থেমে নেই শেখ রাসেল পার্কের কাজ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দেওভোগ এলাকায় সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন ‘শেখ রাসেল নগর পার্ক’ পার্কের কাজ চলমান রয়েছে। রেলমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞায় পার্কের কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও শ্রমিকেরা বলছে ‘ওই সমস্যা সমাধান হওয়ার পরই কাজ শুরু হয়’। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে পার্কে গিয়ে দেখা যায়, পার্কের চারদিকে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ভীড়। লেকের মুক্ত মঞ্চে কিশোর কিশোরীদের প্রোগ্রাম আর প্রবেশ পথে চলছে সামাজিক সংগঠনের প্রোগ্রাম। এছাড়াও লেকের উত্তরদিকে ছোট বড় সকল বয়সের মানুষ নিজেদের মতো করে আড্ডা দিচ্ছে। সেখানে অনেকেই এসেছেন পরিবার পরিজনদের নিয়ে। এ যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশ। নির্মাণাধীন পার্কের ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, শ্রমিকেরা ব্যবস্থা পিলার বসানোর কাজ নিয়ে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজ করে যাচ্ছেন কিন্তু কথা বলার কোন সুযোগ নেই। ফারুখ নামে একজন শ্রমিক বলেন, ‘‘ওইদিন মন্ত্রী আইসা বন্ধ করে দিয়ে যায়। পরে সিটি করপোরেশনের লোকজন ওই সমস্যা সাধান করে ফেলে। এর কয়েকদিন পর থেকেই আবারও পুরোদমে কাজ শুরু হয়।’’তিনি বলেন, ‘‘বিকেলে ঠিকাদার ও সিটি করপোরেশনের লোকজন কাউকে পাবেন না। তাছাড়া আজকে সপ্তাহে বন্ধের দিন। তাই লোকজন কম আছে। শনিবার আরো লোকজন কাজ করবে।’’ ফারুখ বলেন,‘নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এখন পিলার বসানোর কাজ চলছে। মন্ত্রী যেদিন কাজ বন্ধ করে দেয় সেদিন এ কাজই করছিল সবাই। হঠাৎ এসে সবাইকে আটক করে। পরে ছেড়ে দেয়। কলেজের ভবনের কাজ খুব দ্রুতগতিতে চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কাজ শেষ হবে। এর আগে শেখ রাসেল নগর পার্কের পাশে রেলওয়ের স্টাফ কোয়াটার ভেঙে গুড়িয়ে দেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা। এর প্রেক্ষিতে গত ২৩ অক্টোবর দুপুরে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ওই পার্ক পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ ও আটকের নির্দেশ দেন। পার্কের নামে রেলওয়ের জায়গা দখল ও রেলওয়ের স্টাফ কোয়ার্টার ভেঙে ফেলার বিষয়ে এর আগে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, যেহেতু দুটি প্রতিষ্ঠান সরকারের আর আমরা জনগনের জন্যই কাজ করছি। রেলওয়ের জায়গা যদি অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয় তাহলে তার কিছু নিয়ম-কানুন ও পদ্ধতি আছে। সেই পদ্ধতি অনুসরণ করে সব কিছু করা হবে। গায়ের জোরে কোন কিছু হবে না। প্রত্যক্ষদশীরা জানান, রেলমন্ত্রী ওই সময়ে রেলওয়ের দখলকৃত জায়গা পরিদর্শন গিয়ে সেখানে থাকা রেলওয়ের স্টাফ কোয়ার্টার ভেঙ্গে ফেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তখন মন্ত্রীর নির্দেশে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাৎক্ষনিক ২১জনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে ১৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ২জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, তিনি কি নির্দেশ দিয়েছেন সেটা আমি শুনি নাই। তবে বন্ধের নির্দেশ দিয়ে থাকলে সেটা মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে বসে আমরা মিমাংসা করবো।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *