Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারী জমি ভূমিদস্যুদের দখলে

২৪ নভেম্বর, ২০২২ | ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 30 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট সিদ্ধিরগঞ্জে ৩১৪ শতাংশ সরকারী জমি দখলে নিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা করছে একটি ভূমিদস্যু চক্র। সিদ্ধিরগঞ্জের খোর্দ্দঘোষ পাড়া মৌজায় ৩১৪ শতাংশ জমি দখলে নিয়ে প্লট আকারে বিক্রি করছে। অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় থাকা সানারপাড়স্থ উক্ত জমিটি দখলে নিতে বিডিডিএলসহ একাধিক কোম্পানী একাধিক মামলা ও নানা ফন্দি ফিকির করেছিল। শেষ পর্যন্ত শাহজাহান সাজু গংরা উক্ত জমিটি দখলে নিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা করছে। জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার খোর্দ্দঘোষ পাড়া মৌজায় ৩১৪ শতাংশ জমি রয়েছে। উক্ত স্থানে জলাশয় ছিল। এলাকার লোকজন এ জলাশয় থেকে মাছ ধরা কুচুরি পানা নিয়ে যেত গরু মহিষের খাবারের জন্য। সানারপাড় এলাকার আকবর আলী (৬৮) নামে এক ব্যক্তি জানায়, জমিটি হিন্দু সম্পত্তি। সতিশ চন্দ্র না শ্রীষ চন্দ্র ঠিক কি নাম আমি সঠিক ভাবে বলতে পারব না। তবে এদেরই হবে। এমনটিই জানালেন তিনি। তিনি আরও জানালেন, শুনেছি জমিটি শাহজাহান সাজু নামে এক ব্যক্তি কিনে নিয়েছে। বিডিডিএল কোম্পানীর লোকজন আদালতে মামলা করে এলাকার লোকজনের সাথে দরবার করেও জমিগুলি নিতে পারেনি। আর শাহজাহান কিভাবে নিল তা তার জানা নেই। তবে কোন ঘাপলা থাকতে পারে বলে তার দাবি। এমন দাবি স্থানীয় অন্যান্য লোকদেরও। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উক্ত স্থানে “সাজু ডেভেলপারস লিঃ” এর একটি সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে। এতে বায়না ও খরিদ সুত্রে জমির মালিক উল্লেখ রয়েছে। এতে সাজু, তাহেরসহ ৪ জনের ফোন নম্বর উল্লেখ রয়েছে। উক্ত জমিটি প্লট প্লট আকারে ভাগ করা রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত জমি সাড়ে ১৬ কোটি টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ২ কোটি টাকা বায়না দিয়ে বায়না নামা দলিল করেছেন মোঃ আবু সাঈদের ছেলে মোঃ শাহজাহান ও মোঃ আব্দুল বারিকের ছেলে আবু তাহের যার দলিল নং- ৮৬৮৯, তারিখ- ০৫/১২/২১ইং। উক্ত দলিলে ১২ জন দাতার পক্ষে আম-মোক্তার ফতুল্লা কুতুবপুরের ইমান আলীর ছেলে এম এ বাতেন স্বাক্ষর করেন। উক্ত বায়না নামা দলিলে ১৯৩৬ সালের একটি দানপত্র দলিলের কথা উল্লেখ রয়েছে যদিও উক্ত দলিলটি আনরেষ্ট্রীকৃত। এছাড়াও সাজুর দলিলে নামজারী মোকদ্দমা নং- ৫১০/১০-১১, তারিখ- ২৫/০৮/২০১০ইং উল্লেখ রয়েছে। যেখানে আর এস- ১১১ নং দাগে ৯০ শতাংশ হাজী তৈমুছ আলীর নামে খারিজ হয়। তৈমুজ আলীর নামে খারিজ হওয়ার কোন স্বত্ব বা ভিত্তি নাই, তার নামে বৈধ কোন দলিল নাই বলেও জানা গেছে। এরপর নামজারী মোকদ্দমা নং- ১৮৯৯৭/১০-১১, তারিখ- ১৩/০৭/২০১১ইং রয়েছে। যদিও তহশিল অফিসে ১৮৯৯৬/১০-১১ রয়েছে। এতে আর এস- ১১১ নং দাগে ৬০ শতাংশ আবুূল হোসেন, পিতা- হাজী তৈমুছ আলীর নামে খারিজ হয়। এরও কোন বৈধ দলিল নাই। এরপর নামজারী মোকদ্দমা নং- ৯৬৫৭/১১-১২, তারিখ- ২২/০১/২০১২ইং। এখানেও একই অবস্থা। এসব ভূয়া ও জাল কাগজপত্রে জমি দখলে নিয়ে ভূমিদস্যু চক্রটি সরকারের ৩১৪ শতাংশ জমি দখলে নিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা করছে বলে এলাকাবাসী জানায়। একটি সুত্র জানায়, উক্ত দাগের জমির ৭২ শতাংশ ১নং খাস খতিয়ানে রয়েছে। অর্পিত সম্পত্তির তালিকায়ও রয়েছে এ জমি। অর্পিত সম্পত্তি সম্পূর্ণ সরকারের। সুত্রটি আরও জানায়, খোর্দ্দঘোষ পাড়া মৌজার একাংশের ৮ হাজার ৩ শতাংশের মধ্যে সিএস ৪০ নং খতিয়ানে ৪ হাজার ২ শতাংশ সতীশচন্দ্র রায় গং ও সিএস ৪১ নং খতিয়ানে ৪ হাজার শতাংশ শ্রীস চন্দ্র রায়ের নামে রয়েছে। অবশিষ্ট ১ শতাংশ ৩৯ খতিয়ানে নবলক্ষী দেব্বার নামে রয়েছে। তাদের নামেই রয়েছে উল্লেখিত জমি। এরা উক্ত জমি কারো কাছে বিক্রি করেনি কিংবা কাউকে দান করেনি। এ হিসাবে উক্ত জমিটি সরকারের। সাজু গংদের দাতাদের মথুরা মোহন গংদের কাছ থেকে ক্রয় করার বিষয়টিও সঠিক নয়। এছাড়াও সিএস খতিয়ানে মথুরা মোহনের ৩৫ নং ও ৩৭ নং খতিয়ান শিব প্রসাদ দত্ত সরকারের বাতিল করা হয়েছে। এদিকে আর এস ২০৭ নং খতিয়ানে জো¯œারানী সাহা গংএর নাম রয়েছে যেখানে জমির পরিমান ৯৬ শতাংশ। যদিও দেওয়ানী ৬৮/১৯ ডিক্রী ২৯/১০/১৯ইং বাদি ও বিবাদী আপোষ এক তরফা ডিক্রীর পর ২০৭ নং খতিয়ানে অতুল চন্দ্র রায়ের নামে লিপিবদ্ধ হয়। প্রকৃত পক্ষে এদেরও কোন ভাবেই ওয়ারিশ হওয়ার সুযোগ নেই। অপর আর এস ৫৫৪ নং খতিয়ানে যাদের নাম লিপিবদ্ধ হয়েছে ২১৮ শতাংশ তাদের ক্রয় সুত্রে বা খরিদা সুত্রে উক্ত জমির মালিকানা দাবির বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক চক্র ভূয়া মালিকানা, ভূয়া তথ্য ও কাগজপত্র দিয়ে জমিটি দখলের পাঁয়তারা করছে। মোঃ শাহজাহান জানায়, এটা কোন সরকারী জমি নয়। মালিকানা জমি। বায়না সুত্রে আমি ও তাহের এ জমির মালিক। সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোকসানা খাইরুন নেছা জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের বেশির ভাগ জমির নামে মামলা থাকায় আমাদের কিছুই করার থাকে না। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান। এলাকাবাসী ভূমিদস্যুদের কবল থেকে অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ৩১৪ শতাংশ সরকারী উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *