আজ: রবিবার | ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি | সকাল ৮:০৮

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

সিলেটের ভোলাগঞ্জের ‘সাদাপাথর’ কয়টি দর্শনীয় স্থান আছে

ডান্ডিবার্তা | ৩০ অক্টোবর, ২০২০ | ৯:৫৫

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট বাংলাদেশিদের পদচারণায় ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর অঞ্চল মুখর হয়ে উঠলেও ভারতীয় অংশ এখনো খাঁ-খাঁ করছে। ভারত দর্শনার্থীদের জন্য পর্যটনকেন্দ্র খুলে না দেওয়ায় এ অবস্থা। সাদাপাথরের ভারতীয় অংশে দর্শনার্থীদের আনাগোনা না থাকায় অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে আছে পাহাড় আর পাথর। সীমান্তে যে কয়টি দর্শনীয় স্থান আছে, তার মধ্যে একটি সিলেটের ভোলাগঞ্জের ‘সাদাপাথর’। স্বচ্ছ পানি আর চকচকে সাদা পাথরের ছড়াছড়ির কারণে স্থানটি ‘সাদাপাথরের দেশ’ হিসেবে পরিচিত হয়েছে।
পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ পানি মিলে স্থানটির নয়নাভিরাম দৃশ্য যেকোনো ভ্রমণপিপাসুকে সহজেই মুগ্ধ করে। তাই তো প্রতিদিন দলে দলে তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীসহ নানা বয়সের নারী-পুরুষ ছুটে যান প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখতে। স্থানটির আরেক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- কাছাকাছি দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পান বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকরা। তবে ভারতের নাগরিকরা বাংলাদেশ সীমায় এবং বাংলাদেশের নাগরিকরা ভারতের সীমায় পা রাখতে পারেন না। একটি সাইনবোর্ড দিয়ে দু’দেশের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে আগের মতোই আবার ভোলাগঞ্জের সাদাপাথরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে ছুটে যাচ্ছে বিনোদনপ্রেমীরা। নানা বয়সের নারী-পুরুষের পদচারণায় জমজমাট হয়ে উঠেছে ‘সাদাপাথরের দেশ’।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনার আগে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখর হয়ে থাকতো সাদাপাথরের পুরো এলাকা। তবে করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতীয়দের আসা বন্ধ রয়েছে।

ভারতের দর্শনার্থীরা না এলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিনোদনের কোনো ঘাটতি নেই। বিনোদনপ্রেমীরা ছুটে এসে হই-হুল্লোড় করেন, পানিতে ডুব দিয়ে উৎসবমুখর করে তুলছেন সাদাপাথরের বাংলাদেশের অংশ। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে, কেউ জীবনসঙ্গীকে নিয়ে ছুটে এসেছেন। এমনকি বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সবাই মিলেও ঘুরতে এসেছেন সাদাপাথরের দেশে।

পুরো পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা এমন একজন বরিশালের আসাদ আলী বলেন, ‘মহামারি করোনা আমাদের জীবনের গতি-প্রকৃতি অনেকটাই বদলে দিয়েছে। জীবন থেকে আনন্দ অনেকটাই কেড়ে নিয়েছে। ঘরবন্দি জীবনের একঘেয়েমি চলে এসেছে। তাই সুযোগ করে বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে চলে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘সাদাপাথরের সৌন্দর্যের অনেক গল্প শুনেছি। কিন্তু এর আগে আসা হয়নি। প্রথমবারের মতো এসেই সাদাপাথরের সৌন্দর্য দেখে আমরা মুগ্ধ। দিনভর অনেক আনন্দ করেছি। এখান থেকে তো ফিরে যেতে মন চাচ্ছে না। পাথর, পাহাড়, পানি সব মিলে এ যেন এক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি।’বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে ঘুরতে আসা এইচএসসি পরীক্ষার্থী নোয়াখালীর নিলয় হাসান বলেন, ‘করোনার কারণে পরীক্ষা আটকে আছে। তাই বন্ধুরা মিলে ঘুরতে চলে এসেছি। সাদাপাথরের সৌন্দর্য নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি। তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে- গল্পের থেকেও বাস্তব অনেক সুন্দর।’

কী দেখবেন: পাথর, পানি আর পাহাড় মিলে প্রকৃতি তার সব সৌন্দর্য যেন ঢেলে দিয়েছে অপার মহিমায়। চকচকে একটার পর একটা পাথর পেরিয়ে নামতে পারবেন স্বচ্ছ পানিতে। উপর থেকেই পানির কয়েক ফুট নিচ পর্যন্ত দেখা যাবে অনায়াসে। পানির নিচে ডুব দিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা যাবে। পানির নিচে ডুব দিয়ে পাথরের দিকে তাকালে সে সৌন্দর্য আপনাকে সহজেই মুগ্ধ করতে পারে।

এ স্বচ্ছ পানিতে নেমে গোড়ালি বা হাঁটু পর্যন্ত ডুবিয়ে কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করলেই দেখতে পাবেন ছোট ছোট মাছ আপনার চারপাশে ঘিরে ধরেছে। মাঝে মাঝে দেখা মিলতে পারে মাঝারি মাছও। সাদাপাথরের সীমায় পৌঁছানোর আগেই আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকবে মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়। যতই সাদাপাথরের দিকে এগিয়ে যাবেন; ততই মুগ্ধ হবেন। সাদাপাথরের সীমানায় পৌঁছে আরও ভালো করে দেখে নিতে পারেন পাহাড়ের সৌন্দর্য।পানির ওপর ভেসে থাকতে চাইলে ভাড়া নিতে পারেন টিউব। পানির ধারে থরেথরে টিউব সাজিয়ে ভাড়া দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন বেশ কয়েকজন। এদের যেকোনো একজনের কাছ থেকে ঘণ্টায় ৫০ টাকা চুক্তিতে ভাড়া নিতে পারেন একটি টিউব। এই টিউব পানিতে ভাসিয়ে তার উপর শুয়ে আকাশের দিকে তাকালেই হারিয়ে যাবেন অন্য এক ভুবনে। চাইলে চোখ বুজে টিউবে ভর করে পানির ওপর ভেসে থাকতে পারেন। দেখতে দেখতে কিভাবে সময় গড়িয়ে যাবে টেরই পাবেন না।

কীভাবে যাবেন: সিলেট শহর থেকে যেতে হবে আম্বরখানা পয়েন্টে। সেখান থেকে পাওয়া যাবে ভোলাগঞ্জের সিএনজি। আম্বরখানা থেকে ভোলাগঞ্জে যেতে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ১৩০ টাকা। ব্যক্তিগত গাড়ি থাকলে সিলেট শহর থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে অনায়াসে চলে যেতে পারবেন ভোলাগঞ্জ।

ভোলাগঞ্জ থেকে সাদাপাথর যেতে ভাড়া করতে হবে ইঞ্জিন চালিত নৌকা। একটি নৌকার ভাড়া পড়বে ৭০০-৮০০ টাকা। এ নৌকায় ১০ জন ওঠা যাবে অনায়াসে। ঘাট থেকে নৌকা ছাড়লে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যাবে কাঙ্ক্ষিত সাদাপাথরের দেশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *