Home » শেষের পাতা » সিদ্ধিরগঞ্জে ৪দিন ধরে পানির জন্য হাহাকার

সেন্টুতে ফুঁসছে আ’লীগ

১১ মে, ২০২২ | ৯:১২ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 71 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

প্রবাদে আছে ‘তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে।’ অর্থাৎ যাকে আদরে আপ্যায়নে বড় করা হয় সেই একসময় গুরুকে অসম্মান করে। আর সেই চিরায়ত বাণীকেই এবার যেন সত্য প্রমাণ করলেন ফতুল্লার কুতুবপুরের বহুল আলোচিত সমালোচিত ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সহসভাপতি সেন্টু এবার স্থানীয় এমপি শামীম ওসমান আশ্রয় প্রশ্রয়ের প্রতিদান কড়ায় গ-ায় বুঝিয়ে দিলেন। বহু নাটকীয়তার পরে অনুষ্ঠিত হওয়া কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঈদ পূণর্মিলনীতে শামীম ওসমানের অনেক উপরে নিজের ছবি রেখে সেন্টু যেন বুঝিয়ে দিলেন, কুতুবপুরের একচ্ছত্র অধিপতি আসলে তিনিই যেখানে কি না শামীম ওসমানের অবস্থানও তার নিচে। বিএনপি নেতাদের সাথে ঈদ পূর্নমিলনীর পর গত সোমবার তিনি আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের নিয়ে করেন ঈদ পূর্ণ মিলনী অনুষ্ঠান। সেখানে ঈদ পূর্নমিলনীর অনুষ্ঠানে করা ব্যানার নিয়েই সর্বত্রই চলছে সমালোচনার ঝড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ কর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ ফেইস বুক আইডিতে অনুষ্ঠানের ব্যানার দিয়ে পোস্ট করে নানা সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন। যেখানে দেখা যায় ব্যানারের ডান পার্শ্বে বিএনপি থেকে  আওয়ামীলীগে যোগদান করে নৌকা প্রতিক নিয়ে  চেয়ারম্যান হওয়া মনিরুল আলম সেন্টুর ছবি দেওয়া হয়েছে বেশ বড় করে পক্ষান্তরে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছবি দেওয়া হয়েছে অনেকটাই ছোট করে। আর তাই ফেসবুকে এ নিয় নেতা-কর্মীরা ব্যক্তিগত আইডি থেকে পোস্ট সহ নানা মন্তব্য করছে। আওয়ামীলীগ অভর্থনা উপ কমিটির সদস্য রিয়াজ উদ্দিন তার ফেইসবুক আইডি থেকে পোস্টে লিখেন “প্রথমত, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপার ছবি ছোট। দ্বিতীয়ত, ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ্ব এ. কে. এম শামীম ওসমান (এম.পি) মহোদয় এর ছবি ছোট করে দিয়ে একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ছবি কিভাবে সাংসদ মহোদয় এর ছবির চেয়ে বড় হয়। এই ব্যানারটা কিভাবে হলো, কেউ কি আমাকে অবগত করতে পারেন?” বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের ফতুল্লা থানা শাখার সাবেক সভাপতি মোঃ আরিফ নিজ আইডিতে পোস্ট করে লিখেছেন “কুতুবপুর ইউনিয়নের বড় ভাইদের বলছি, ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানে পিছনের যে ব্যানারটা লাগানো ছিলো আপনারা কি সেটা দেখেন নাই, একজন এম পি মহোদয়ের ছবি কি ব্যানারে ছোট দেওয়া হয়েছে আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখলাম, লজ্জা হওয়া উচিত  মুখে শামীম ওসমান ভাই প্রতিবাদ করার লোক নাই দুঃখ পেলাম।” এ রকম অনেকেই নিজ নিজ আইডি পোস্ট করেছেন। আর সেই সব পোস্টগুলোতে হুমড়ি খেয়ে মন্তব্য করে চলছেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী,সমর্থকেরা। গত সোমবারের কুতুবপুর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে ওই আয়োজনে সেন্টুই ছিলেন সর্বেসেরা। আর এমপি শামীম ওসমানের প্রতি এমন অসম্মান দেখেও কিছু বলতে পারেননি নেতাকর্মীরা। এ ব্যাপারে একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিচার কার কাছে দিবো? বছরের পর বছর বেড়ায় ক্ষেত খেয়ে যাচ্ছে। এই লজ্জা- অপমান মাথা নীচু করে সহ্য করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার ছিল না। যে সেন্টুকে সবাই বিএনপির সেন্টু নামে একনামে চিনতো, যে কি না কোনোদিনই জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলেনি, সেই এখন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান। যে সেন্টুর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মী হত্যার অভিযোগ রয়েছে, তাকেই কি না আমাদের মাথায় তুলে রাখতে হয়। কুতুবপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের নিয়মিতই চোখ রাঙায় সেন্টুর প্রভাবে, অথচ আমাদের হাত-পা যেন বাঁধা। এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী বলেন, ‘ভীষণ বিব্রতকর বিষয় এটি। চেয়ারম্যান সেন্টু লাখ লাখ নেতাকর্মীর মনে আঘাত দিয়েছেন। তিনি তো বিএনপি করেছেন, সংগঠন তো তার বোঝার কথা। আমি থানার সভাপতির সাথে কথা বলে সেন্টুর বিরুদ্ধে কী ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা দেখছি। একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা থানা বিএনপির প্রথম সারির নেতা ছিলেন সেন্টু। সেই সেন্টুই স্রেফ চেয়ারম্যানি বজায় রাখতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একেক প্রভাবশালী মহলের সাথে গভীর সম্পর্কে তৈরি করে বহাল তবিয়তে আছেন। এবারের ইউপি নির্বাচনে বিস্ময়করভাবে নারায়ণগঞ্জবাসীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিএনপির সেন্টুকেই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়। ২৫ কোটি টাকার বিনিময়ে এবার সেন্টু চেয়ারম্যানি টিকিয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এমন অবাক করা কা-ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তো বটেই, গোটা জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনেও প্রভাবশালী মহলের ইশারায় ধানের শীষ প্রতীক না নিয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে সেই মহলের চাওয়ামতো পাশ করেন। এ নিয়েও সমালোচনা কম হয়নি। স্বয়ং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কুতুবপুরের নির্বাচনে নৌকার পরাজয় ও বিএনপি নেতার জয় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন বলে সমকালসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ওই দফায় নৌকাডুবি নিশ্চিত করে প্রভাবশালী মহল। তাতে অবশ্য দমে যাননি সেন্টু। তাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া প্রভাবশালী মহলও থেমে যায়নি। বরং নিত্যনতুন কৌশলে বিএনপির সেন্টুকে নিয়ে পথচলা অব্যাহত রাখেন তারা। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, কুতুবপুরের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দমিয়ে রেখে সেন্টুকে শামীম ওসমানের ইচ্ছেতেই শেল্টার দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কুতুবপুর বিএনপি ও যুবদলেত ঈদ পূণর্মিলনীর দুইটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আরেক দফায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন সেন্টু। সেই বিতর্ক ধামাচাপা দিতেই ঈদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে তথাকথিত পূণর্মিলনীর আয়োজন করেন সেন্টু।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *