কাউন্সিলর মতির পর এবার  ফারুকের বৈঠকে হামলা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে ধীরে ধীরে আইনশৃংখলার পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। ছোট ছোট ইস্যুতে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করছে এলাকাবাসী। গত ৩ জানুয়ারী নাসিক প্যানেল মেয়র ২ ও ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সির মতিউর রহমান মতির উপর হামলার ঘটনার ৩ দিন না পেরোতেই গতকাল রোববার সকালে সিআই খোলা এলাকায় ফের ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুকের সালিশি বৈঠকে হামলার ঘটনা ঘটে। বৈঠকে কাউন্সিলরের উপস্থিতিতেই ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয় কোব্বত আলীর নেতৃত্বে সোনা মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, আয়নাল হক, রুবেল, দিন ইসলাম, জামাল দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠিয়ে দেন। সেখানে আহত কোরবান আলীর পায়ে অস্ত্রোপাচার করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিআই খোলা এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করেছে। এলাকাবাসী আতংকে দিনাতিপাত করছে। এক সময় সাত খুনের আসামী নুর হোসেন পুরো সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় একক শাসন কায়েম করতো। সাত খুনের ঘটনার পর নুর হোসেনর গ্রেফতারের পর এ দৃশ্যপট প্লাটে যেতে থাকে। এরপর পুরো সিদ্ধিরগঞ্জের আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি কয়েক গ্রুপে ভাগ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো বার্মাস্ট্যান্ড ও এসও এরাকার চোরাইল তেল ব্যবসা, আদমজী ইপিজেড বিভিন্ন সেক্টরে প্রভাব ঘাটিয়ে একক বানিজ্য, ঝুট ব্যবসা, পরিবহন চাঁদাবাজি, নাসিকের নামে বিভিন্ন সেক্টর থেকে অবৈধ টাকা উত্তলন, জমি দখল বেদখলসহ শীতলক্ষ্যার পাড়ে ড্রেজার ও বালু ব্যবসা। নতুন সরকার ঘটনের পর দলের মধ্যেই শুরু হয়েছে ক্ষমতা ও আধিপত্য দখলের প্রতিযোগীতা। এ নিয়ে সরকার ঘটনের শুরুতেই যে যার ক্ষমতা প্রদর্শন করতে শুরু করছে। আর এ ক্ষমতা স্থায়ী করতে ছোট ছোট ইস্যুকে কেন্দ্র করে নেপথ্যে থেকে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা খর্ব করতেই তাদের উপর হামলাসহ তাদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকে হামলার  ঘটনা ঘটছে। জানা গেছে, নাসিক ১নং ওয়ার্ড সিআই খোলা এলাকায় জমির আলীর জমির অংশ পাবে বলে দাবি করছে কোব্বত আলী। এ নিয়ে কয়েক বার সামাজিক ভাবে বিচার হয়েছে। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। পরে বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর আলহাজ্ব ওমর ফারুক উভয় পক্ষকে নোটিশ করে রোববার সিআই খোলা এলাকায় মিমাংশার জন্য সালিশি বৈঠকে বসেন। এসময় উভয় পক্ষ কথা শুনছিলো কাউন্সিলর ফারুক। এর মধ্যে কোরবান আলীর নেতৃত্বে সোনা মিয়া, গিয়াস উদ্দিন,আয়নাল হক, রুবেল, দিন ইসলাম, জামাল দেশীয় দাড়ালো অস্ত্র দিয়ে ইব্রাহিমের পাজারোর মধ্যে আঘাত করে। পরে কাউন্সিলরসহ স্থানীয়রা বিচার না করে ইব্রাহিমকে হাসপাতালে পাঠায়। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এস আই শামীম ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন। এদিকে ইব্রাহিমের আঘাত গুরুত্বর হওয়ার পরে কোব্বত আলী নাটক সাজিয়ে তার লোক আহত হয়েছে বলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। পর দিকে হাসপাতালে আহত ইব্রাহিমেও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। এ বিষয়ে কাউন্সিলর ওমর ফারুকের সাথে যোগাগের চেষ্টা করলে তিনি বলেন আসলে এটা কোনো সালিশি বৈঠকে নয় আমি রিকশা করে ওই জায়গায় যাই। এরপর আমার সামনেই এ ঘটনা ঘটে। লোকজন আমাকে নিরাপত্তা দিয়ে দ্রুত ওই জায়গা থেকে চলে যেতে সাহায্য করে। না হয় আমিও ওই হামলার শিকার হতাম। কাউন্সিলর মতির উপর হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এ বিষয়ে দ্রুত আমরা পুলিশ সুপারের সাথে আলোচনায় বসবো। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহীন পারভেজ জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাউন্সিলর উভয়কে নৌটিশ করে সমাধানের চেষ্টা করছিলো। এসময় কাউন্সিলের সামনেই এ হামলা হয়েছে বলে অভিযোগে পেয়েছি। এ ঘটনায় দুটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *