অগুছালো না’গঞ্জ আওয়ামীলীগ!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সাড়া দেশেই আওয়ামীলীগ সরকার উন্নয়ণের পাশাপাশি দলের বিতর্কিতদের বিতারিত করতে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে। বিশেষ করে টানা তৃতীয়বারের মত আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলের মধ্যে এই শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু সাড়া দেশে যখন উন্নয়ণ ও শুদ্ধি অভিযান চলছে তখন নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ণের কথা চিন্তা না করে দলীয় কোন্দল নিয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন স্থানীয় নেতারা। এছাড়াও দলের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সুবিধাভোগীদেরও দলের মধ্যে সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীরে শীর্ষ নেতাদের দ্বন্দ্ব চরম আকারে রূপ নিয়েছে। এছাড়াও আওয়ামীলীগের জনপ্রতিনিধিদের জল মান বিরোধের কারণে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসী। এছাড়াও দলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করতে ব্যর্থ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জে এখনো শুদ্ধি অভিযান শুরু না হওয়ায় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে। মহানগরীর ২৭টি ওয়ার্ড, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোও অনেকটা বিলুপ্তির পথে। অনেক কমিটি ভারপ্রাপ্তদের ভারে অনেকটা ডুবন্ত অবস্থায় রয়েছে। আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনগুলোরও অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সব গুলো কমিটি মেয়াদহীন। অনেকটা আওয়ামী লীগের সূত্র ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে অঙ্গ সংগঠনগুলো। সম্প্রতি রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার কমিটি দিলেও তা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। আর ফতুল্লায় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির অনেকেই আওয়ামীলীগের সদস্য কার্ড সংগ্রহ করছেন। যার কারণে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই ক্ষমতায় থেকে দল গুছাতে ব্যর্থ হওয়ায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের প্রতি তৃনমূলের ক্ষোভ বেড়েই চলছে। তৃনমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের শীর্ষ নেতাদের বিরোধের কারণে মূল ও অঙ্গ সংগঠনগুলো নতুন করে গঠন হচ্ছে না। এর ফলে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না। এছাড়া নেতারা দীর্ঘদিন ধরে একই পথে থেকে দলের নাম ব্যবহার করে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে। আর এ নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃনমূলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ এবং ক্ষোভ রয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকার উন্নয়ন মূলক কাজের তদারকি থেকে তৃনমূলের নেতাদের দূরে রাখার রাখার নিয়েও। কর্মীদের মতে, টানা দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়ণ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। কিন্তু এ কাজে সাধারন কর্মী কিংবা পদহীন নেতারা অংশ নিতে পারছে না। পকেট ভারী হচ্ছে নেতাদের। আর কর্মীদের চলছে দূর্দিন। এ নিয়ে জেলার শীর্ষ নেতাদের প্রতি কর্মীদের ক্ষোভ বাড়ছে। এসব কাজে স্বজন প্রীতিরও অভিযোগ রয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা যেমন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে, একই ভাবে শীর্ষ নেতাদের স্বজনদেরর পকেট ভারী হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *