Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

সিদ্ধিরগঞ্জে মহাসড়কে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে লক্কর জক্কর লেগুনা

২৪ নভেম্বর, ২০২২ | ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 22 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রবাড়ি থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় পর্যন্ত অবাধে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে মানুষ মারার জম লক্কর জক্কর লেগুনা পরিবহন। হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে মহাসড়কে চললেও রহস্যজনক কারণে এগুলো চোখেই পড়েনা কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের। এ যেন দেখার কেউ নেই। একটি সূত্র বলছে অনৈতিক সুবিধায় ম্যানেজ পক্রিয়ায় ওইসব মরণঘাতি পরিবহণ লেগুনার মহাসড়কে অবাধ বিচরণ। আর এই পরিবহনকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি চাঁদাবাজ চক্র। বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজের কথা বলে এই পরিবহন থেকে কোম্পানি ও সমিতির নাম দিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ছত্রিশ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে ওই চাঁদাবাজ চক্র। জানাগেছে, মহাসড়কের যাত্রবাড়ি থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় পর্যন্ত প্রায় দু’শ লেগুনা চলাচল করে। প্রায় গাড়িরই নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। হাতেগোনা ৪/৫ টি ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও বাকি বাসগুলো চালাচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হেলপাররা। অধিকাংশ লেগুনা লক্কর ঝক্কর হওয়ায় এবং কোন রুট পারমিট না থাকায় কোন লাইসেন্সধারী ড্রাইভার এ গাড়ি চালাতে অগ্রহী হয়না। ফলে অপ্রাপ্ত ও অদক্ষ বয়স্ক হেলপারদের মাধ্যমেই চলছে লেগুনা। যাদের অধিকাংশই আবার মাদকাসক্ত। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো লেগুনা চলাচলের কোন রুট পারমিট নেই কর্তৃপক্ষের। তবুও রহস্যজনক ভাবেই সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে শিমরাইল সড়কের উপর অবৈধভাবে বসানো হয়েছে লেগুনা স্ট্যান্ড। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ায় তীব্র যানজটে নাকাল এলাকায় সাধারণ মানুষ। এছাড়াও সড়কের দুই পাশে দখল করে গড়ে উঠেছে ফুটপাত মরার উপর যেন খারার ঘাঁ। শিমরাইল এক্সপ্রেস লিমিটেড (এসইএল) নামক কোম্পানির ব্যানারে গাড়িগুলো চললেও নিয়ন্ত্রন করছে যাএাবাড়ীর পলাশ নামে একজন চাঁদাবাজ। পলাশ নিজেই সভাপতি হয়ে লেগুনা মালিক সমিতি নামে মনগড়া একটি কমিটি করে ওই চাঁদা আদায় নিয়ন্ত্রন করছে। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার দায়িত্বে রয়েছেন ওই কোম্পানির এমডি হাসানুজ্জামান পরশ ও আতিক। তাদের মনোনিত কাউসার, অনিক, শাহ আলম ও নয়ন নামে চারজন প্রতি লেগুরা থেকে চাঁদা আদায় করছে । প্রতিটি লেগুনা থেকে দৈনিক চাঁদা আদায় করা হয় ৬৫০ টাকা। যার মধ্যে চিটাগাংরোডে লাইনম্যানের জন্য ৫০ টাকা, যাত্রাবাড়ীতে লাইনম্যানের জন্য ২০ টাকা, আর জিপি চাঁদা ৫শ’ টাকা। এছাড়াও ষ্টিকার লাগানোর জন্য গাড়িপ্রতি মাসিক চাঁদা ১ হাজার টাকা, পুলিশ রিকুইজিসনের নামে ১ হাজার টাকা। মোবাইল কোর্টের নামে প্রতি গাড়ী থেকে ৫০ টাকা। এবং প্রতি রাতে গাড়ি প্রতি ১শ’ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। সেই হিসেবে প্রতি গাড়ী হতে দৈনিক ৭৫০ টাকা চাঁদা কলেকশন। তবে সব গাড়ি প্রতিদিন চলেনা গড়ে ১৬০ টি হিসেবে দৈনিক চাঁদা আদায় হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা যাহা মাসে দাড়ায় ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়াও লাইনে নতুন গাড়ি প্রবেশ করতে হলে সালামি দিতে হয় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গাড়ির মালিক জানান, মাসিক ১ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে গাড়ির সামনে গ্লাসে ষ্টিকার লাগাতে হয়। এটা বাধ্যতামূলক। ষ্টিকার না লাগিয়ে গাড়ি সড়কে চলাচল করতে পারেনা। করলে চালকদের মারধর, গাড়ি ভাংচুর ও আটকিয়ে রাখে সমিতির নেতারা। শিমরাইল এক্সপ্রেস লিমিটেড এর এমডি হাসানুজ্জামান পরশ বলেন, গাড়ির সংখ্যা ১৮০টি। তবে দৈনিক রাস্তায় চলে প্রায় দেড়শত। তারমধ্যে দৈনিক চারটি গাড়ি থানা পুলিশকে রিকুইজিশন দিতে হয়। সমিতির সভাপতি পলাশ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যেসব গাড়ি মালিকরা অভিযোগ জানিয়েছে তাদের আমার সামনে নিয়ে আসেন। প্রশাসন ও বিশেষ পেশার লোকজনের বিশ ত্রিশটি গাড়ি রয়েছে। এসব গাড়ি থেকে জিপি নেওয়া হয় অর্ধেক। অনেকে দেয়না। লাইনম্যানদের জন্য কিছু টাকা তুলা হয়। হাইওয়ে পুলিশের নারায়ণগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অমিত সূত্রধর বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মহাসড়কে লেগুনা চলাচল করতে পারেনা। চাঁদাবাজির বিষয়টি আমার জানা নেই। মহাসড়কে লেগুনা চললে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নবীর হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দায় দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ওই জায়গাটা আমি দেখিনা এইটা টিআই শরফুদ্দিন দেখেন।এ বিষয়টা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। টিআই শরফুদ্দিন বলেন, আমরা কারো কাছে কোনরকম ম্যানেজ হচ্ছিনা। আমাদের কোন লোকও এখানে ম্যানেজ হচ্ছেনা। আমাদেও কারো এ বিষয়ে কোন রকমের সংশ্লিষ্টতা নাই। আমরা বিভিন্ন সময় লেগুনা আটক করছি, রেকারিং করছি, মামলা দিচ্ছি। যেটা অইনগত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমরা সেটাই ব্যবস্থা নিচ্ছি। হাইওয়ে পুলিশের নারায়ণগঞ্জ সার্কেলের এসপি আবদুল কাদের জিলানির কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রমান পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *