না’গঞ্জে রাজনীতির মাঠে নামতে  বিএনপির নেতাদের অনীহা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নির্বাচনী মাঠে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই ভরাডুবি হয়েছে বিএনপির প্রার্থীদের। নির্বাচনের আগে একের পর এক মামলায় অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যায়। আর বর্তমানে রাজপথে বিএনপির অস্তিত্ব  খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি শীর্ষ নেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। যে কারণে নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। তাই তার ওপর নেতাদের একাংশ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সঙ্গে সমঝোতা করে অবস্থান করায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ। এমনকি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে না থেকে অনেক নেতা মহাজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কাজ করেছেন। এতে করে ২০১৮ সালটি নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি চলেছিল চরম এলোমেলো ও বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্য দিয়ে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ‘অযোগ্য’ নেতৃত্বের কারণে দল এ অবস্থার মধ্যে পড়েছে। তার ওপর নির্বাচনের পূর্বে স জেলার সাতটি থানায় অগনিত মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামী করা হয়েছে দলের কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে। এদের কেউ কেউ কারাগারে, কেউ বাড়ি-ঘরছাড়া। দলীয় সূত্রে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল অনেক পুরোনো। তবে সর্বশেষ সংকটের সৃষ্টি হয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে দীলয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে। অনেকে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় নির্বাচনী মাঠে নামতে দেখা যায়নি। অনেক নেতা-কর্মীর মতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মধ্যে কোন্দল সৃষ্টির মূল কারিগর পল্টিবাজ গিয়াস ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার। গিয়াসের বিরুদ্ধে শুধু নেতা-কর্মীরাই নয় বরং পেশাদার গণমাধ্যম কর্মীরাও সোচ্চার। কারণ বিগত সময়ে গিয়াস উদ্দিন এমপি হয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের হামলা-মামলা দিয়ে তটস্থ রেখেছেন। শুধুমাত্র পেশাদার সাংবাদিকদের চরিত্র হরণের জন্য গিয়াস নিজেই স্থানীয় ভাবে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করে। নারায়ণগঞ্জের পেশাদার প্রবীণ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধাচারণ করাই ছিল সেই পত্রিকাটির আসল কাজ। যা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন ইস্যুতে জেলা ও মহানগর বিএনপি শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে নামেন। তবে সুিিবধাজনক অবস্থান তৈরী করতে না পেরে নির্বাচন থেকে সরে যান গিয়াস। অপরদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনীতিতে এখন লাপাত্ত। নানা অযুহাতে তিনি আত্মপোগনে রয়েছেন। সূত্র বলছে, নির্বাচন পরবর্তি মাস রাজনীতির মাঠে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। চলতি মাসেই মন্ত্রীসভা গঠিত হচ্ছে। কিন্তু আন্দোলনের মাঠে বিএনপিকে দেখা যাচ্ছে না।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *