Home » শেষের পাতা » স্কুল ছাত্র ধ্রুব হত্যায় খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

সোনারগাঁয়ে নিরপেক্ষ ভোট উপহারের অঙ্গিকার প্রশাসনের

২৭ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 82 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সোনারগাঁ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আর মাত্র ১দিন বাকি। কাল রবিবার ভোট গ্রহন। আর এ ভোট নিয়ে শঙ্কায় আছেন নৌকার প্রার্থীরা। এতে করে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থীরা যেন দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো এলাকায় নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। যদিও ৪টি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকী রয়েছে ৪টি ইউনিয়ন। আর এই ৪টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রার্থীদের এলাকায় টিকে থাকাই কষ্টকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সাথে প্রত্যেক ইউনিয়নের সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যরাও আতঙ্ক ও হুমকি ধমকির মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। সূত্র বলছে, বাকী থাকা সোনারগাঁয়ের ৪টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জামপুর ইউনিয়নে হুমায়ুন কবির ভুঁইয়া, শম্ভুপুরা ইউনিয়নে নাসির উদ্দীন, সাদিপুর ইউনিয়নে আব্দুর রশিদ মোল্লা ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নে আব্দুল বাতেন মিয়া। আর তাদের বিপরীতে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থী জামপুর ইউনিয়নে আশরাফুল ভুঁইয়া মাকসুদ, শম্ভুপুরা ইউনিয়নে আব্দুর রউফ ও সাদিপুর ইউনিয়নে আবুল হাসেম। এছাড়া নোয়াগাঁও ইউনিয়নে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ইউসুফ দেওয়ান ও সাবেক চেয়ারম্যান সামসুল আলম। নৌকা প্রতিকের বিপক্ষে এরা দুজনেই শক্তিশালী প্রার্থী। গত বৃহস্পতিবার সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল এলাকায় নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ও লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় পক্ষের প্রায় ২০ জন কর্মী সমর্থক আহত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি গাড়ী ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন বিকেলে জামপুর ইউনিয়নে জাতীয়পার্টির সমর্থিত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুল আলম মাকসুদ ভুইয়া তার কর্মী সমর্থক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বের হলে নৌকার সমর্থিত নেতাকর্মীরা তার পথরোধ করে। সেই সাথে নেতাকর্মীদের এলোপাথারি পিটিয়ে আহত করে এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জামপুরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এমন সময় খবর পেয়ে নৌকার প্রার্থী হুমায়ন কবির ঘটনাস্থলে আসলে তার নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে মাকসুদ ভুইয়ার সমর্থকরা গুলি ছুড়েন। পরে পাল্টা হুমায়ুন কবিরের নেতাকর্মীরা মাকসুদ আলমের সমর্থকদের উপর ফের হামলা চালালে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ লেগে যায়। সংঘর্ষে অস্ত্রধারীসহ উভয় পক্ষের ২০জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর আগে আশরাফুল আলম মাকসুদের বাবাকে অপহরণ করার চেষ্টা করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে তার বাবাকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তার আগে নির্বাচনী প্রচাণার শুরুতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হুমায়ুন কবির ভুঁইয়া ও তার লোকজন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুল ভুঁইয়া মাকসুদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছিল। সেই সাথে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে উঠান বৈঠক করতে গিয়ে আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত প্রকাশ্যে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন। লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন প্রকাশ্যে গণসংযোগ করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এদিকে শম্ভুপুরা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাসির উদ্দীনের পক্ষে এক উঠান বৈঠকে গিয়ে প্রকাশ্যে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রউফকে আবারো মামলা দিয়ে লাল দালানের ভাত খাওয়ানোর হুমকি দিয়ে আসছেন। তার এই ঘোষণার পর পরই মুগারচর এলাকায় লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করা হয়। নাসির উদ্দিন যুবলীগ নেতা জামাল হোসেনের হত্যা মামলার আসামী হলেও তার পক্ষ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আব্দুর রশিদ মোল্লার লোকজন প্রতিনিয়ত জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আবুল হাসেমের নেতাকর্মীদের হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে তারা কেন্দ্র দখলের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রত্যেক ঘরে ঘরে গিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে নোয়াগাঁও ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল বাতেন মিয়ার তেমন জনপ্রিয়তা নেই। তার বিপরীতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ইউসুফ দেওয়ান ও সাবেক চেয়ারম্যান সামসুল আলম। এখানে নৌকার জয়ের সম্ভাবনা না থাকায় তারা জোর করেই নির্বাচনী ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা তাদের পছন্দের লোকদের সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যদের নির্বাচিত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এখানেও অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনা রয়ে যাচ্ছে। কালকের নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে নৌকার প্রার্থীরা। তবে তারা যে কোনে মূল্যে বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েচেন। আর প্রশাসনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসন যে কোন প্রতিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের দাবি তারা কোন প্রকার অরাজকতা বরদাস্ত করবে না। যার ভোট সে দিবে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়াই তাদের অঙ্গিকার।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *