Home » শেষের পাতা » মেয়াদি সুদের ফাঁদে জিম্মি হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী

স্বপদে ফিরছেন তৈমূর!

১৪ মে, ২০২২ | ৫:৫৮ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 27 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বিএনপির চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার আবেদন করলেই তার পদ ফেরত পাবেন বলে বিএনপি একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে অ্যাডভোকেট তৈমূর পদ ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা যায়, গত ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে যায়। আর এই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নির্বাচনে অংশ নেন। তবে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জয় পাননি তৈমূর। নির্বাচনের পরপরই গত ১৮ জানুয়ারি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নির্বাচনে পরাজিত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক আপনাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে নির্দেশক্রমে বহিস্কার করা হলো। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, তবে যদি বহিস্কার করা হয়ে থাকে তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি বিএনপির বাইরে যাবো না। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন গড়ে তুলবো। তবে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে দল থেকে বহিস্কার কলেও তার জনপ্রিয়তা কমে যায়নি। এখনও তিনি তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। প্রতিনিয়তই তিনি তার নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর রাখছেন। তিনি যেখানেই যান সেখানেই নেতাকর্মী সমর্থকরা ছুটে আসে। গত ২ মার্চ দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। আর এই সমাবেশে বিএনপি থেকে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে মিছিল নিয়ে যোগদান করেছেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় মিছিলে উপস্থিত থাকা নেতাকর্মীদের হাতে ছিল তৈমূরের প্রত্যাহার চেয়ে প্ল্যাকার্ড। সেই সাথে তাদের ব্যানারেও ছিল অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবী। তারা তৈমূরের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলেন সমাবেশ প্রাঙ্গন। এরই মধ্যে বিএনপিতে গুঞ্জন চলছে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে আবার দলে ফিরিয়ে নেয়া হবে। তবে এই জন্য সাংগঠনিক প্রক্রিয়া মেনে তৈমূরকে দলের কাছে আবেদন করতে হবে। আর এই আবেদন করলেই সেই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে তাকে আবার পূর্ণপদে বহাল করা হবে। এর আগে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর এতে আহবায়ককরা হয়ছিল অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে এবং সদস্য সচিব করা হয় অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে। আর এই কমিটি ঘোষণার আগে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চলে নানা হিসেব নিকেষ। সকল হিসেব নিকেষ মিলিয়ে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের উপরই জেলা বিএনপির দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়। জেলা বিএনপির এই কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সমাগম ঘটিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ঘোষিত আহবায়ক কমিটি হওয়ার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে যেন গণজোয়ার উঠে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জেগে উঠেন। তারা নতুনরুপে ফিরে এসেছেন নারায়ণগঞ্জের রাজপথে। মনে হয় যেন এমন নেতৃত্বের অপেক্ষায়ই ছিলেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। কিন্তু তৈমূরকে বহিস্কারের পর জেলা বিএনপি আবার নির্জীব হয়ে পরে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *