Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত বন্দর আ’লীগ

২৩ মে, ২০২১ | ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 44 Views

ডান্ডিবার্তা রির্প্টো

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। আওয়ামীলীগের উৎপত্তি থেকে মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রাখাসহ স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বন্দরে আওয়ামীলীগের শক্ত অবস্থান রয়েছে। আওয়ামী লীগের অবস্থান এতটাই শক্তিশালী ছিল স্বৈরশাসনের আমলে আওয়ামীলীগকে টক্কর দিতে পারেনি জাপা। তবে এখন আর সে অবস্থা নেই। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামীলীগ জাতীয়পার্টির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করে এবং সদর-বন্দর আসন জাতীয়পার্টিকে ছেড়ে দেয় তখন থেকেই ধীরে ধীরে সফল হতে শুরু করে জাপা। তখন থেকে শুধু জাতীয়পার্টি নয় বন্দর আওয়ামীলীগেরও নীতিনির্ধারক হয়ে ওঠে জাপা। বন্দর আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু নেতা জাপা এমপির হাত ধরে ভাগিয়ে নেয় আওয়ামীলীগের শীর্ষ পদগুলো। তখন থেকে তাদের আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। তাদেরকে পদ থেকে সরানোর সাহস পর্যন্ত দেখাতে পারেনি কেউ। যারা ত্যাগী, বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত অনুসারী এবং আওয়ামী লীগকে মন থেকে ভালবাসেন তারা হয়ে পড়েন অভিভাবকহীন। বিভিন্ন সরকারী কর্মকান্ডসহ দলীয় কর্মকান্ডে জাতীয়পার্টি ও আওয়ামীলীগ মিলে মিশে একাকার হয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতৃবৃন্দ হয়ে যায় ছন্নছাড়া। তাদের অভিযোগ, নবম জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে একাধারে এই আসনটি জাতীয়পার্টিকে ছেড়ে দেয়ায় অভিভাবকহীন হয়ে নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ে আওয়ামীলীগ। সেখানে প্রথমে নাসিম ওসমান এবং তার মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরী হিসেবে তার ছোট ভাই সেলিম ওসমান এই দায়িত্বটি কাঁধে নেন। আর আওয়ামীলীগের স্বার্থলোভী নেতারা যার যার এলাকায় তাদের শীর্ষপদটি কিংবা আধিপত্য ধরে রাখতে জাতীয়পার্টি ঘেঁষা কমিটি বা দল তৈরী করে নেয়। আর এই সুযোগটি কাজে লাগায় বিএনপির কিছু স্বার্থবাদী নেতা। তারাও তাদের সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীর মাথার উপর ছড়ি ঘোরানোর সুযোগটি লপ্ত করে ফেলে। আর এতে করে বন্দরে যারা একনিষ্ঠ আওয়ামীলীগ তাদেরকে কাবু করছে সাধারণ মানের আওয়ামীলীগ, জাতীয়পার্টি কিংবা বিএনপি নেতা। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বন্দরে বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদে আছে বন্দরের বেশ কয়েকজন নেতা। তারাও বন্দর আওয়ামীলীগের কোন কর্মকান্ডে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন না। এমনকি জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নুর হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এডভোকেট ইসহাক ও আব্দুল কাদির ডিলার, মহানগর আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাবীব আল মুজাহিদ পলু, সদস্য আবেদ হোসেনসহ বন্দরের বেশ কয়েকজন নেতা জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের কোন কর্মকান্ডের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা দেখা যায় না। সেখানে তারা সবসময় অবহেলিত রয়েছেন। ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যেহেতু ক্ষমতায় এখন আওয়ামীলীগ আর আওয়ামীলীগের সমর্থনে জাতীয়পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শিল্পপতি সেলিম ওসমান। তাই তার অর্থ হাতছাড়া করতে রাজী নয় বন্দরের প্রভাবশালী কিছু নেতা। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অনেক ত্যাগী নেতা প্রতিদ্বন্ধিতা করতে চাইলেও সেলিম ওসমান আগে থেকেই বিভিন্ন জায়গার জনসভায় বলেছেন যারা বর্তমান চেয়ারম্যান আছেন তাদেরকেই তিনি পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে চান। আর এতে করে আওয়ামীলীগের কর্মীদের প্রত্যাশিত নেতাকে জনপ্রতিনিধি করতে পারছেন না। এখানে ক্ষমতালোভী ও সুবিধাবাদী নেতারা তার  স্নেহভাজন হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। জেলা আওয়ামীলীগ এর সহসভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া বলেন, জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আছে, এ বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব তাদের। তারা এই বিষয়টি দেখবে। এখানে তারা কীভাবে দেখভাল করতেছে এটা হলো বিষয়। এখানেতো আওয়ামীলীগের সমর্থিত জাতীয়পার্টির এমপি, ওসমান পরিবারের এমপি। আওয়ামী পরিবার ও জাতীয়পার্টি সবই তারা। এই পরিবারকে বাদ দিয়ে তো বন্দর থানার নেতৃবৃন্দ কোন কাজ করবে না। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ বারবার এখানে জাতীয়পার্টির প্রার্থী দেয়ায় এখানকার আওয়ামীলীগের কী অবস্থা তা কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগই জানে। তিনি বলেন, থানা আওয়ামীলীগের কমিটি এখনো কেন্দ্রীয় কমিটি বা জেলা কমিটি অনুমোদন করেনি। সুতরাং এখানকার সভাপতি ও সম্পাদক করবেটা কি?  তিনি বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ বলতে জননেত্রী শেখ হাসিনা। সমস্তকিছু নেত্রীর নখদর্পণে। জেলা কমিটি থেকে শুরু করে থানা পর্যায়ের সকল কমিটির বিষয়ে উনার জ্ঞান আছে। নেত্রীর কাছে কোন খবর অজানা নাই। তিনি বলেন, এখন জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ কমিটির মেয়াদউত্তীর্ণ হয়ে গেছে। যে সমস্ত থানা কমিটি গঠন করা হয়েছে সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণের পথে। কোভিডের কারণে এখন রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাজকর্ম সচল নয়। মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য ও বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবেদ হোসেন বলেন, ‘আমি যখন সাধারণ সম্পাদক ছিলাম তখন আওয়ামীলীগের লোক নিয়েই কমিটি গঠন করেছি। এখন আমি উপজেলা এলাকায় নাই, এখন সিটি কর্পোরেশনের জায়গায় আছি। উপজেলা কমিটি শুধু সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছে পুর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো গঠন করা হয়নি। অনেক বছর হয়ে গেছে ইউনিয়ন কমিটিগুলো গঠন করা হয়নি। এগুলো নিয়ে জেলা কমিটির সভাপতি সেক্রেটারী চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন। জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘বর্তমান কমিটি নিয়ে কী বলব, তাদের কর্মকান্ডেই সব প্রকাশ পাচ্ছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের কমিটি থেকে ৪টি ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই কেন্দ্রের কাছে তাদের বিরুদ্ধে নালিশ করেছে। বন্দরে আওয়ামীলীগ এবং জাতীয়পার্টিকে আলাদাভাবে খুঁজে বের করা কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন হালুয়া রুটির ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে রাজনীতি চলছে। প্রকৃত অর্থে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে বাস্তবায়ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের উন্নয়ন কার্মকান্ড জনগণের দোর গোড়ায় পৌছে না দিয়ে তারা ব্যক্তি বিশেষের তাবেদারী শুরু করেছে। তাই তারা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা ভূমিকা রাখতে পারতাছি না, কারণ জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কারণেই বর্তমানে এ ধরণের পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ আওয়ামীলীগের কমিটি ছাড়া নারায়ণগঞ্জের কোন উপজেলার কমিটিই গঠনতন্ত্র মোতাবেক এবং জেলা কমিটিকে অবগত সাপেক্ষে করা হয়নি। একারণে এখানকার কার্যকলাপগুলো কোন জবাবদিহিতার মধ্যে নাই। এখানে ব্যক্তি বিশেষের কাছে তারা ধর্ণা দিতেছে এবং ব্যক্তি বিশেষের সাথে তার রাজনীতি করতেছে। এই সব কমিটিগুলো তৈরী সম্পর্কে জেলা কমিটি কিছু জানে না।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *