদান করতে চান তাহলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রের অনুমোদনের পর উপজেলার সকল নেতাদের উপস্থিতিতে যোগদান করলে সেটা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বৈধ হবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *