এসপি হারুনের টার্গেটে ছিল যারা!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পরপরই রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে শামীম ওসমানকে ঘায়েল করাই যেন ছিল এসপি হারুনের প্রথম কাজ মনে করছেন আওয়ামী লীগের অনেকেই। নিজের প্রভাব আর অধিপত্য সবার উপরে রাখতে বিদায়ী পুলিশ সুপার প্রথমেই টার্গেট করেছিলেন প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা ও এমপি শামীম ওসমানকে। একই সাথে হারুন অর রশীদের টার্গেটে পরিণত হন গণমাধ্যমের কয়েকজন। যেমনটি তিনি করেছিলেন গাজীপুরেই। কেউ হারুনের অপকর্মের বিরুদ্ধে লিখলেই তাকে মামলা দিয়ে জেল খাটানো ছিল সামান্য ব্যাপার। অথচ এসপি হারুনের মুখে দাড়ি টুপিওয়ালা চাঁদাবাজকে নিয়ে কঠোর বক্তব্য যে শুধুমাত্র স্ট্যান্টবাজি ছিল সেটির প্রমাণ হয় যখন একজন ওই প্রকৃতির নেতা হারুনকে নিয়ে পোস্টারিং করেছিলেন। একাধিক অনুষ্ঠানে, খাবার টেবিলেও ওই নেতার সাথেই বসে ছিলেন হারুন অর রশীদ। গত বছরের ডিসেম্বরে যোগদানের মাত্র ২মাসের মাথায় এসপি হারুন গ্রেফতার করেন হুইল চেয়ারে জীবন যাপন করা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতা মীর হোসেন মীরুকে। মূলত ফতুল্লার আলীগঞ্জ ও পাগলা এলাকার এক শ্রমিক নেতাকে খুশি করতে এবং শামীম ওসমানের একনিষ্ঠ কর্মী বলেই পঙ্গু মীরুকে গ্রেফতার করা হয় জানিয়েছেন অনেকেই। এরপর এসপি হারুনের দৃষ্টি পরে নারায়ণগঞ্জের শক্তিশালী গণমাধ্যমের উপর। এসপি হারুনের প্রটোকলের কারণে শহরে ঘণ্টার পর ঘন্টা যানজটের সৃষ্টি হওয়া, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়া নিয়ে দুই তিনটি গণমাধ্যমে সংবাদ আসতে থাকে। সবর্শেষ জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় রুপগঞ্জের এমপি ও বস্ত্র পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীকে চাঁদাবাজদের পক্ষে তদবির করার অভিযোগ আনেন এসপি হারুন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারী শহরের ৫নং ঘাট এলাকায় একটি জুয়াড় আসরে পুলিশের অভিযান হলেও প্রায় ২মাস পরে ৪এপ্রিল জনৈক আলাউদ্দিন ও জনি নামের ২জনকে দিয়ে ওই ঘটনায় ১৬৪ধারায় জবানবন্দি দেওয়ানো হয়। যেখানে সাংবাদিক রাজু নামের একজন জুয়াড় আসর পরিচালনাকারী বলে স্বাক্ষ্য দেওয়ানো হয়। অথচ এব্যাপারে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঐ জবানবন্দি দেওয়া ২জনের ঠিকানা অনুয়ায়ী সেখানে গেলে কাউকেই পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, শুধুমাত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীরকে প্রশ্ন করার কারণে ক্রোধের বশত ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে ওই ২জনকে দিয়ে জবানবন্দি দেওয়ায় গেলা ডিবি পুলিশ। খোদ ডিবি পুলিশের সূত্র জানায়, রাজু আহমেদকে সামাজিকভাবে হেয় করতেই আলাউদ্দিন ও জনি নামের ২ সোর্সকে দিয়ে এসপি হারুনের নির্দেশে এই কাজটি করা হয়। এখানেই শেষ নয়, শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে ১৭টি অভিযোগ লিখিত আকারে পাঠানো চিঠিতেও রাজু’র নাম রয়েছে। ডিবির ওই সূত্র বলেন, রাজু আহমেদ স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তাকে শায়েস্তা করতে পারলে জেলার অন্যান্য গণমাধ্যম কর্মীরা হারুন অর রশীদকে সমীহ করবে- এমন মনোভাব নিয়েই তিনি এ কাজ করেন। অপরদিকে শামীম ওসমানকে ঘায়েল করতে বিতর্কিত কাজও করেছেন এসপি হারুন। গত ১এপ্রিল জেলা ক্রিড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী তানভীর আহমেদ টিটুকে মদ ব্যবসায়ী বানাতে গিয়ে ব্যর্থ হয় এসপি হারুন। মেরী এন্ডারসনে অভিযান চালিয়ে মদ উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে টিটুকে মদ ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক বলে দাবী করেন এসপি হারুন। এনিয়ে নারায়ণগঞ্জের সকল ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হারুনের বিরুদ্ধে একাট্টা হলে মামলায় টিটুর নাম দেয়া থেকে ভয়ে সরে আসেন হারুন। এখানেই শেষ নয়, শামীম ওসমানকে রাজনৈতিকভাবে হেয় ও দুর্বল করতেও কোন পন্থা বাদ রাখেননি হারুন। গত মার্চ মাসে ফতুল্লার পাগলা এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক ওসি মঞ্জুর কাদের ও বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম। ঐ অনুষ্ঠানে নিজামের দেয়া বক্তব্যকে ভিন্ন রুপ দিয়ে থানায় সাধারন ডায়েরী করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ওসি মঞ্জুর কাদেরকে চাপ দিয়েই এই জিডি করানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *