Home » প্রথম পাতা » ফারদিন হত্যা মামলায় তথ্যগত ভুল: ডিবি

৩শ’ শয্যায় করোনা পরীক্ষায় ভীড় স্বাস্থ্যবিধি মানছেনা কেউ

৩১ জুলাই, ২০২১ | ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 56 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

গত ২৭ জুলাই রিফাত হোসেনের (ছদ্ম নাম) হালকা জ¦র হয়, জ¦রের পর থেকে সর্দি, কাশি। প্রথমে তিনি কালের পরিবর্তনে এমনটা হতে পারে বলে ভেবে নেন। বাড়ির নিকটবর্তী ফার্মেসী থেকে সাধারন জ¦রের ঔষুধ খেলেও শরীরের পরিবর্তন না হওয়ায় প্রাইভেট ডায়াগনষ্টিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করোনা টেস্ট করতে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে এসেছেন। এসেই সম্মুখীন হয়েছেন লম্বা সিরিয়ালের, পড়ছে বৃষ্টি। দ্বীর্ঘক্ষণ লম্বা সিরিয়ালে দাড়িয়ে থাকায় তার শারীরিক দূর্বলতা বৃদ্ধি পেলে পরীক্ষা না করিয়েই বাড়ি ফিরেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার ৩০০ শয্যা হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা যায়,  রিফাত হোসেন শুধু একা নন, তার মতো অনেকেই নমুনা দিতে এসে দীর্ঘক্ষণ সিরিয়ালে মাত্রাতিরিক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কেউবা আবার সিরিয়ালেই দাড়ানো থেকে বসে পড়েছেন। অতিরিক্ত রোগীর ভীড়ে ছাউনির বাহিরে রোগীদের সিরিয়াল। কখনো প্রবল বৃষ্টি কখনো তীব্র রোদ। এদিকে রোগীদের মাঝে নেই সামাজিক দুরুত্ব। নেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় রোগীদের সিরিয়াল শৃঙ্খল আনা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে সংক্রামনের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী রোগীরা। মাদরাসার শিক্ষক নাসিমা সিরিয়ালে ছেড়ে গাছের নিচে গিয়ে বসেছেন। তার সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বলেন, শরীরের অবস্থা ভাল না। কয়েকদিন পরে অপারেশন করব। ডাক্তার বলছে, অপরেশন করারা আগে করোনা নেগেটিভ থাকতে হবে। এই কারণে আসছি। ২ ঘন্টা যাবৎ লাইনে দাড়ায় আছি। সিরিয়ালটা একজনরে দেখতে বলে এখানে এসে বসছি। মানুষের যে অবস্থা, কেউ কেউ টেস্ট করতে এসেও মুখে মাস্ক পড়ে নাই। ঘেঁষে ঘেঁষে সিরিয়ালে দাড়ায় আছে। কার আগে কে টেস্ট করব , এই প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। এইভাবে সিরিয়ালে দাড়ালে যার করোনা হয় নাই, তারও টেস্ট করতে এসে করোনা হতে পারে। সিরিয়ালে দাড়িয়ে থাকা আলেয়া বেগম বলেন, আমার ছোট মেয়ে শিল্পীর কয়েকদিন ধরে শরীরে অনেক জ্বর। তিন মাস আগে শিল্পির বাবা করোনা পজিটিভ হয়ে মারা গেছে। এখন মেয়েটারও যদি কিছু হয়, এ কারণে আর অপেক্ষা করি নাই। পরীক্ষা করতে নিয়ে আসছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মেয়েটা আরো অসুস্থ হয়ে গেছে। বন্দরের ইস্পাহানির এলাকার বাসিন্দা কাসেম সরকার বলেন, কয়েকদিন পূর্বে তিন বন্ধু করোনা টেস্ট করতে এসেছিলাম। করোনা টেস্টে ওদের নেগেটিভ হলে ও আমার পজিটিভ এসেছে। তাই ডাক্তারের পরামর্শে বাড়িতেই চিকিৎসা নিয়েছি। এখন ২য় টেস্ট করার জন্য আসছি। অনেক মানুষ যেভাবে দাড়িয়েছে এখানে, মনে হচ্ছে শরীরে এখন ভাইরাস না থাকলেও ভাইরাস নিয়ে বাড়ি যেতে হবে। হাসপাতালে আগত ভুক্তভোগীরা বলছেন, করোনা মহামারির এক বছর হয়ে গেল। গত বছরে শুরুর দিকে করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার কথা শুনেছি, পত্রিকায়ও নানা রকম ভোগান্তির কথা পড়েছি। ভোগান্তির পুরনো চিত্রই রয়ে গেছে! হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে আগের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আবার অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করার জন্য নমুনা দিতেও পারছেন না। ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাশার এ বিষয়ে বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে আসা রোগীর সংখ্যা পূর্বের তুলনায় বেড়ে গেছে। হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগীর টেস্টের জন্য ব্যবস্থাপনা রয়েছে, সেই তুলনায় রোগী আসছে দ্বিগুনেরও বেশি। তবে রোগীদের মধ্যে সামাজিক দুরুত্ব মেনে সিরিয়াল করার জন্য ব্যবস্থা করা হবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *