Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

সেলিম ওসমানের প্রতি ক্ষুব্ধ আ’লীগ

০১ নভেম্বর, ২০২১ | ৬:২০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 86 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সদর-বন্দর আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীককে ‘গাঞ্জার নৌকা’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সাংসদের এমন মন্তব্য অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংসদের বক্তব্য নিয়ে তারা সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন। সাংসদের এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাড. আনিসুর রহমান রহমান দিপু। তিনি বলেন, ‘তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। উনি নিজেকে আওয়ামী ঘরনার লোক হিসেবে দাবি করেন। উনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নেত্রী-নেত্রী বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলে। আমাদের চেয়েও নেত্রীর প্রতি বেশি শ্রদ্ধা দেখান। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নেত্রী নৌকা প্রতীক দেয়নি বিধায় তিনি লাঙ্গল মার্কা নিয়ে পাশ করেছেন। আমরা জানি যে, উনি নেত্রীকে পছন্দ করে, শ্রদ্ধা করে। নেত্রীর ও জাতীর জনকের জন্মদিন ঘটা করে পালন করে। এই নৌকাটা কার প্রতীক? নেত্রী যাদের যোগ্য মনে করেছেন, তাদেরকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। উনি এই প্রতীক নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন মানে হলো, তার মনে এক আর মুখে আরেক।’ সাংসদ সেলিম ওসমানের বক্তব্য নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, ‘নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক, নৌকা বঙ্গবন্ধুর প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতীক নৌকা। তিনি নৌকাকে কটাক্ষ করে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করেছেন, শেখ হাসিনাকে অবমাননা করেছেন এবং আওয়ামী লীগকে অপমান করেছেন। আমরা দলীয় প্যাডে প্রতিবাদ জানাইনি। তিনি আমাদের দলের কেউ নন। তারা এই নৌকার আশ্রয়ে আজকে এমপি। এটা তাদের ভুলে গেলে চলবে না। সামনে আমাদের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং আছে। সেখানে আমরা এ নিয়ে কথা বলবো। এছাড়া কেন্দ্রেও এই বিষয়ে জানাবো।’ প্রতিবাদ জানিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবেই আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ করার কথা ছিল। কিন্তু তারা তা করেননি। নৌকা দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। নৌকাকে কটাক্ষ করে তিনি বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করেছেন। স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করেছেন। প্রধানমনমন্ত্রীকে অপমান করেছেন। গোটা জাতিকে কটাক্ষ করেছেন। তার ওই বক্তব্যে আমরা দুঃখ পেয়েছি। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘সেলিম ওসমানের মত ব্যক্তির কাছ থেকে আমরা এই ধরনের বক্তব্য আশা করিনি। তিনি যেই পরিবারের সন্তান, সেই পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি অন্তত নৌকার বিরুদ্ধে তিনি এমন কথা বলবে, তা আমাদের ধারণার বাইরে। এটা সমীচিন হয়নি। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের এমন নেতৃত্বের কারণেই এই বক্তব্য আসছে। নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারা উদাসীন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব উদাসীন। তাই নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির নেতা এই বক্তব্য রাখতে পারছে। বাংলাদেশের অন্য কোথাও এমন বক্তব্য রাখার সাহস জাতীয় পার্টির কেউ দেখায়নি।’ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘তারাতো আওয়ামী লীগের দয়াতেই এমপি। তার ভাই তিনবার এমপি হয়েছে এই নৌকা নিয়ে। তার বাবাও এমপি হয়েছিলেন নৌকায়। তারপরও তিনি কোন মুখে বললেন, গাঞ্জার নৌকা! তার মুখে কী এই কথাটা বলতে একবারও আটকালো না? তিনি কী জানেন না, নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক, বঙ্গবন্ধুর প্রতীক, শেখ হাসিনার প্রতীত? এই নৌকাকে আমরা বুকে ধারণ করি। অন্তরে লালন করি। তিনি নৌকাকে কটাক্ষ করে বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করেছেন। সম্ভবত তিনি সেদিন নিজেই গাঁজা খেয়ে মঞ্চে উঠেছিলেন। যার কারণে আবোল তাবোল বলেছেন।’ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘এই নৌকার মাঝি ছিলেন বঙ্গবন্ধু, এই নৌকার মাঝি ছিলেন মওলানা ভাসানী। বর্তমানে এই নৌকার কান্ডারি হয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অথচ আমাদের দুর্বস্থার কারণে জাতীয় পার্টির মত একটি তিন নম্বর দলের এমপি নৌকাকে কটাক্ষ করে লম্বা লম্বা বক্তৃতা দিচ্ছেন। চেইন অব কমান্ড না থাকার কারণেই তিনি এই দুঃসাহস দেখাতে পারছেন। এটা হচ্ছে আমাদের জন্য দুঃখজনক একটি ঘটনা।’

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *