দ্বন্দ্বের কারণে ছোট হচ্ছে বিএনপি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
টানা ১৩ বছর ধরে ক্ষমতার বাহিরে বিএনপি। বর্তমানে দলটির ক্রান্তি সময চলছে। তাই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে কেন্দ্রীয় নেতারা নানা উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় বিএনপির নেতারা রাজপথে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টার বিপরীতে দ্বদ্বের পাশাপাশি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন। গত কয়েকদিন ধরেই আদালপাড়ায় বিএনপি পন্থি আইনজীবীদের দ্ব›দ্ব সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। একে অপরকে প্রকাশ্যেই আক্রমন করছেন। এছাড়াও বিএনপি পন্থি আইনজীবীরা এখন বহিরাগতদের এনে আদালতপাড়া শো-ডাউন করছেন। তাই এবার রাজপথের পর আদালতপাড়ায়ও বিএনপির অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। এদিকে বিএনপি পন্থি আইনজীবীদের এমন কান্ড দেখে আওয়ামীলীগ পন্থি আইনজীবীরা তাদের দ্ব›দ্ব নিরসনে এগিয়ে আসছেন। গতকাল বুধবারও আদালতপাড়ায় বিএনপি পন্থি আইনজীবীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম কেন্দ্র করে তর্ক থেকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। জানাগেছে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে টিকে থাকাটাই যখন অসম্ভব হয়ে পড়ছে তখন স্থানীয় বিএনপির নেতারা দলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করার পরিবর্তে নিজেদের বলকে শক্তিশালী করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি মহানগর বিএনপি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হলেও কমিটি নিয়ে কোন প্রকার আমেজ নেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাদের মধ্যে। আর জেলা বিএনপি’র নেতারাও দ্ব›েদ্ব জড়িয়ে পড়ায় রাজপথে কোন কর্মসূচীতেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নামছেন না তারা। তাই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনৈতিক পরিধি ধীরে ধীরে ছোট হচ্ছে। কাগজেই সিমাবদ্ধ থাকছে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ড। দলীয় কোন কর্মসূচি নেই দীর্ঘদিন ধরে। জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ ক’জন নেতার কারণে বিএনপির রাজনৈতিক দুরাবস্থা হয়েছে এমন অভিযোগ দলের তৃনমূলের। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি সাংগঠনিক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বলেও মনে করছেন দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে শীর্ষ নেতাদের আধিপত্যের বিরোধ, পারিবারি বলয় তৈরীর চেষ্টা, দলের তৃনমূলের সাথে শীর্ষ নেতাদের দূরত্ব সৃষ্টি, কর্মীদের প্রয়োজনে নেতাদের কাছে না পাওয়া এবং পদের প্রতি মোহ সৃষ্টির কারনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সাংগঠনিক ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে এ থেকে বিএনপিকে মুক্ত করতে পারলেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নতুন করে সাংগঠনিক ভাবে ঘুরে দাঁড়তে সক্ষম হবে। তবে পারিবারি বলয় তৈরীর অভিযোগ সবচেয়ে বেশি জেলা সাবেক বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার ও মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের বিরুদ্ধে। বিএনপির তৃনমূলের নেতাকর্মীদের আলাপকালে উঠে এসেছে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা। কর্মীদের মতে, জেলা বিএনপির রাজনৈতিক পরিধি দিনে দিনে ছোট হয়ে আসছে। দলীয় কর্মসূচী পালনের পরিবর্তে নেতারা ব্যস্ত ফটোসেশন নিয়ে। এছাড়াও শীর্ষ নেতাদের দ্ব›দ্ব এখন তৃণমূলেও ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে দলের শীর্ষ নেতাদের কমান্ড মানছে না বিএনপির তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। বোদ্ধা মহলের মতে, জেলা বিএনপির বর্তমান অবস্থান জন্য দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে চলমান বিরোধই অন্যতম কারণ। নেতাদের বিরোধ এখন সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। যার শুরুটা আদালতপাড়া থেকেই শুরু হয়েছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *