আজ: বৃহস্পতিবার | ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১১ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি | রাত ১:০৬

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

১২ রবিউল আউয়াল বিশ্বনবির শুভাগমন যার আগমনে পৃথিবী হয়েছিল আলোকময়

ডান্ডিবার্তা | ৩০ অক্টোবর, ২০২০ | ৯:৪৬

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দুনিয়াতে আগমন করবেন সেদিন মা আমিনা বলেছেন, আমার মনে হচ্ছে আকাশের সব তারকারাজি যেন আকাশ থেকে আমার ঘরে নেমে পড়বে। সুবহানাল্লাহ! ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এ দিন, ১২ রবিউল আউয়াল; সোমবার। পাপ পঙ্কিলতার আঁধার মাড়িয়ে সত্য আর সহনশীলতার মহান বাণীর ধারক ও বাহক হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভাগমন। আজকের এ দিনে তিনি এই ধরাকে করেন উজালা, আলোকবর্তিকা নিয়ে অবতরণ করেন এই পৃথিবীর বুকে। যার আগমনে পৃথিবী হয়েছিল আলোকময়। মা আমিনার ঘর হয়েছিল নূরে ঝলমল আর সমগ্র পৃথিবী হয়েছিল আনন্দে পুলকিত। তিনি আর কেউ নন, আমাদের প্রিয় সাইয়্যেদুল মুরসালিন, খাতামুন নাবিয়্যিন, শাফিউল মুজনিবিন, রাহমাতুলল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা আহমাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যাঁর উপমা গণনা করে কিংবা লিখে শেষ করা কারো দ্বারাই সম্ভব নয়।

প্রিয় নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহান শুভাগমনে ধন্য হয়েছিল এ পৃথিবীর প্রতিটি অলি-গলি ও পথ-প্রান্তর।পৃথিবী জুড়ে যখন পাপ পঙ্কিলতা, হত্যা রাহাজানি, জুলুম-নির্যাতন ও ব্যভিচারসহ হেন কোনো অপকর্ম ছিল না, যা সে সময় আরবরা লিপ্ত ছিল না। অন্ধকার জগতের সেই কঠিন সময়ে মা আমিনার কোলজুড়ে আমাদের মাঝে তাশরিফ আনলেন সারওয়ারে কায়েনাত, ফখরে মওজুদাত, রুহে দু আলম হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তার আগমনে দুনিয়াজুড়ে বইছিল শান্তির সুবাতাস।

হৃদয় দিয়ে যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভাগমন কে আমরা উপলব্ধি করতে পারি তবেই প্রত্যেক মুমিন মুসলমান প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সব সুন্নাতকে আঁকড়িয়ে ধরবে।

বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ কি অনুভব করে যে, কত বড় সৌভাগ্যবান এ উম্মাহ। আল্লাহ তাআলা যাদেরকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লােরে উম্মত হিসেবে দুনিয়াতে তাদের মনোনীত করেছেন। শুধু এ কারণেই সিজদাবনত চিত্তে এর লাখো-কোটি বার শোকরিয়া আদায় করা মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব।

তিনি ছিলেন বিশ্ব মানবতার জন্য কোমল মনের, শান্ত প্রকৃতির। এক কথায় বলতে গেলে, কেউ কখনো তার তুলনায় কখনো আসেনি, কোনোদিন আসবেও না। তিনি নিজেই তাঁর তুলনা। তিনি হলেন বিশ্ব মানবতার জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আদর্শ। বিশ্ব মানবতার মহান শিক্ষক ও পথ প্রদর্শক। সত্য ও ন্যয়ের সঠিক পথের দিশারী।

প্রিয় নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিলাদ তথা জন্ম থেকে ওফাত পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত, সময়, ক্ষণের কথা ও কাজ মুসলিম উম্মাহসহ গোটা মানব জাতির জন্য জীবন চলার পথের অন্যতম পাথেয়।

সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের, মিলাদ, সীরাত তথা উসওয়াতকে মুমিন মুসলমান মাত্র হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করা একান্ত আবশ্যক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

আল্লাহ তাআলা এ দিনটিকে মুসলিম উম্মাহর জীবন গঠন করার জন্য উসওয়াতুন্নবী শীর্ষক আলোচনা ও অনুপ্রেরণা লাভের দিন হিসেবে পালন করার তাওফিক দিন। গোটা মানবজাতিকে বিশ্বনবির পরিপূর্ণ আশেক হওয়ার তাওফিক দান করুন। কথা, কাজ ও কর্মে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিপূর্ণ অনুসরঃণ ও অনুকরণ করার তাওফিক দান করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *