Home » শেষের পাতা » বন্দরে ২৭টি পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

সেলিম ওসমানের কাছে যে সমস্যা তুলে ধরলেন ইউপি চেয়ারম্যানরা

০৪ জানুয়ারি, ২০২২ | ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 93 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সদর-বন্দর আসনের আওতাধীন ৭টি ইউনিয়নের ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী এবং বিজিত উভয় প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যায় ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরে অবস্থিত উইজডম অ্যাটায়ার্সে এমপি সেলিম ওসমানের কার্যালয়ে বন্দর উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা কুদরত-এ- খুদা, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা সহ ৭টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সকল চেয়ারম্যান প্রার্থী, বিজয়ী সকল মেম্বার, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উক্ত আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছেন। আলোচনা সভায় এমপি সেলিম ওসমান ৭টি ইউনিয়নে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের তাদের নিজ নিজ এলাকার জরুরি ভিত্তিতে সমাধান প্রযোজন এমন তিনটি করে সমস্যার কথা উপস্থাপন করতে বলেন এবং চেয়ারম্যানরা সেই মোতাবেক নিজেদের ইউনিয়নের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সেই সাথে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সে সকল ইউনিয়ন গুলোতে প্রার্থীদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং এসব কারনে মামলা দায়ের হয়েছে সেই সকল মামলা গুলো আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এমপি সেলিম ওসমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে এমপি সেলিম ওসমান নিজের বক্তব্যে তাঁর নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন ৭টি ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকান্ডের স্থবির অবস্থা, বাধাগ্রস্থ হওয়া, ভবিষ্যত পরিকল্পনা সহ বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং অতীতে নিজেদের দায়িত্ব সবটুকু সঠিক ভাবে পালন করতে না পারার জন্য সকলের উদ্দেশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরিশেষে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের অসুস্থ্যতার কথা উল্লেখ করে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। তাঁর বক্তব্যের পরই তিনি নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে আলোচনা উন্মুক্ত করে দেন এবং নিজ নিজ এলাকার অতি প্রয়োজনীয় তিনটি সমস্যার কথা তুলে ধরতে বলেন। শুরুতেই বক্তব্য নিয়ে আসেন সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ফজর আলী। তিনি তার ইউনিয়ন এলাকার রাস্তা গুলোতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিষদ ভবনটির উন্নয়ন এবং ৯নং ওয়ার্ডে প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরসৈয়দপুর স্কুলের উন্নয়ন সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর অবকাঠামো গত উন্নয়ন করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন। আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, তাঁর ইউনিয়নে যাতায়াত সুগম করার জন্য ডিক্রিরচর এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ করতে হবে সেতু না হওয়া পর্যন্ত ফেরী সার্ভিস চালু করা। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে উন্নয়ন করে ইউনিয়নবাসীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং এলাকায় কিছু কাঁচা রাস্তা রয়েছে সেখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সহকারে রাস্তা পাকা করার কথা উল্লেখ করেন। ধামগড় ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, এমপি সেলিম ওসমান এমন একজন জনপ্রতিনিধি যিনি বিদেশে থাকা অবস্থাতেও তাঁর নির্বাচনী এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবরাখবর রাখেন যেকোন মাধ্যমে। তাই আল্লাহ কাছে প্রার্থনা আগে উনি সুস্থ্য হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। উনি সুস্থ্য হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসলে উন্নয়ন হবেই। মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ গাজী সালাম বলেন, মদনপুর এলাকায় একটি ফুটওভারব্রীজ, মদনপুর খালটি খনন এবং এলাকার রাস্তা গুলোতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে হবে। মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন বলেন, লাঙ্গলবন্দ ¯œানোৎসব আসন্ন। গত দুই বছর করোনার কারনে উৎসবের আয়োজন করা হয়নি। যদি এ বছর উৎসবের আয়োজন করা হয়। তাহলে লাঙ্গলবন্দে বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে এতে করে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হবে। তাই ¯œানের পূর্বে উন্নয়ন কাজ গুলো একটি পর্যায় নিয়ে আসা অতীব জরুরি। ¯œান অনুষ্ঠিত হওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের জল অত্যন্ত দূষিত হয়ে পড়েছে এই নদের জল রক্ষা করতে হবে। এছাড়াও এলাকায় কিছু কাঁচা রাস্তা রয়েছে সেগুলো পাকা করতে হবে। বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আমার ইউনিয়নে ৭টি রাস্তার কাজের টেন্ডার হয়ে পড়ে আছে। ইতোমধ্যে একটি রাস্তার সমাধান হয়েছে। বাকি রাস্তা গুলোর কাজ সচল করতে হবে। পাশাপাশি সড়ক গুলোতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে হবে এবং ইউনিয়ন এলাকায় দখল হয়ে যাওয়া খাল গুলো খনন করতে হবে। কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, তার এলাকায় খাল গুলো দখল মুক্ত করে খনন করা এবং ইউনিয়ন এলাকায় আরো একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন। এমপি সেলিম ওসমান সকল চেয়ারম্যানদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনেন সেই সাথে প্রত্যেক চেয়ারম্যানকে তাদের মেম্বারদের সাথে আলোচনা করে প্রস্তাবনা আকারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ রশিদ এর কাছে জমা দিতে বলেন। পাশাপাশি মদনপুর এলাকাটি যানজট মুক্ত রাখতে অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, সেখানে পুলিশের একটি স্থায়ী চৌকি স্থাপন করতে উপজেলার ইউএনও, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যান এম.এ.গাজী সালামকে একত্রে কাজ করার অনুরোধ করেন। সেই সাথে লাঙ্গলবন্দ এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন যেন পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করেন এবং পুলিশকে সাথে নিয়ে মাদক নির্মূলে কাজ করতে বলা হয়। এছাড়াও ধামগড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ এবং বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করে পরস্পরে সহযোগীতার মাধ্যমে ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজ করে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হোন। অপরদিকে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসনে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি আমার পছন্দের ব্যক্তি। কিন্তু আরো একজন পছন্দের ব্যক্তি আমার রয়েছে। তিনি হচ্ছেন কাজিম উদ্দিন ভাই। আগে তিনি এরপর আপনি। আপনি কাজিম উদ্দিন ভাইয়ের অভিমান ভাঙ্গাবেন। প্রয়োজনে আমিও উনার বাসায় যাবো। আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করবো। ধামগড় ও কলাগাছিয়া ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একে অপরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা গুলো আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আর ইউনিয়ন গুলোর উন্নয়ন কর্মকান্ড সহ প্রায় সকল কিছুই সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে সকলের অভিভাবক হিসেবে বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান এবং বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম.এ রশিদকে দায়িত্ব দিচ্ছি। উনি আমাকে যেভাবে নির্দেশ করবেন আমি সেই ভাবেই কাজ করবো। বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান এম.এ রশীদ বলেন, এমপি সেলিম ওসমান সকল বিজয়ী এবং পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে যে আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন এটা একটা মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। সমস্যা সমাধানে ওনি অনুরোধ করতে পারেন। কিন্তু সমাধান আপনাদের হাতে। মনে ক্ষোভ রেখে বুকে বুক মিলালে সমাধান হবে না। আপনি জনপ্রতিনিধি। আপনাকে ভাবতে হবে আমি জনগনের জন্য কাজ করবো। জনগনের গোলামি করবো। তাহলেই সকল সমস্যার সমাধান হবে। বন্দর উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা কুদরত-এ খোদা বলেন, আমরা সরকারী কর্মকর্তারা কোন এলাকায় গিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে পারলে মনস্ত্রাতিক ভাবে শান্তি পাই। আমাদের থেকে আপনারা যারা চেয়ারম্যান মেম্বার আছেন আপনারাই জনগনের সাথে বেশি সম্পৃক্ত থাকেন। আপনারা আমাদের কাছে জনগনের সমস্যা গুলো তুলে ধরবেন। আমরা আমাদের সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় সেই সকল সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত ভাবে কাজ করে যাবো। জেলা যুব সংহতির আহবায়ক রিপন ভাওয়াল এর উপস্থাপনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ভাইস চেয়ারম্যান সানা উল্লাহ সানু, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা, জেলা পরিষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম আলীনূর। আরো উপস্থিত ছিলেন, গোগনগর ইউনিয়নে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন, ধামগড় ইউনিয়নের পরাজিত প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, মুছাপুর ইউনিয়নের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুর রহমান, বন্দর ইউনিয়নের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোক্তার হোসেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *