Home » প্রথম পাতা » সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম

সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে না’গঞ্জ

০৯ নভেম্বর, ২০২১ | ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 75 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে গত ১ দশকে সিন্ডিকেটের সদস্য হয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন অন্তত: সহ¯্রাধিক মানুষ। যাদের চাল আনতে পান্তা ফুরাত তারাও এখন দামি গাড়ি হাকিয়ে চলেন। সরকারি বিভিন্ন কাজের ঠিকাদার এখন এই সিন্ডিকেট সদস্যরা। হাট-মাঠ-ঘাট এমনকি ফুটপাতও তাদের দখলে। সবকিছুতেই তাদের নিয়ন্ত্রণ। এনিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও প্রকাশ্যে কিছু বলছে না কেহ। ফুসে চলছে নগরবাসী। এরই মধ্যে বাসের ভাড়া বৃদ্ধিতে সিন্ডিকেটের আয় বেড়েছে কয়েকগুন। এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে সিন্ডিকেটের তদারকি নেই। তাই সামান্য কর্মচারিও এখন শিল্পপতির খাতায়। এভাবেই চলেছে নারায়ণগঞ্জ। বিশেষ পেশার অনেকেই এখন এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই ‘সবকিছুতেই এ সিন্ডিকেট সফল, আমরা হয়ে গেছি ভোগের পণ্য। করোনা-টরোনা শেষে করে যখন আমরা স্বাভাবিক পর্যায়ে যাচ্ছি তখনই সবকিছুর দাম বাড়ানো হলো। এখন শুধু পকেট কাটছে ভাড়া বৃদ্ধি করে। পড়াশোনার খরচ যোগাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়, কোনোমতে টিউশনি করে দুইটা টাকা আয় করতাম এখন তাও যাবে এই বাস ভাড়া দিতে গিয়ে।’ কথাগুলো বলছিলেন বর্ধিত বাসভাড়ায় ক্ষুব্দ রাশেদ নামে এক শিক্ষার্থী। ১০ হাজার টাকা বেতনের আবুল হোসেনের চারজনের সংসার। খুব কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছিলেন। এখন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিদিন তাকে গুনতে হবে ২৮ টাকা করে বেশী। কিভাবে সংসার চলবে আর কিভাবেই বা অফিসে আসা যাওয়া করবে এনিয়ে চিন্তিত। ডিজেল-কেরোসিনের দাম বাড়ানোর পর বাসের ভাড়াও ২৭ শতাংশ বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী একাধিক পরিবহনের বাসভাড়া ৪৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, লেগুনা ও ট্যাম্পুর (থ্রি হুইলার) ভাড়াও বেড়েছে। কোনো ক্ষেত্রে তা বেড়েছে দ্বিগুন। যদিও অধিকাংশ লেগুনা-ট্যাম্পু সিএনজিতে চলে। পরিবহনে ভাড়া বাড়ায় ক্ষোভ রয়েছে যাত্রীদের। নিরুপায় যাত্রীরা ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত ভাড়ায় চলাচল করছেন। গতকাল সোমবার শহর ঘুরে দেখা যায়, বর্ধিত ভাড়া অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা রুটে যাতায়াতকারী সিটি বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের বাসে ভাড়া রাখছে ৫০ টাকা। পূর্বে এই ভাড়া ছিল ৩৬ টাকা। সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া ২৭ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া রাখলে তা দাঁড়ায় ৪৬ টাকারও কম। তবে বাসমালিকরা বর্ধিত ভাড়া ৪৩ টাকার সাথে উড়ালসেতুর টোল ফি হিসেবে আরও ৭ টাকা যোগ করেছেন। এদিকে শীতল পরিবহনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ভাড়া রাখা হচ্ছে ৭০ টাকা। যার ভাড়া আগে ছিল ৫৫ টাকা। ভাড়া বাড়িয়েছে সরকারি পরিবহন বিআরটিসিও। পূর্বে ৩০ টাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করলেও এখন তা ৪০ টাকা। এছাড়া হিমাচল, মৌমিতা, গ্রীন অনাবিলসহ আরও কয়েকটি পরিবহনও বাসভাড়া বাড়িয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে মিরপুরে যাতায়াতকারী হিমাচল ভাড়া রাখছে ৮০ টাকা। যা আগে ছিল ৬০ টাকা। নারায়ণগঞ্জ থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যাতায়াতকারী মৌমিতা ভাড়া রাখছে ১৫০, যা আগে ছিল ১১৫ টাকা। ঢাকার গুলিস্থানে যাওয়ার জন্য ভাড়া রাখা হচ্ছে ৪০ টাকা করে। শহরের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড তিনটি রুটে চলে লেগুনা ও ট্যাম্পু নামে পরিচিত থ্রি-হুইলার। এই দুই পরিবহনের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। যদিও এই পরিবহনগুলোর অধিকাংশই চলে সিএনজিতে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া। তবে এই পরিবহনের ভাড়াও বাড়বে বলে আশঙ্কা যাত্রীদের। বর্ধিত এই ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে আসা যাত্রীরা। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী যাত্রী আতিকুল বলেন, ‘একে তো খাবার-দাবারের দাম বেড়েছে, তার উপর বাসা ভাড়া এখন আবার বাড়লো বাস ভাড়া। মাস শেষে যে টাকাটাও হাতে থাকতো সেটাও এখন থাকবে না। সরকার তো সব বাড়াচ্ছে আমাদের বেতন টা না হয় একটু বাড়াক। কিন্তু সে দিকে তো আর ওনারা খেয়াল দেয় না।’ সাইনবোর্ডগামী যাত্রী নাজিফা বলেন, ‘আগে লেগুনাতে যেতাম ১৫ টাকা করে এখন তারাও করছে ২০ টাকা করে। সব লেগুনাতো আর তেলে চলে না। গ্যাসে চলে কিন্তু সবাই একজোট হয়ে ২০ টাকা করে রাখছে। সবাই যাতাকলে চেপে আমাদের শেষ করছে।’

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *