সোনারগাঁ আ’লীগে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের দাবি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সারাদেশে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রীড নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় তাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করলেও রহস্যজনক কারণে সোনারগাঁ উপজেলায় আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রীড নেতাদের মাঝে এর কোন প্রভাব পড়েনি। বরং তাদের অর্থ ও ক্ষমতার দাপটে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরাই উল্টো কোনঠাসা হয়ে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই আসন্ন সম্মেলনের পূর্বেই সোনারগাঁ আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিস্কারের দাবি জানিয়েছেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা। জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মাসুম চৌধুরী ওরফে চৌধুরী মাসুম ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। পরে ২০০৯ সালে আব্দুল্লাহ আল কায়সার আওয়ামীলীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আওয়ামীলীগে যোগ দেন। এরপর জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি হওয়ার পর মাসুম চৌধুরী জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। কিন্তু তার কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা আদায় করতে না পেরে পুনরায় আব্দুল্লাহ আল কায়সারের দলে ভিড়ে যুবলীগের পদ বাগিয়ে নেন বলে জনশ্রুত রয়েছে। এদিকে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রত্যাশী আল আমিন সরকার জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আ.ন.ম বাহাউল হকের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন। তার চাচাতো ভাই তাজুল ইসলাম সরকার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। বিগত ইউপি নির্বাচনে আল আমিন সরকার সোনারগাঁয়ের এক কেন্দ্রীয় নেতার হাত ধরে নৌকা প্রতীক পেলেও তার রাজনীতি বিএনপি ঘেঁষা বলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক প্রকৌশলী তানভীর আহম্মেদ বিএনপি পরিবারের সন্তান বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। তার ভাই লিয়াকত আলী পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। আরেক ভাই ইসমাঈলও বিএনপির সদস্য। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দাবিকারী হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের ছত্রছায়ায় ছিলেন এবং পরে ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি কৌশলে আব্দুল্লাহ আল কায়সারের হাত ধরে আওয়ামীলীগের রাজনীতি শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শামীম ছাত্রদল নেতা ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার পিতা আব্দুল মান্নান বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার ছত্রছায়ায় মেম্বার নির্বাচিত হন বলে জানা গেছে। এদিকে জামপুর ইউপি চেয়ারম্যান হামিম সিকদার শিপলু ভুলতা গাউছিয়া মর্তুজাবাদ মাদরাসায় পড়াকালে ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার পিতা মকবুল হোসেন সিকদার ও ভাই লাভলু সিকদারও এক সময় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা যায়। তবে উল্লেখিত অভিযুক্ত নেতাদের প্রত্যেকেই আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশের বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *