মান রেখেছে ঐক্যফ্রন্টের দুই প্রার্থী

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন একজন অচেনা ব্যাক্তি, ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জেলা জমিয়তে উলামায়ে সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। আর বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষে’ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতাকারী মনির হোসাইন সকলেরই অচেনা হওয়ায় তাকে জঙ্গি প্রার্থী হিসেবে তখন আখ্যায়িত করেছিলেন উক্ত আসনের আওয়ামীলীগের নবনির্বাচিত প্রভাবশালী এমপি আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান। এমনকি ‘ধানের শীষের’ প্রার্থী হওয়া স্বত্তেও অচেনা হওয়ায় এই কাসেমীকে প্রথমে বয়কটও করেছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। অপরদিকে, সদর-বন্দর আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দীতাকারী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা ও আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি এস এম আকরামকেও বেঈমান হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন উক্ত আসনের মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির নবনির্বাচিত এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সেলিম ওসমান। এমনকি উক্ত আসনে বিএনপির যোগ্য প্রার্থী থাকা স্বত্তেও এস এম আকরামকে ‘ধানের শীষের’ প্রার্থী করায় প্রথমে তাকেও মেনে নিতে পারেনি বিএনপির নেতাকর্মীরা। কিন্তু, নির্বাচনে পরাজিত হলেও শেষতক মান রেখেছে ঐক্যফ্রন্টের এই প্রার্থীরা। অনেকের কাছেই অচেনা বা অগ্রহণযোগ্য হওয়া স্বত্তেও ঐক্যফ্রন্টের এই দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয় নাই। অথচ, বিপরীতে নারায়ণগঞ্জের বাকী ৩টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দীতা করে গো হারা হারার পাশাপাশি তাদের জামানতও হারিয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের দুই প্রার্থীর তুলনায় যেমন কম ভোট পেয়েছেন বিএনপির পরাজিত ৩ প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সহ-সভাপতি আলহাজ¦ আজহারুল ইসলাম মান্নান ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, তেমনি নির্বাচন কমিশনে জমাকৃত নগদ ২০ হাজার টাকা জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে তাদের। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, হেরে গিয়েও ঐক্যফ্রন্টের দুই প্রার্থী জামানত ফেরত পেয়ে কিছুটা হলেও মান রাখলেও ভোটের পাশাপাশি জামানতও হারিয়ে ইজ্জত খুইয়েছেন বিএনপির ৩ প্রার্থী। প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রূপগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দীতা করা ৭ প্রার্থীর মধ্যে ১২৭টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৯ ভোট পেয়ে টানা তৃতীয়বারের নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন মহাজোটের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী কাজী মনিরুজ্জামান মনির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৩৪ ভোট। আড়াইহাজার আসনে প্রতিদ্বন্দীতা করা ৪ প্রার্থীর মধ্যে ১১৩টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৭২২ ভোট পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মত বিজয়ী হয়েছেন মহাজোটের প্রার্থী আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫ হাজার ১২ ভোট। সোনারগাঁ আসনে প্রতিদ্বন্দীতা করা ৮ প্রার্থীর মধ্যে ১১৮টি কেন্দ্রে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মত বিজয়ী হয়েছেন মহাজোটের প্রার্থী আলহাজ¦ লিয়াকত হোসনে খোকা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আলহাজ¦ আজহারুল ইসলাম মান্নান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৭ ভোট। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দীতা করা ৮ প্রার্থীর মধ্যে ২১৬টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৬ ভোট পেয়ে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে তৃতীয়বারের মত বিজয়ী হয়েছেন আলহাজব এ কে এম শামীম ওসমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৫৮২ ভোট। সদর-বন্দর আসনে প্রতিদ্বন্দীতা করা ৮ প্রার্থীর মধ্যে ১৭১টি কেন্দ্রে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মত বিজয়ী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ এ কে এম সেলিম ওসমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এস এম আকরাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৫২ ভোট।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *