গত বছরের আলোচিত ১০ হত্যাকান্ড

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সন্ত্রাস, গুম, খুনের নগরী হিসেবে বরাবরই কুখ্যাত শিল্পনগরী এ নারায়ণগঞ্জ। ২০১৮ সালেও এ খ্যাতি বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং বেড়েছে। ২০১৮ সালের প্রতি মাসেই ছিলো হত্যা, আত্মহত্যা, দূর্ঘটনা, রহস্যজনক ঘটনাসহ নানা ঘটনায় মৃত্যু। গত বছরে শুধুমাত্র হত্যাকান্ডের ঘটনা ছিলো ১৬৫টি। এর মধ্যে আলোচিত হত্যাকান্ডের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। কখনও বন্ধুর হাতে আরেক বন্ধু খুন, কখনও পাওনা টাকা চাওয়ায় জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা আবার কখনও সংসার টিকিয়ে রাখতে এক বছরের শিশুকে হত্যা।
আড়াইহাজারে চার যুবকের থেতলানো ও গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার :
২১ অক্টোবরের ঘটনা। আড়াইহাজারের পাচরুখি এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশ থেকে চার যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা ছিলেন : লুৎফর রহমান মোল¬া, সবুজ সরদার, ফারুক প্রামাণিক ও জহিরুল। এর মধ্যে সবুজ, ফারুক ও জহিরুল ছিলো পাবনার আতাইকুলা থানাধীন পুষ্পপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আর লুৎফর রহমান মোল্লার বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার উত্তর আকন বাড়িয়া কালীবাড়ি এলাকায়। সেদিন ভোরে স্থানীয়রা মহাসড়কের পাশে লাশগুলো দেখে পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলিভর্তি দুটি পিস্তল ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। নিহত চার জনের মাথা ও মুখমন্ডল ভারী কোন বস্তু দিয়ে থেঁতলে দেয়া হয়। এর মধ্যে তিনজনের মাথায় গুলির চিহ্ন ছিলো। পুলিশের ধারণা ছিল ‘সন্ত্রাসী গ্রুপের অভ্যন্তরীন কোন্দলের জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে’। কিন্তু নিহত লুৎফর মোল্লার স্ত্রী রেশমা আক্তার জানান, তার স্বামী গাড়ি চালক। শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে বাসা থেকে বের হন। রাত ১টায় স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। এরপর থেকে স্বামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পান। তারপর টেলিভিশনে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ৪ জনের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে ছুটে আসেন তিনি। নিহত ফারুকের বাবা জামাল প্রামানিক বলেন, ১৫ বছর যাবত রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় বাস চালাতো ফারুক। গত ১৫ অক্টোবর ডিবি পরিচয়ে ঢাকার গাউছিয়া থেকে একই গ্রামের ৪ জনকে ধরে নিয়ে যায়। যার মধ্যে ৩ জনের লাশ আড়াইহাজারে পাওয়া গেছে। সবুজ সরদারের স্বজনরা জানান, সবুজ ঢাকায় বেকারিতে চাকরি নেয়ার কথা বলে ২ সপ্তাহ আগে গ্রাম ছাড়েন। নিহত জহিরুলের শ্বশুর নজরুল বলেন, জহিরুল বেকারিতে কাজ করতো। জহিরুলকে বেকারিতে কাজ দেওয়ার কথা বলে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিল ফারুক। ফারুক ছিনতাইতারী চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে শুনেছি। ফারুকই গ্রাম থেকে তিনজনকে শহরে নিয়ে এসেছে কাজ দেওয়ার কথা বলে। এ ঘটনায় আড়াইহাজার উপজেলায় চার যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পুলিশ দুটি মামলা দায়ের করেছে। ঐদিন রাতেই আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক রফিউদ্দৌলা বাদি হয়ে মামলা দুটি দায়ের করে।
রূপগঞ্জে তিন ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার :
১৫ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জ উপজেলায় তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পূর্বাচল উপশহরের একটি সেতুর নিচে লাশ তিনটি পাওয়া যায়। নিহতরা ছিলেন, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বিক্রমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে নূর হোসেন বাবু (২৯), তাঁর ভায়রা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গুরেলা এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে শিমুল আজাদ (২৭) এবং তাঁদের বন্ধু ও ব্যাবসায়িক অংশীদার রাজধানীর মহাখালী দক্ষিণপাড়ার মৃত শহিদুল্লাহ্র ছেলে সোহাগ ভূঁইয়া (৩৩)। তাঁরা তিনজনই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ জানায়, তিনজনই রাজধানীর মুগদা মান্ডা এলাকায় থাকতেন। ওই এলাকায় তাঁরা গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা করতেন। এ ছাড়া সোহাগ মহাখালী এলাকায় ডিশ কেবল নেটওয়ার্কের ব্যবসা করতেন। সোহাগের বিরুদ্ধে বনানী থানায় চারটি মাদক ও একটি হত্যা মামলা আছে। একই থানায় শিমুল আজাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদক আইনে চারটি মামলা আছে। বাবুর বিরুদ্ধে টঙ্গিবাড়ী থানায় মাদক মামলা আছে। আর এ ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে সন্ত্রাসীদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটে বলে ধারণা করে পুলিশ। অন্যদিকে এ হত্যাকান্ডে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে দাবি করে নিহতদের স্বজনরা। নিহত স্বজনকে জানায় ১৩ সেপ্টেম্বর শিমুল আজাদের গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরার পথে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ফেরিঘাটের সামনে থেকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে তাঁদের বাস থেকে আটক করা হয়। পুলিশই এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করে তারা।
পাওনা টাকা না পাওয়ায় জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা :
৩১ আগস্ট ফতুল্লা পাওনা টাকা চাওয়ায় সুমন (৩৫) নামের এক ঝুট ব্যবসায়ীকে আগুনে পুঁড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে। নিহত সুমন সদর উপজেলার পশ্চিম মাসদাইর বেকারীর মোড় এলাকার আবদুল জলিলের ছেলে। নিহত সুমনের পরিবারের স্বজনরা জানান, স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী বিপ্লব ও সোহেল মন্ডল গত কয়েক মাস আগে সুমনের কাছ থেকে সত্তর হাজার করে দুইজনে এক লাখ চল্লিশ হাজার টাকা ধার নেয়। এক মাস পরে এ টাকা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তারা সুমনকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। রাতে বিপ্লব টাকা দেয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে সুমনকে তাদের বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে বিপ্লবের স্ত্রী শায়লা, সোহেল মন্ডল, হোটেল মাসুদ মিলে সুমনের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সুমনের আর্ত চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহরের খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সুমন সেখানে আগুনে পোড়ানোর পুরো ঘটনার বর্ণনা ও হত্যাকারীদের নাম উল্লেখ করে যায়।
প্রবীর ও স্বপন হত্যা :
৯ জুলাই নিখোঁজের ২১ দিন পর নারায়ণগঞ্জ শহরের কালিরবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষের টুকরো করা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই রাতে শহরের আমলপাড়া এলাকার একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে চার টুকরো করা লাশের গলিত অংশ উদ্ধার করা হয়। খুনের ঘটনায় প্রবীরের বন্ধু পিন্টু দোষ স্বীকার করে আদালতে। বন্ধুর হাতে বন্ধু খুনের নৃশংসা ঘটনা পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীকে আতঙ্কিত করে তোলে। প্রবাীর ঘোষ কালীরবাজার ভোলানাথ জুয়েলার্সের মালিক। গত ১৮ জুন থেকে সে নিখোঁজ ছিল। তাঁর সন্ধান দাবীতে ২১ দিন ধরে বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ী, নিহতের স্বজন, বিভিন্ন সংগঠন ও পরিবারের লোকজন মানববন্ধন ও সমাবেশ করে আসছিল। এর মধ্যে নিহতের পরিবার প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেছিল। প্রবীরের নিখোঁজের ঘটনায় বাবা ভোলানাথ দাস বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় জিডি করেছিল। ওই জিডির তদন্তের পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে দেওয়া হয়। ডিবি পুলিশ বিষয়টির তদন্ত করে পিন্টু ও বাবু নামের দুইজনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে প্রবীরের বন্ধু পিন্টু স্বীকার করে প্রবীর ঘোষকে হত্যার বিষয়টি। পরে তার দেখানো মতেই শহরের আমলপাড়া এলাকার ঠান্ডু মিয়ার ভবনের সেফটিক ট্যাংক থেকে টুকরো করা লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে প্রবীর হত্যার তদন্তের বেরিয়ে আসে নিতাইগগঞ্জ এলাকার তাদের আরেক বন্ধু স্বপন হত্যার ঘটনাও।
সিদ্ধিরপঞ্জে ত্রিপল মার্ডার :
সিদ্ধিরগঞ্জের আটি হাউজিং মসজিদ গলির কবির মিয়ার বাড়ির ৬ তলার পশ্চিম দক্ষিণ ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন মাসুদ দেওয়ান। সে তার প্রথম স্ত্রী আঞ্জুবী আক্তারের অমতে তারই বান্ধবী শোভা আক্তারকে বিয়ে করে। এই বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই ছিলো। ওই ঝগড়ার জের ধরে সে তার দ্বিতীয় স্ত্রী শোভা আক্তার ও চাচাতো শ্যালক সবুজ ওরফে সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম স্ত্রী আঞ্জুবী আক্তার ও তার সন্তানদেরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৯ জুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও চাচাতো শ্যালক মিলে প্রথমে আঞ্জুবী আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে বড় মেয়ে মাঈদা ও ছোট মেয়ে মাহিকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর তাদের মরদেহ বস্তায় ভরে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি নির্জন স্থানে ও একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
আড়াইহাজারে মায়ের বিরুদ্ধে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ:
১৩ এপ্রিল শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে পাষন্ড মা শেফালী বেগম ও তার প্রেমিক মোমেন ঘুমন্ত অবস্থায় দুই সন্তান হৃদয় ও শিহাবকে কাঁথায় পেঁচিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।এতে মুহূর্তের মধ্যে ঝলসে যায় নিষ্পাপ দুই সন্তানের দেহ। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই হৃদয় (৯) মারা যায়। নারায়ণগঞ্জ আদালতের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক মেহেদি হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে একই এলাকার প্রেমিক মোমেনের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্যই মোমেনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের দুই সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঁথায় মুড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করে শেফালী বেগম।
সিয়াম হত্যা :
১৬ আগস্ট ১৬ আগস্ট নিখোঁজের ছয় ঘন্টা পর নগরীর জল্লারপাড়ে আমহাট্টা এলাকার সৌদি প্রবাসী আলমগীরের ছেলে প্রতিবেশী আলী খোকনের বাড়ির নীচতলার ভাড়াটের তালাবদ্ধ রুম শিশু শিহাব উদ্দিনে আলিফের লাশ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। নিহত আলিফের দুই হাত বাঁধা ও মুখে রুমাল গুঁজে দেয়া ছিলো। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতেরও চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই আলিফের লাশ উদ্ধার করা ঘরের ভাড়াটিয়া রিপন যুবককে আটক করে পুলিশ। তবে কেন কি কারণে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে এ ঘটনার রহস্য এখনও উন্মোচন হয়নি।
মুক্তিপণের দাবিতে তিন বছরের জুঁইকে হত্যা :
২১ অক্টোবর তিন বছরের শিশু উম্মে তাবাসসুম জুঁইকে শ্বাসরোধে ও ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করে ভাড়াটিয়া শাহজালাল ও আশ্রাফুল। গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা জানায় দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়িওয়ালা আনোয়ার হোসেনের মেয়ে উম্মে তাবাসসুম জুইকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার আশা ছিলো তাদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে জুঁইয়ের মুখ চেপে ধরে অপহরণ করে তাদের ভাড়া বাসায় নিয়ে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে খাটের নিচে ফেলে রাখে। এক পর্যায়ে জুঁই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফেরার পর জুঁইয়ের শরীরে অজ্ঞান করার ইনজেকশন পুশ করা হয়। এরপরই জুঁই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। পরে শিশু জুইয়ের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা করে অপহরণকারীরা। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে রাতেই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দি অবস্থায় বাড়ির পেছনে জুঁইয়ের লাশ ফেলে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।
ফতুল্লায় মায়ের হাতে ১ বছরের শিশু হত্যা :
১৪ ফেব্রুয়ারী ফতুল্লায় ১ বছরের শিশু‘র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার কয়েকমাস পর এ ঘটনায় শিশুটির মাকে গ্রেফতার করলে জানা যায়, মা তার দ্বিতীয় স্বামীর সাথে সুখে-শান্তিতে সংসার করার প্রত্যাশায় শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
মোনালিসা হত্যা:
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী ২ তারিখে ফতুল্লার বাংলাবাজার আমবাগান এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী মোনালিসাকে ধর্ষনের পর হত্যা করে একই এলাকার বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী সাঈদ। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন পরিবারের লোকজন নরসিংদীতে বেড়াতে গেলে মোনালিসাকে একা বাড়িতে পেয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মোনালিসার লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর আবু সাঈদ দুবাই পালিয়ে যান। এর আগে মোনালিসাকে বিয়ে করার জন্য সাঈদ প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু মেয়ের বয়সে ছোট হওয়ায় এ বিয়ের প্রস্তাব না করে মোনালিসার পরিবার। এদিকে এ ঘটনার আটমাস পর ১৭ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *