গোলাম সারোয়ারের মৃত্যুবার্ষিকীতে সর্বস্তরের দোয়া

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দল মত নির্বিশেষে সর্ব সাধারণের উপস্থিতির মধ্যে দিয়ে বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এক সময়ের তুখোড় নেতা গোলাম সারোয়ারের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার চাষাঢ়া রামবাবুর পুকুর পাড়ের সামনে চাষাঢ়া জামে মসজিদে আসরের নামাজের পর দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের জনগণ অংশগ্রহণ করেন। একই ভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে গোলাম সারোয়ারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর আাওয়ামী লীগের সহ সভাপতি চন্দন শীল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান সুজন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জুয়েল হোসেন ও মহানগর কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান লিটন সহ বিভিন্ন পর্র্যায়ের নেতাকর্মীরা। জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবর মৃত্যুর আগের ২০ দিন ধরেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন গোলাম সারোয়ার। প্রথমে তাকে ল্যাব এইডে নেয়া হলে ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখে। সেটাই তাকে বেশী ক্ষতি করেছে। পরে তাকে ল্যাব এইড থেকে শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি ১০ দিন চিকিৎসাধীন ছিল। তবে তারপরেও তার শারিরীক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ও পরে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন সারোয়ার। নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমী স্কুল থেকে ইংরেজীতে রেকর্ড নাম্বার পেয়ে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাশ করেন। পরে তিনি তোলারাম কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন। তোলারাম কলেজে পড়ার সময় থেকে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। নব্বই দশকে শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন রাজনীতির মাঠে। ১৯৯৬ সালে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সারোয়ারের নাম ছড়িয়ে পড়ে জেলা জুড়েই। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজনীতি থেকে এক প্রকার নির্বাসিতই ছিলেন সারোয়ার। পরে তিনি ভারতে ছিলেন কয়েক বছর। ২০০৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সারোয়ার দেশে ফিরে আসলেও শারিরীক অসুস্থতার কারণে রাজনীতিতে সক্রিয় হননি। এর মধ্যে সারোয়ার মস্তিস্ক, কিডনী রোগে ভুগছিলেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *