শুক্কুর ও পলাশের পেশা কি?

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন আজ শনিবার। গতকাল শুক্রবার একটি জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ করে। ওই খবরের একটি অংশে বলা হয়, শ্রমিক লীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সূত্র বলছে, সংগঠনের যেসব নেতা রাষ্ট্রায়ত্ত বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, তাঁদের অনেকেই ঠিকমতো অফিস করেন না। তাঁদের মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি নিয়ে তদবির ও ঠিকাদারি কাজে ভাগ বসানো। অনেকে চাকরি থেকে অবসরে চলে যাওয়ার পরও নেতৃত্বে থেকে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মূল সংগঠনের নেতাদের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। জাতীয় ও বেসিক ইউনিয়নগুলোর নেতাদেরও একটা বড় অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন খাতে কাজ করেন। অনেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলসহ নানা রকম কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শ্রমিক লীগের অনেক নেতার গাড়ি-বাড়ি-ফ্ল্যাট হয়েছে। অনেকের সন্তান বিদেশে পড়াশোনা করছেন। শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। শ্রমিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই জেলার সভাপতির পদও তাঁর দখলে। এর বাইরে তিনি মুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন নামে একটি সংগঠনেরও সভাপতি। কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনের বিরুদ্ধেই টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন কমিটি দেওয়ার অভিযোগ আছে। কাউছার আহমেদ (পলাশ) শ্রমিক লীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক। কেন্দ্রীয় নেতা হয়েও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতির পদ দখল করে আছেন এক যুগের বেশি সময় ধরে। পোশাক খাতের নিয়ন্ত্রণ পেতে ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্সের সভাপতি হয়েছেন গত জুনে। ফতুল্লায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশা, স্টিল মিল, ইট-বালুর ব্যবসা, ট্রাকস্ট্যান্ড, পোশাক কারখানা থেকে শুরু করে নদীতীরে জাহাজে মাল তোলা ও নামানোর কাজসহ চাঁদাবাজিÍসবই তাঁর নিয়ন্ত্রণে। নদীর তীর ও ওয়াকওয়ে দখলের দায়ে গত বছর তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কাউছার আহমেদের স্বীকৃত কোনো পেশা নেই। তবে চলাফেরা করেন দামি পাজেরো গাড়িতে। তাঁর চাঁদাবাজির কারণে ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের রপ্তানিমুখী সোয়েটার কারখানা পাইওনিয়ার সোয়েটারস লিমিটেড বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কারখানার মালিক পরিস্থিতির নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শ্রম, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দুই দফা চিঠি দিয়েছিলেন। ব্যবসায়ী সূত্র বলছে, এই কোম্পানি নারায়ণগঞ্জে আর কারখানা চালু করতে পারেনি। পরে ময়মনসিংহের ভালুকায় কারখানা স্থাপন করে। পরিকল্পিত শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি করে চাঁদাবাজির কারণে গত এক দশকে সাত-আটটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের বিরুদ্ধে এর আগে চাঁদাবাজীর অভিযোগ উঠেছিল। অটো রিকশা চালকেরা তাঁর বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ তুলেন। কিন্তু এবার পলাশের বিরুদ্ধে অস্ত্রবাজেরও কলঙ্কের তিলক এটে যাচ্ছে। কারণ সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তরের একটি সংবাদ বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে। ওই সংবাদের একটি অংশে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের নাম রয়েছে। ওই সংবাদে বলা হয়, গত ৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ‘পেশাদার অপরাধী’ সাইফুল ইসলাম টিটু, মতিন ওরফে মইত্যা ও হাজি আরমান হোসেনকে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, একটি রিভলবার, ২৮ রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পরে চারদিনের রিমান্ড শেষে ১৫ এপ্রিল আদালতের মাধ্যমে তাদের কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। আর্মস এনফোর্সমেন্ট দলের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কারাগারে যাওয়ার আগে জিজ্ঞাসাবাদে মতিন ওরফে মইত্যা জানান, কারাবন্দি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ জানে আলমের নির্দেশনায় কেরানীগঞ্জের শুভাড্যা ইউনিয়নের যুবদল সভাপতি আরমানের দুটি রিভলবার ভাড়া নিয়েছিলেন টিটু। টিটুর মাধ্যমে ওই অস্ত্র পেয়ে তারা বিভিন্ন অপারেশনে নামেন। আর্মস এনফোর্সমেন্ট দলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস খুঁজতে গিয়ে কেরানীগঞ্জের একটি ইউনিয়ন যুবদলের নেতা আরমানের তথ্য পাওয়া যায়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এপিএস ও শুভাড্যা ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, টিটু, মতিন ও আরমানের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক লীগের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কমিটির (পাগলা) সভাপতি কাওছার হোসেন পলাশের সখ্য রয়েছে। পেশাদার এই অপরাধীরা অস্ত্রের হাতবদলের জন্য তার কার্যালয় ব্যবহার করেছিল।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *