Home » প্রথম পাতা » রূপগঞ্জ ভ’মি অফিসে অনিয়মই যেন নিয়ম

স্বাস্থ্যবিধি না মানার বেড়াজালে নারায়ণগঞ্জ

২১ জুন, ২০২০ | ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 1083 Views

হাবিবুর রহমান বাদল
নারায়ণগঞ্জকে রেডজোন হিসাবে ঘোষণা দিয়ে লকডাউনের আওতায় আনা হবে এমনটা প্রচার হচ্ছে পক্ষকালেও বেশী সময় ধরে। গত ১৫ জুন পর্যন্ত পূর্ব ঘোষিত লকডাউন আরো বাড়িয়ে কঠোর ভাবে জোন ভিত্তিক লকডাউন দেয়া হবে এমনটা জুনের প্রথম সপ্তাহে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করা হয়। এমনকি লকডাউন শুরু করার ঘোষণা দিয়ে শহরে কে বা কারা মাইকিং করলেও পুলিশ সুপার এই লকডাউনের সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, কারা মাইকিং করেছে তাদের খুঁজে বের করা হবে। ঘটনার এক সপ্তাহ পরও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনই গত শুক্রবারই মৃতের সংখ্যা ১শ’ পূর্ন হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি ভাবে সাড়ে ৪ হাজার ছাড়ালেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা এই সংখ্যা ৫০ হাজারের কম নয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর দাবি আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজারের কাছাকাছি। এরই মধ্যে গত ২দিন যাবত নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া সেই অর্থে নমুনা পরীক্ষাও হচ্ছে না। এমতাবস্থায় সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩০ হাজার আক্রান্ত হলে জেলায় এ সংখ্যা কত হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বতর্মান অবস্থাকে ভয়াবহ আখ্যায়িত করে বলছেন, আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলছে। এমতাবস্থায় নিজে এবং নিজের পরিবার পরিজনকে সুরক্ষিত রাখতে হলে নিজেকে সচেতন হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। নারায়ণগঞ্জে সচেতন হওয়াতো দূরের কথা শহরে বের হলে মনে হয়না করোনা ভাইরাসের মত মহামারি যা অত্যন্ত ছোঁয়াচে তা দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। বরং শহরে স্বাস্থ্য বিধি মানার কোন লক্ষনই কারো মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। গাড়ির সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার চাইতে বেশী। শহরের চাষাড়ায় শত শত লোক লাইন দিয়ে কেনা কাটা করছে। প্রকাশ্যে চলছে খানাপিনা। ফুটপাতে দলবেধে কেনাকাটা দেখে মনে হয়, এ যেন কোন ঈদের আগের রাতের দৃশ্য। পুলিশ নারায়ণগঞ্জকে হটস্পট ঘোষণার পর কিছুটা সচেতন হলেও এখন তারা অনেকটাই নিরব। চাষাড়ায় পুলিশ বক্সে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা আড্ডা মারছে আর আশেপাশে স্বাস্থ্যবিধির কোন তোয়াক্কা না করে চলছে বেচাকেনা। এযেন করোনার ভয় নেই কারো কাছে। নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ মানুষ মনে করে এই সংক্রমনের হাত থেকে বাঁচতে হলে কিংবা লাশের সারি যদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয় তবে মানুষকে ঘরে রাখার সকল প্রকার আইন প্রয়োগ করতে হবে। কারো কারো ভাষায় “মাইরের উপর কোন ওষুধ ন্ইা” নারায়ণগঞ্জেও আইন শৃংখরা বাহিনীকে এ পথেই যেতে হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখার কোন বিকল্প দেখছে না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া অপরিকল্পিত লকডাউন যার সাথে সাধারণ মানুষ অরিচিত নয় এমন কিছু দিয়ে করোনা ভাইরাসের মত মহামারি থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে বাঁচানো যাবে না। বাস্তবতা হলো প্রায় ৩০ লাখ মানুষের এই নারায়ণগঞ্জে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা কত তা আমরা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছি না। তার উপর নারায়ণগঞ্জ হাসপতালে দুনীর্তি আর অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রকৃত চিকিৎসা পাচ্ছে না এমন অভিযোগও রয়েছে। এই হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য যে পরিচালনা পরিষদ রয়েছে তারাও গত ৪ মাসে কোন সভা করেনি বলে জানা গেছে। তাছাড়া চাকুরি থেকে অবসর প্রাপ্ত একজন তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হাসপাতালের একটি চক্র গড়ে তুলে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী। অপরদিকে রেডজোন ঘোষনা করা হলেও তা কার্য্যকরের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনও তেমন কঠোরতা দেখাচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের দুর্বল মনোভাবের কারনে সাধারণ মানুষের মধ্যে রেডজোন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবনতা তেমন দেখা যাচ্ছে না। জেলা প্রশাসন লক-ডাউন কার্য্যকর করার ক্ষেত্রে হার্ডলাইনে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই। অন্যথায় জেলাবাসীকে করোনা ভাইরাস সংক্রমনকে থেকে রক্ষার জন্য যে সকল পরিকল্পনাই গ্রহন করা হউক না কেন তা কেবল আইওয়াশ বলে মনে করছেন জেলার সচেতন মহল। এদিকে করোনা সংক্রমনের প্রার্দুভাব রোধে নারায়ণগঞ্জ সদর-আড়াইহাজার এবং রূপগঞ্জকে রেডজোন ঘোষনা করা হয়েছে। এবং রূপগঞ্জ ইউনিয়নকে পরীক্ষা মূলক লকডাউন করা হয়। এমনকি রেডজোন কার্য্যকর করার ক্ষেত্রে স্থাণীয় প্রশাসনকে তেমন কার্য্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। গতকাল দুপুর থেকে সদরের বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়কগুলো পরিদর্শন করে দেখা যায়, সদরের সড়কগুলোতে উপচেপড়া মানুষের ভীড়। সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবৃদ্ধি। রেডজোন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও মানুষের চলাচলে এর প্রভাব তেমন একটা দেখা যায়নি। এমনকি করোনা ভাইরাস নামক একটি মরনব্যাধি সংক্রমন নারায়ণগঞ্জে মহামারি আকার ধারন করেছে এবং এর ছোবলে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন একাধিক মানুষ মারা গেলেও বিন্দু মাত্রও দুশ্চিন্তার লক্ষনও দেখা যায়নি। সূত্রে জানা যায়, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের এপিসেন্টার (কেন্দ্রস্থল) নারায়ণগঞ্জে লকডাউনের সেই পুরনো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সংক্রমন ঠেকাতে প্রাথমিক ধাপে শহরের তিনটি আবাসিক এলাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লক-ডাউন ঘোষনা করা হয়। পরবর্তীতে জেলার সদর-আড়াইহাজার-রূপগঞ্জসহ তিনিটি উপজেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে যে কোন সময় লকডাউনের ঘোষন্ াআসতে পারে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেডজোন এলাকা হিসেবে ঘোষনা করা হলেও রেডজোন চিহ্নিত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষ ঘোষিত রেডজোন মানতে দেখা যায়নি। দেশের প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় নারায়ণগঞ্জে। এরপর দ্রুত সংক্রমিত হয়ে পড়ে জেলাটি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৭ এপ্রিল সরকারিভাবে পুরো জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তবে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে গত ১০ মে দোকানপাট খুলে দেওয়ার পর লকডাউনে শিথিলতা আসে। এরপর গত ৩১ মে গণপরিবহন চালু ও সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর লকডাউন অকার্যকর হয়ে পড়ে। এদিকে সংক্রমন থেমে নেই। প্রতিদিন গড়ে একশো’রও বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে। জেলা প্রশাসক ও করোনা কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন তার কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে ২ এপ্রিল জানান, তার জানামতে ঐদিন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৩ জন। সেদিন পর্যন্ত কোন মৃত্যু নেই বলে জেলা প্রসাশক জানালেও মাত্র ৭৮ দিনে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি ভাবে স্বীকার করা হয়েছে ১শ’ জন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। আর এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার ছাড়ালেও প্রকৃত অর্থে নারায়ণগঞ্জে কতজন আক্রান্ত তা পরীক্ষা ছাড়া কেউ বলতে পারছে না। আর এই অবস্থায় শহরে যেভাবে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক দূরত্ব না মেনে চলাচল করছে তাতে এ অবস্থা চলতে থকেলে নারায়ণগঞ্জের আগামী দিনের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ বলে আশংকা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *