আজ: মঙ্গলবার | ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি | রাত ১২:০৪

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে ধু¤্রজাল স্বজনদের দাবি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড

ডান্ডিবার্তা | ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ | ১:১৬

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সিদ্ধিরগঞ্জে তানিয়া আক্তার (২৪) নামে কলেজ পড়–য়া এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃতঅর্থে তার হত্যা নাকি আত্মহত্যা হয়েছে এ নিয়ে রয়েছে স্বজনদের বিভিন্ন মতামত। এদিকে নিহতের স্বামী ইকবাল হোসেন ইমন পালিয়ে থাকায় বিষয়টি যথেষ্ট সন্দেহের জন্ম দিয়েছে এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার দাবী জোড়ালো হচ্ছে।  নিহত তানিয়া চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ডাইয়েখোলা গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে এবং তার স্বামী ইকবাল একই উপজেলার দশানী গ্রামের মুকবুল ছৈয়ালের ছেলে বলে জানা গেছে। ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং নাসিকের (সিদ্ধিরগঞ্জ) ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব বাগমাড়া মামা ভাগিনার গলিতে মৃত আবু তাহের মিয়ার বাসার ৩লায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে ১ মাস ১০ দিন আগে তারা বসবাস শুরু করে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রতারক ইকবাল হোসেন ইমন এর আগে কয়েকটি বিয়ে করলেও বিষয়টি গোপন করে তানিয়ার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। তানিয়া ডিগ্রী পাস কোর্সের ২য় বর্ষের ছাত্রী হলেও ইকবালের ছলনা বুঝতে না পেরে তার প্রতারণার ফাঁদে পা বাড়ায় এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এদিকে তানিয়ার স্বামী তার আগের স্ত্রীকে তার এক ভাগিনাকে দিয়ে ভাড়া বাসায় নিয়ে এলে এনিয়ে তানিয়ার সাথে স্বামীর ঝগড়া হয়। গত ১০ নভেম্বর বিকেলে ঘটনার দিন তানিয়া তার মাকে ফোনে করে বাড়ীতে যাবার খরচ বাবদ ৫ শত টাকা বিকাশে পাঠাতে বলে এবং ইকবাল তার শাশুড়ীকে ফোনে জানায় তানিয়া এখন যেতে পারবেনা, তাকে বাড়ীতে যেতে দেয়া হবেনা। ঘটনার দিনের আগ থেকেই সতিনকে নিয়ে তানিয়র মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগে ছিলো। এদিকে গতকাল বুধবার দুপুরে উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে ভাড়া বাসার মালিকের কন্যা জান্নাত মিতালী জানান, গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় দোকানে সদাইয়ের জন্য ফোন দেন তানিয়া এবং পরক্ষণে রাত ৮টা থেকে ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দোকানদার তানিয়ার ফোনে কয়েকবার কল দিলেও তানিয়া ফোন রিসিভ না করায়, দোকানদার আমাদের ফোনে কল দিয়ে বিষয়টি জানান যে, তানিয়া অনেকক্ষণ যাবৎ ফোন রিসিভ করছেনা। তখন আমরা দরজার সামনে গিয়ে অনেকবার ডেকেও তার সাড়া না পেয়ে আমরা জানালা দিয়ে দেখতে পাই তানিয়া খাটে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। তখন বিষয়টি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে রুমে ঢুকে তানিয়াকে মৃত অবস্থায় পায় এবং লাশ থানায় নিয়ে যায়। তবে তাদের বাসায় দুইজন আত্বিয় এসেছে বলে জেনেছি তারা কারা তা জানতে পারেনি। ঘটনার পর থেকে তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। নিহতের মামা মোহাম্মদ আলী জানান, ঘটনা দিন বিকেলে জামাই ইকবাল তানিয়ার মার সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং প্রায় সময়ই সে আমার ভাগিনী তানিয়াকে গালমন্দ ও মারধর করতো। ১০ নভেম্বর ঘটনা ঘটলেও আমরা ১১ নভেম্বর সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে বিষয়টি জানতে পারি এবং থানায় গিয়ে ভাগিনীর লাশ দেখতে পাই। সেইদিনেই আমরা লাশ মতলব উত্তরে নিয়ে যাই এবং রাতেই জানাযা শেষে নিকটস্থ কবরস্থানে দাফন করি। কিন্তু ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৯টায় তানিয়ার খালাতো ভাই নাজমুলকে জামাই ইকবাল ফোন করে তানিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি জানায়, যা আমরা পরবর্তীতে জানতে পারি এবং ঘটনার দিন ইকবাল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সাথেও তানিয়ার মৃত্যুর বিষয়ে ফোনে কয়েকবার কথা বলেছেন। ইকবাল পরিকল্পিতভাবে তার আগের স্ত্রী কোহিনুরকে সাথে নিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের নিকট জোড়ালো দাবী জানাচ্ছি। তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মোহাম্মদ আজিজ ফোনে জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিহতের স্বজনদের হাতে বুঝিয়ে দেই। নিহতের মামা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুজনিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা পরিচালনা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *