বিএনপির দুর্বল নেতৃত্বে আস্থাহীন না’গঞ্জের তৃণমূল

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির দুর্বল কমিটি নিয়ে বেশ আগেই বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। নেতৃত্ব পর্যায়ে মাঠ বিমুখদের পদে আসীন করে এদের কর্ম সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় দলটির জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরের কমিটিতে দেখা দেয় আন্দোলন বিমুখতার নজির। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদকে কদাচিৎ ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল ছাড়া অন্য কোন নেতাদের মাঠে খুঁজে পায়নি দলটির কর্মীরা। মামলার অজুহাত দেখিয়ে পুরো জেলায় মুখ থুবড়ে পড়েছে বিএনপি। ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ভাবে জেলা বিএনপির আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও মামুন মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। তবে সভাপতির পদে কাজী মনিরকে দেয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরে ক্ষোভ জন্মায়। ইতোপূর্বে দীর্ঘ ৭ বছর তাকে ক্ষমতাসীনদের সাথে লিয়াজো করেই চলতে দেখা গেছে। ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে সেই কমিটির দ্বারা আদৌ কোন সুফল ভোগ করতে পারেনি বিএনপির কর্মীরা। উল্টো রাজপথ ছেড়ে সমাবেশ মানববন্ধন ঠাঁই নিয়েছে গলিতে। প্রায় একই দশা দেখা যায় মহানগর বিএনপির কমিটিতেও। সাবেক এমপি আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করলেও মাঠে খুব কমই দেখা গেছে আবুল কালামকে। তার বিপরীতি তৃণমূলে দ্যুতি ছড়িয়েছেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান। আদালত পাড়ার রাজনীতি থেকে শুরু করে সর্বত্র দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মামলা মোকদ্দমা উপেক্ষা করে। তবে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে গ্রেফতার হয়ে জেলে বন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়েছে নির্বাচনের দিনগুলি। নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে এমন ভঙ্গুর দশায় প্রভাব পড়েছে তৃণমূলেও। সক্রিয় ও অগ্রসর কর্মীরা দীর্ঘদিন যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে গেছেন মিইয়ে। বৃহৎ আন্দোলনের ডাক আসলেও নেতারা অগ্রণী ভূমিকায় এগিয়ে না আসায় নেতাদের উপর ক্ষোভ জমা হয়েছে। বেশ কয়েকজন নেতা ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাত করে বহাল তবিয়তে থাকলেও কর্মীদের অনেকেই শিকার হয়েছেন জেল জুলুমের। দলের ক্রান্তিলগ্নে নেতাদের উদাসীনতা তৃণমূলে বিএনপির জন্য ডেকে এনেছে অশনি সংকেত। দলীয় ঐক্য হয়েছে বিনষ্ট হয়েছে একাধিক গ্রুপিং এ। সর্বশেষ নির্বাচনে ভরাডুবির পর নতুন করে তৃমূলের মাঝে তৈরী হয়েছে হতাশা এবং অনিশ্চয়তা। ইতোমধ্যে পিঠ বাঁচাতে শুরু হয়েছে দল বদলের হিড়িক। নেতাকর্মীরা জানান, সরকার এতে একচেটিয়া ভোটগ্রহণ ও কারচুপি করে জয়লাভ করলেও বিএনপির জন্য বড় আঘাত ডেকে এনেছে। কারণ যেকোন নেতিবাচক প্রভাবে দলের নেতাদের চাইতে কর্মীদের উপর বেশী আঘাত হানে। নতুন করে দল না গুছালে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়বে বিএনপি। মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় এক নেতা জানান, বর্তমান কোন কমিটির উপর আস্থা নেই কর্মীদের। পিঠ বাঁচাতে লিয়াজো করলেও সেদিক থেকে কর্মীদের অবস্থাও ভাবা দরকার নেতাদের। সারাবছর কর্মীদের খোঁজ না নিয়ে নির্বাচনের সময়ে ডাকলে সেই উদীপ্ত কর্মী পাওয়া সম্ভব না। আর এতে করে কর্মীরা জড়িয়ে গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে নতুন করে কমিটি গঠন করে দ্রুত সাজানোর দিকে মনযোগী হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন তারা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *