আজ শুক্রবার | ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১ | ৫ শাওয়াল ১৪৪৬ | রাত ৮:০২
শিরোনাম:
ঈদের ছুটিতে সোনারগাঁয়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়    ♦     আড়াইহাজারে পরিত্যক্ত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার    ♦     সিদ্ধিরগঞ্জে ফার্নিচার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড    ♦     নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে প্রথম জামাতটি হবে সকাল ৮ টায়    ♦     ঈদের ছুটিতে ২ দিনে ঢাকা ছেড়েছেন প্রায় ৪১ লাখ সিমধারী    ♦     ঈদ মোবারক    ♦     রূপগঞ্জের রিয়াজ বাহিনীর গুলিবিদ্ধ পথচারীর মৃত্যু    ♦     সৌদিআরবের সাথে মিল রেখে ফতুল্লায় ঈদ উদযাপন    ♦     আড়াইহাজারে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা    ♦     নারায়ণগঞ্জ শহরে বেপরোয়া পরিবহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান    ♦    

ওসমানদের দোসর শিখন সরকার এখন সাখাওয়াত-টিপুর ছায়াতলে

ডান্ডিবার্তা | ২০ মার্চ, ২০২৫ | ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আওয়ামীলীগ সমর্থিত হিন্দুস¤প্রদায়ের সংগঠন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ এবং বিএনপি সমর্থিত সংগঠন পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। কিন্তু গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতন হলেও পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপনকে রক্ষায় আওয়ামীলীগ সমর্থিত সংগঠনের মাধ্যমে চালিয়ে আসছে হিন্দু স¤প্রদায়ের যাবতীয় কর্মকাÐ। ফলে বিএনপি অনুগামী হিন্দুস¤প্রদায়ের মাঝে চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গতকাল বুধবার্র নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ও প্রশাসকের কার্যালয়ের ভেতরে। অনেকেই বলছেন, বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য শিখন সরকার শিপন ওসমান পরিবারের অন্যতম ঘনিষ্ঠজনই এখন মহানগর বিএনপির আহŸায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর অন্যতম ঘনিষ্ঠজন হয়ে ওঠেছেন। ডিসি কার্যালয়ের সামনে হাতাহাতির ঘটনার সময় শিখন সরকার প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি বিএনপিতে যোগদান করবেন, সেজন্য প্রয়োজনে তিনি আরো ৩ কোটি টাকা সাখাওয়াত ও টিপুর পেছনে খরচ করবেন। মুলত ওসমানদের টাকায় পরিচালিত আওয়ামীলীগ সমর্থিত পূজা উদযাপন পরিষদ। সেই পরিষদের মাধ্যমে হিন্দ্র স¤প্রদায়কে ব্যবহার করার জন্য ওসমানরা সাখাওয়াত ও টিপুকে ব্যবহার করছেন শিপন সরকারের মাধ্যমে। ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, গতকাল বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে ও পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে হিন্দু ধর্মালম্বীদের স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে শিখন সরকারকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যা দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সম্মেলনকক্ষে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বিএনপি নেতা জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলার কমিটির সেক্রেটারি আওয়ামীলীগ নেতা শিপন সরকার শিখন উদ্দেশ্য করে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে সাখাওয়াত ও টিপু আওয়ামীলীগ নেতা শিখন সরকারের পক্ষ নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। সভার এক পর্যায়ে বিএনপি নেতা জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব নিয়ে আওয়ামীলীগ সমর্থিত উদযাপন পরিষদের সভাপতি সরোজ কুমার সাহা ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সেক্রেটারি শিপন সরকার শিখনকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অন্যদিকে জানাগেছে, গত ৫ আগস্টের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি ও মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদকে ঘুমে রেখে তাদেরকে ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্য শিখন সরকার শিপনের জোরপূর্বক দখলে নেয়া দুটি দোকান পুন:দখল করিয়েছেন মহানগর বিএনপির আহŸায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। শিখন সরকার শিপন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুজা উৎযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ দশ বছর ধরে এই পদে বহাল রয়েছেন। এর আগে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহার চেম্বার থেকে দৈনিক ৫’শ হাজার টাকা নিয়ে নিজের সংসার চালাতেন শিখন। বর্তমানে সেই শিপন সরকার শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। আওয়ামীলীগের দাপুটে উকিলপাড়ায় বিএনপির কর্মী নাসিরের দুটি দোকান দখল করে হয়েছেন হোসিয়ারী ব্যবসায়ী। মহানগর আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য পদেও নির্বাচিত হোন খোকন সাহার আশীর্বাদে। স¤প্রতি তার বিরুদ্ধে চাল, ডাল গমসহ সরকারি ও দেশী বিদেশী অনুদান লোপাটের অভিযোগ পড়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা আন্দোলনের একটি মামলার আসামী হলেও তিনি আছেন সাখাওয়াত ও টিপুর ছত্রছায়ায়। শিখন সরকার কোর্টপাড়ায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সাখাওয়াতের চেম্বারে যাওয়া আসা আছে প্রতিনিয়ত, শিখন সরকারকে বাঁচানোর চেষ্টা সাখাওয়াতের অব্যাহত আছে। ডিসি এসপির সঙ্গে বৈঠকও করে যাচ্ছেন এই আসামী। সূত্রের খবর, ২০২২ সালে দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নির্বাচন করার দায়ে আওয়ামীলীগ থেকে বহিষ্কৃত মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রবিউল হোসেনের হাত ধরে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার সঙ্গে পরিচয় ঘটে শিখন সরকার শিপনের। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর খোকন সাহার কাছ থেকে দৈনিক ৫’শ হাজার টাকা নিয়ে সংসার চালাতেন শিপন। ২০১৪ সালে জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদে অনেকটা জোর করেই শিপন সরকারকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন খোকন সাহা। তারপর থেকে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকে শিখন সরকারের। আওয়ামীলীগের প্রভাব দাপট দেখিয়ে উকিলপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী বিএনপির কর্মী শেখ নাসিরের দুটি দোকান জোরপূর্বক দখলে নেন শিখন সরকার শিপন। খোকন সাহা এই দোকান দুটি দখল করতে শিপন সরকারকে সহযোগীতা করেন। বৈশাখী ও অনুপম হোসিয়ারী নাম দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন শিপণ সরকার। এদিকে পূজা উৎযাপন পরিষদের নানা কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে অঢেল সম্পদের মালিক বনে যান শিপন সরকার। শেখ নাসির আদালতে মামলা করলেও খোকন সাহার কারনে পেরে ওঠতে পারেনি। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শিখন সরকার শিপনের দখল থেকে নিজের দোকান দুটি উদ্ধার করেন শেখ নাসির। কিন্তু চতুর শিখন সরকার ম্যানেজ করেন মহানগর বিএনপির আহŸায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানকে। সাখাওয়াতের নির্দেশে শিখনকে হিন্দু নেতা আখ্যায়িত করে শিখনের পক্ষে দোকান উদ্ধারের নামে পূণ: দখলের জন্য যান জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান ও মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা। তারা নিজেরা ক্রেডিট নেয়ার জন্য অসহায় শেখ নাসিরের কাছ থেকে আবারো দোকান পুন:দখল করে আওয়ামীলীগ নেতা শিখন সরকারের হাতে তুলে দেন। শেখ নাসির দলিল কাগজপত্র দেখালেও কর্ণপাত করেনি সাহেদ ও রনি। এভাবে রনি ও সাহেদকে ব্যবহার করেছেন সাখাওয়াত, আবার সাখাওয়াতকে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করেছেন শিপন সরকার। কি দিয়ে শিখণ সরকার শিপন সাখাওয়াত হোসেন খানকে ম্যানেজ করেছেন তা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন থেকে যায়। ৫ আগস্টের পর হিন্দুস¤প্রদায়ের বিভিন্ন কর্মকান্ডে সাখাওয়াতের সম্পৃক্ততা দেখা যায়। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রতিটা মিটিংয়ে শিখন সরকারকে নিজের পাশ বসিয়েছেন সাখাওয়াত। গেল পুজা উৎযাপনে সকল কিছুর দায়িত্ব শিখনের হাতে দিতে কাজ করেন সাখাওয়াত। কিন্তু যদিও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা আন্দোলনে নিহত ও আহতের ঘটনায় মামলা হলেও প্রাথমিকভাবে শিখণকে রক্ষা করেছিলেন সাখাওয়াত। শেষতক তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। কিন্তু মামলা হলেও এখনো সাখাওয়াতের সঙ্গে শিখনের সখ্যতা দেখা যায়। নিয়মিত শিখন সরকার সাখাওয়াতের চেম্বারে আসা যাওয়া করেন। অন্যদিকে ৫ আগস্টের পর নারায়ণগঞ্জে হিন্দু স¤প্রদায়কে মাঠে নামিয়েছিলেন এই শিখন সরকার। হিন্দু স¤প্রদায়ের বাড়িঘর ভাংচুরের অভিযোগ তুলে গত ১০ আগস্ট হিন্দ্র স¤প্রদায়কে নিয়ে মাঠে নামেন শিখন সরকার। এ ছাড়াও ১১ আগস্ট হিন্দু বৈদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ব্যানারে হিন্দুদের নিয়ে চাষাড়া অবরোধ করেন শিখন সরকার। ১৩ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে হিন্দু বৈদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পুজা উৎযাপন পরিষদের ব্যানারে হিন্দু স¤প্রদায়কে নিয়ে আন্দোলনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানবন্ধন করেন শিখন সরকার শিপন।




Your email address will not be published.

Comments are closed.


আজকের পত্রিকা
আজকের পত্রিকা
ফেসবুকে আমরা
পুরনো সংখ্যা
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
Copyright © Dundeebarta 2024
ডান্ডিবার্তা