Home » প্রথম পাতা » প্রতিমন্ত্রী মুরাদের বহিষ্কার চাইলেন বাহাদুর শাহ

সুদ খোর মেম্বার আইউব আলী

২৪ মে, ২০২১ | ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 32 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সরকারী সহায়তা প্রাপ্তির জন্য ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করার দুইদিন পর তাকে ফোন দেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার আইউব আলী। তিনি সহায়তা তো দূরের কথা উল্টো ফোন করা ব্যক্তিকে শাসিয়ে দেন। বলেন ‘‘আপনি বাড়ির মালিক আপনার জন্য এ সহায়তা না। আপনি কেন চাইতে গেলেন? আমি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্ষমা চাইবেন।’’ আইউব আলী ওই এলাকার প্রভাবশালীদের একজন। তার চোখ রাঙানিতে ভয়ে কাতর হয়ে যান ফোন দেওয়া সেই অসহায় পরিবারের কর্তাব্যক্তি ফরিদউদ্দিন। যখন সদর উপজেলার ইউএনও যান ঘটনাস্থলে তখন হিতাহিত জ্ঞান ছিল না ফরিউদ্দিনের। আইউব আলীর কথা মত বার বার ‘ক্ষমা চেয়ে বলেন আমার ভুল হয়ে গেছে।’ কিন্তু ফরিদউদ্দিন প্রকৃত ঘটনা আর বলতে পারেনি। শুধু এখানেই শেষ নয়। উল্টো শাস্তিস্বরূপ ১০০ জনকে খাবারের প্যাকেট দিতে বলেন। আর সেই খাবার বিতরণের তালিকাটিও প্রণয়ণ করেন ওই মেম্বার আইউব আলীর অনুগামীরা। এর আগে পরিবারের লোকজন আইউব আলীর কাছে গেলে বলেন ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জনকে দিলেও হবে না। ১০০ জনের মধ্যে ১০০ জনকেই দিতে হবে। ওই সময়ে আইউব আলী নিজেই ফরিদউদ্দিনকে ১০ হাজার টাকা সুদে প্রদান করেন। টার্গেট ছিল টাকা দিতে না পারলে ওই ভবনের অংশটুকু দখল নেওয়া। গত শনিবার ১০০ পরিবারকে সেই প্যাকেটের খাবার বিতরণের সময়ে উপস্থিত ছিলেন আইউব আলী নিজেই। দাঁড়িয়ে থেকে খাবার বিতরণ করেছেন। বিপরীতে বাড়ির মালিককে গুনতে হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। ভুক্তভোগী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম দেওভোগ এলাকার মৃত সুরুজ্জামান খানের ছেলে ফরিদ আহম্মেদ খান (৭৫)। তিনি শহরের নয়ামাটি এলাকার ‘আবুল গার্মেন্টস’ নামে হোসিয়ারী কারখানার শ্রমিক। ফরিদ আহমেদ খান বলেন, খুব কষ্ট করে জীবন যাপন করছি। ৩৩৩ নাম্বারে ফোন দিলে খাবার সহায়তা দিবে। যার জন্য ৩৩৩ এর ফোন দেই। একদিন পর স্থানীয় কাশিপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ফোন দিয়ে বলেন আপনি বাড়ির মালিক আপনার জন্য এ সহায়তা না। আপনি কেন চাইতে গেলেন? আমি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্ষমা চাইবেন। এর দুই দিন পর ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ এসে জিজ্ঞাসা করলে আমি ফোন দিয়েছি স্বীকার করি। মেম্বারের কথায় আমি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফোন দেওয়ার জন্য ক্ষমা চাই। তখন মেম্বার আইউব আলী আমাকে কথা বলতে দেয়নি। ইউএনও আরিফা জহুরা বলেন, ৩৩৩ নাম্বারে কেউ ফোন করলে সেটা স্থানীয়ভাবে খোঁজ খবর নেওয়া হয়। ফরিদউদ্দিন ফোন দেওয়ার পর আমি ওই এলাকার লোকাল মেম্বার আইউব আলীকে জানাই। তিনি আমাকে ফরিদউদ্দিনের আর্থিক স্বচ্ছলতার তথ্য দেন। পরে বৃহস্পতিবার আমি নিজে সরেজমিনে গেলে সেখানেও তিনি স্বীকার করেন যে বাড়ির মালিক। তার পরেও তিনি যদি লিখিত কোন অভিযোগ করেন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিবেচনা করবো। ইউপি মেম্বার আইউব আলী জানান, তিনি ইউএনও’কে অল্প জরিমানা করারও অনুরোধ করেছিলেন। তবে ইউএনও তাতে কর্ণপাত করেনি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *